ভোলার লালমোহন উপজেলায় রাস্তা পার হওয়ার সময় অটোরিকশার ধাক্কায় মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ নামে সাত বছর বয়সী এক শিশু নিহত হয়েছে। রবিবার (১৬ আগস্ট) সকালে উপজেলার পশ্চিম চরউমেদ ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে একটি দাখিল মাদ্রাসার সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ লালমোহন উপজেলার রমাগঞ্জ ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের হোসেন চৌমুহনী এলাকার বাসিন্দা মনির হোসেনের ছেলে। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সে পশ্চিম চরউমেদ ইউনিয়নে নানাবাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিল। সেখানে অবস্থানকালে সকালে মাদ্রাসার সামনের সড়কে দুর্ঘটনার শিকার হয় শিশুটি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রবিবার সকালে আব্দুল্লাহ সড়ক পার হওয়ার চেষ্টা করছিল। একপর্যায়ে সে দৌড়ে রাস্তা পার হতে গেলে দ্রুতগতিতে আসা একটি অটোরিকশার ধাক্কায় ছিটকে সড়কের ওপর পড়ে যায়। এতে তার মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে। দুর্ঘটনার পর আশপাশের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে শিশুটিকে উদ্ধার করেন এবং চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করেন।
পরে গুরুতর আহত অবস্থায় আব্দুল্লাহকে চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাকে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসকদের ঘোষণার পর স্বজনদের মধ্যে কান্নার সৃষ্টি হয়। অল্প বয়সী শিশুটির আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারের পাশাপাশি স্থানীয়দের মধ্যেও শোকের আবহ তৈরি হয়েছে।
শিশুটির বয়স মাত্র সাত বছর হওয়ায় রাস্তা পারাপারের সময় তার পক্ষে যানবাহনের গতি, দূরত্ব ও ঝুঁকি যথাযথভাবে বোঝা সম্ভব হয়েছিল কি না, তা নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা চলছে। বিশেষ করে যানবাহন চলাচলকারী সড়ক পার হওয়ার ক্ষেত্রে শিশুদের একা না ছাড়ার বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে।
শিশুদের জন্য রাস্তা পারাপার একটি বড় ঝুঁকির জায়গা। অনেক সময় তারা গাড়ির গতি ও চালকের আচরণ সম্পর্কে সঠিকভাবে অনুমান করতে পারে না। ফলে বিদ্যালয়, মাদ্রাসা কিংবা আবাসিক এলাকার সামনে সামান্য অসতর্কতাও গুরুতর দুর্ঘটনার কারণ হয়ে উঠতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে অভিভাবকদের পাশাপাশি চালকদেরও বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।
এদিকে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে লালমোহন থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। লালমোহন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. অলিউল ইসলাম জানান, খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা থাকা জরুরি। একই সঙ্গে চালকদের সতর্ক করা, ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে পথচারী পারাপারের ব্যবস্থা রাখা এবং শিশুদের সড়ক নিরাপত্তা সম্পর্কে সচেতন করাও গুরুত্বপূর্ণ। শুধু দুর্ঘটনার পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া নয়, দুর্ঘটনার আগেই সম্ভাব্য ঝুঁকিগুলো চিহ্নিত করে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া গেলে এমন মর্মান্তিক ঘটনা কমানো সম্ভব।
আব্দুল্লাহর মৃত্যুর মধ্য দিয়ে একটি পরিবারের আনন্দের বেড়ানো মুহূর্ত মুহূর্তেই পরিণত হয়েছে শোকে। ঘটনাটি আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে, শিশুদের চলাচলের ক্ষেত্রে পরিবার, চালক এবং স্থানীয় প্রশাসন—সবার সতর্কতাই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।









