নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নাটোর জেলা শাখার সাবেক সভাপতি রাকিবুল ইসলাম বাবার জানাজা ও দাফনে অংশ নিতে দুই ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি পেয়েছেন। শনিবার রাতে বাবার শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে পুলিশি পাহারায় তাঁকে আবার নাটোর জেলা কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।
নাটোর সদর থানা সূত্রে জানা গেছে, একটি রাজনৈতিক মামলায় গত ২২ জুন গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকে রাকিবুল ইসলাম কারাবন্দি রয়েছেন। তাঁর কারাবাসের মধ্যেই শনিবার দুপুরে বাবা আবুল কালাম আজাদ নাটোর শহরের হাজীপাড়া মহল্লায় নিজ বাড়িতে মারা যান। বাবার মৃত্যুর খবর কারাগারে থাকা রাকিবুলের কাছে পৌঁছানোর পর পরিবারের পক্ষ থেকে জানাজা ও দাফনে তাঁর অংশগ্রহণের সুযোগ চেয়ে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে আবেদন করা হয়।
পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নির্ধারিত সময়ের জন্য তাঁকে প্যারোলে মুক্তির অনুমতি দেওয়া হয়। এরপর শনিবার রাত ৮টার দিকে পুলিশি নিরাপত্তায় রাকিবুলকে নাটোর শহরের বড়গাছা এলাকার বুড়া দরগা মসজিদ মাঠে নেওয়া হয়। সেখানে তাঁর বাবা আবুল কালাম আজাদের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
বাবার জানাজার আগে মরদেহের কাছে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন রাকিবুল। স্বজনদের উপস্থিতিতে তিনি বাবার মরদেহ স্পর্শ করেন এবং কান্নায় ভেঙে পড়েন। দীর্ঘদিন কারাগারে থাকার পর পরিবারের কাছে ফেরার এই সুযোগটি তাঁর জন্য ছিল একান্তই শোকের মুহূর্ত। স্বাভাবিক পারিবারিক সাক্ষাতের বদলে বাবার শেষ বিদায়ে অংশ নেওয়ার জন্যই কয়েক ঘণ্টার জন্য তাঁকে কারাগারের বাইরে আসার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।
জানাজা শেষে বাবার দাফনেও অংশ নেন রাকিবুল। পরিবারের সদস্য ও নিকটাত্মীয়দের সঙ্গে অল্প সময় কাটানোর পর তাঁকে আবার পুলিশি পাহারায় কারাগারে ফেরানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়। নির্ধারিত সময় শেষ হলে নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্যেই তাঁকে নাটোর কারাগারের উদ্দেশে নিয়ে যাওয়া হয়।
নাটোর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনসুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বাবার দাফন শেষ হওয়ার পর রাত ১০টার দিকে পুলিশি পাহারায় রাকিবুল ইসলামকে নাটোর কারাগারে ফেরত নেওয়া হয়।
কারাবন্দি কোনো ব্যক্তির পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ সদস্যের মৃত্যু হলে শেষকৃত্য বা ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ও নিরাপত্তাব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত। এ ক্ষেত্রে রাকিবুলের পরিবারের আবেদনের পর অনুমতি পাওয়ার পর তাঁকে নির্ধারিত সময়ের জন্য কারাগারের বাইরে নেওয়া হয়। পুরো সময়টিতেই ছিল পুলিশি পাহারা।
বাবার মৃত্যুর মতো কঠিন সময়ে পরিবারের পাশে থাকার সুযোগ রাকিবুলের জন্য ছিল খুবই সীমিত। মাত্র দুই ঘণ্টার সেই প্যারোলের সময়ের মধ্যেই তাঁকে বাবার মরদেহ শেষবারের মতো দেখা, জানাজায় অংশ নেওয়া এবং দাফনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে হয়েছে। এরপর স্বজনদের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে তাঁকে আবার কারাগারে ফিরতে হয়েছে।
ফলে রাকিবুলের জন্য বাবার শেষ বিদায়ের এই দিনটি একই সঙ্গে শোক, পারিবারিক বিচ্ছেদ এবং কারাবন্দি জীবনের কঠিন বাস্তবতার এক আবেগঘন অভিজ্ঞতা হয়ে রইল।









