দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং শিল্প ও বিদ্যুৎ উৎপাদন নির্বিঘ্ন রাখতে চট্টগ্রাম বন্দরে জ্বালানি তেল ও এলপিজি খালাস কার্যক্রম গতিশীলভাবে চলছে। চলতি মার্চ মাসের শুরু থেকে ২২ মার্চ পর্যন্ত ২৫টি জ্বালানিবাহী ভেসেল সফলভাবে খালাস সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে বন্দরে একটি জাহাজের খালাস প্রক্রিয়া চলছে, আর বহির্নোঙরে অপেক্ষমান রয়েছে একটি গুরুত্বপূর্ণ জাহাজ। এছাড়া সমুদ্রপথে বাংলাদেশের দিকে অগ্রসর হচ্ছে আরও দুটি বিশাল জ্বালানিবাহী ভেসেল।
খালাস কার্যক্রমের বিশদ বিবরণ
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের ট্রাফিক ও মেরিন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ১ থেকে ২২ মার্চ পর্যন্ত খালাস সম্পন্ন ভেসেলগুলোতে ডিজেল, ফার্নেস অয়েল, জেট ফুয়েল এবং অকটেন ছিল। এসব জ্বালানি দেশের অভ্যন্তরীণ পরিবহন, কলকারখানা, বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং কৃষি সেচ কার্যক্রম সচল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
শিপিং সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এই সময়ে জ্বালানি আমদানিতে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়ায় বন্দরে কোনো স্থবিরতা দেখা দেয়নি। ফলে খালাস প্রক্রিয়া দ্রুত এবং নিরবচ্ছিন্নভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ ভেসেল ও তাদের অবস্থা
| জাহাজের নাম | উত্স দেশ | জ্বালানির ধরন | অবস্থান | প্রভাব |
|---|---|---|---|---|
| LPG SEVAN | ওমান | তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (LPG) | Currently Working | গৃহস্থালি গ্যাস চাহিদা পূরণ |
| AB OLIVIA | থাইল্যান্ড | বেস অয়েল (Base Oil) | Bravo Point (বহির্নোঙর) | লুব্রিকেন্ট চাহিদা পূরণ |
| BWEK BORNHOLM | অজ্ঞাত | জ্বালানি তেল | পথে | বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্প চাহিদা |
| MORNING JANE | অজ্ঞাত | জ্বালানি তেল | পথে | কৃষি সেচ ও শিল্পে সরবরাহ |
বর্তমানে LPG SEVAN জাহাজ খালাস অবস্থায় রয়েছে। এটি দেশের গৃহস্থালি ব্যবহারের গ্যাস চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। অন্যদিকে AB OLIVIA, যা থাইল্যান্ড থেকে বেস অয়েল নিয়ে এসেছে, বর্তমানে ব্রাভো পয়েন্টে অবস্থান করছে। পাশাপাশি BWEK BORNHOLM এবং MORNING JANE ২৫ মার্চ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানোর প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মন্তব্য
জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা মন্তব্য করেছেন, এক মাসের কম সময়ে ২৫টি ভেসেলের সফল খালাস দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার বড় অর্জন। এতে কোনো কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি হওয়ার সুযোগ নেই। বিশেষ করে AB OLIVIA-এর বেস অয়েল দেশের লুব্রিকেন্ট চাহিদা পূরণ করে উৎপাদনশীল খাত সচল রাখবে।
চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম বলেন,
“একটি জাহাজ সময়মতো খালাস হওয়া মানে দেশের কয়েক কোটি টাকার সাশ্রয় এবং বাজারের স্থিতিশীলতা। মার্চে ২৫টি ভেসেলের সফল খালাস আমাদের লজিস্টিক সক্ষমতার প্রমাণ। এ ধরনের ধারাবাহিক আমদানি দেশের অর্থনৈতিক চাকাকে সচল রাখতে সহায়তা করবে।”
চলমান ও আসন্ন খালাস কার্যক্রম বজায় থাকলে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্প ও কৃষিখাতের জন্য জ্বালানি সংকট হওয়ার আশঙ্কা নেই। ধারাবাহিক আমদানি দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও বাজার নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
