খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১ই এপ্রিল ২০২৬, ১২:২৮ এএম

চট্টগ্রাম নগরের বন্দর থানায় ২০০৫ সালের এক চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আদালত মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) নয়জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেছে। চট্টগ্রাম মহানগর ষষ্ঠ অতিরিক্ত দায়রা জজ মুহাম্মদ আলী আক্কাস রায় ঘোষণার সময় উল্লেখ করেন, আসামিদের উপর ২০,০০০ টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে আরও ছয় মাসের অতিরিক্ত কারাদণ্ড কার্যকর হবে।
Table of Contents
যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত নয়জন আসামি হলেন:
আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০০৫ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর রাতে বন্দর থানার হালিশহর ছোটপুল এলাকার সমবায় সিঙ্গাপুর মার্কেটের পাশে নূর আলম ওরফে বাবলুকে অপহরণ করা হয়। নিহত ব্যক্তি পুলিশের সোর্স (তথ্যদাতা) হিসেবে পরিচিত ছিলেন। অপহরণের মাত্র একদিন পর তার মা আয়শা আক্তার লাকী বন্দর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
পুলিশের তদন্তে জানা যায়, অপহরণের পর অভিযুক্তরা নৃশংসভাবে বাবলুকে হত্যা করে মরদেহ ফেলে দেয়। এই হত্যাকাণ্ডের কারণে স্থানীয় জনগণের মধ্যে দীর্ঘদিনের উৎকণ্ঠা ও শোকের ছায়া নেমে আসে।
পুলিশ ২০০৬ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর ১৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। দীর্ঘ সময় ধরে চলা তদন্ত ও সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত ৯ আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করে।
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| মামলা দায়ের স্থান | বন্দর থানা, চট্টগ্রাম |
| নিহত | নূর আলম ওরফে বাবলু |
| মামলার দায়েরকারী | আয়শা আক্তার লাকী (মৃতকের মা) |
| রায় ঘোষণার তারিখ | ৩১ মার্চ ২০২৬ |
| রায়দাতা | চট্টগ্রাম মহানগর ষষ্ঠ অতিরিক্ত দায়রা জজ মুহাম্মদ আলী আক্কাস |
| আসামির সংখ্যা | ৯ জন |
| সাজা | যাবজ্জীবন কারাদণ্ড + ২০,০০০ টাকা জরিমানা + অনাদায়ে ৬ মাসের অতিরিক্ত কারাদণ্ড |
আদালতের অফিস সহকারী মারুফ হোসেন জানিয়েছেন, “সাক্ষ্য প্রমাণে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় দায়ী ব্যক্তিদের সর্বোচ্চ সাজা প্রদান করা হলো। এটি একটি ন্যায়ের প্রতীক এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের নৃশংস অপরাধ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে।”
স্থানীয় মানুষ ও পুলিশ দীর্ঘদিন ধরে এই ঘটনার কারণে উত্তেজনার মধ্যে ছিলেন। তবে আজকের রায় মৃত্যুর বিচার কার্যকর করার পাশাপাশি সমাজে আইনের শাসনের প্রতি জনসাধারণের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছে।
মামলার রায়ে দেখা যায়, আইনি প্রক্রিয়ার দীর্ঘমেয়াদি সুষ্ঠু প্রয়াস এবং সংযমী তদন্ত কিভাবে ন্যায়ের চূড়ান্ত প্রতিফলন ঘটাতে পারে। বিশেষত, পুলিশের সোর্স হত্যার মতো সংবেদনশীল ও ঝুঁকিপূর্ণ মামলায় আদালতের কঠোর রায় ভবিষ্যতে অপরাধপ্রবণ এলাকায় সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে।
মন্তব্য