জিলাইভ বাংলা | সত্যের জয় অবধারিত

৩২৮ টন সার উধাও, দিনাজপুরে গুদামরক্ষক আটক

দিনাজপুরে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের (বিএডিসি) সরকারি সার গুদাম থেকে প্রায় ৩২৮ মেট্রিক টন সার উধাও হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় গুদামরক্ষক মো. আক্তারুল ইসলামকে (৪০) আটক করেছে পুলিশ। ঘাটতি পাওয়া সারের আনুমানিক মূল্য ৬৭ লাখ ৮৫ হাজার ৪৫০ টাকা বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

সোমবার (২৪ আগস্ট) রাতে দিনাজপুর সদর উপজেলার নশিপুর এলাকায় অবস্থিত বিএডিসির সরকারি সার গুদাম থেকে আক্তারুল ইসলামকে আটক করা হয়। তিনি দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার আরাজি গ্রামের মো. আফছার আলীর ছেলে।

ঘটনার সূত্রপাত সরকারি গুদাম থেকে অনুমোদন ছাড়াই বিপুল পরিমাণ সার বিক্রির অভিযোগকে কেন্দ্র করে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নশিপুরের বিএডিসি গুদাম থেকে নিয়মবহির্ভূতভাবে সার সরবরাহের খবর প্রশাসনের কাছে পৌঁছায়। পরে বিষয়টি যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সেখানে অভিযান চালান।

অভিযানে দিনাজপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, বিএডিসি দিনাজপুর অঞ্চলের যুগ্ম পরিচালক (সার) মো. জাহাঙ্গীর আলম, বিএডিসির অন্যান্য কর্মকর্তা এবং কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ নূরনবীর নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল অংশ নেয়।

বিএডিসি দিনাজপুরের সহকারী পরিচালক (সার) মো. খুরশীদ আলমের করা এজাহার অনুযায়ী, সোমবার নশিপুরের সার গুদাম পরিদর্শনের সময় মজুত সারের পরিমাণ যাচাই এবং সরকারি হিসাবের সঙ্গে তা মিলিয়ে দেখা হয়। এ সময় বিপুল পরিমাণ সারের ঘাটতি ধরা পড়ে।

ঘাটতি পাওয়া সারের মধ্যে রয়েছে ডাই-অ্যামোনিয়াম ফসফেট বা ডিএপি ২২৭ দশমিক ৪৫ মেট্রিক টন। এর পরিমাণ ৪ হাজার ৫৪৯ বস্তা। অন্যদিকে মিউরিয়েট অব পটাশ বা এমওপি সারের ঘাটতি পাওয়া যায় ১০০ দশমিক ৪৫ মেট্রিক টন, যা ২ হাজার ৯ বস্তার সমান। সব মিলিয়ে ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩২৭ দশমিক ৯০ মেট্রিক টন, অর্থাৎ প্রায় ৩২৮ মেট্রিক টন।

এজাহারে বলা হয়েছে, এত বিপুল পরিমাণ সার ঘাটতির বিষয়ে গুদামরক্ষক আক্তারুল ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। কিন্তু তিনি ঘাটতি থাকা সারের বিপরীতে বৈধ কাগজপত্র, চালান, বিতরণ রেজিস্টার কিংবা গ্রহণযোগ্য কোনো হিসাব দেখাতে পারেননি।

একপর্যায়ে তিনি ঘাটতি থাকা সারের একটি অংশ বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই দুই সার ডিলারের কাছে দেওয়া হয়েছে বলে স্বীকার করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে তাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।

বিএডিসির সরকারি গুদামে সার মজুত ও বিতরণের ক্ষেত্রে হিসাব সংরক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ কৃষকদের জন্য নির্ধারিত সার সাধারণত অনুমোদিত ব্যবস্থার মাধ্যমে সরবরাহ করা হয়। ফলে মজুতের সঙ্গে সরকারি নথির হিসাব না মেলার ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি ও ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

তবে সারগুলো কীভাবে গুদাম থেকে বের হয়েছে, কখন সেগুলো সরানো হয়েছে এবং এর সঙ্গে আর কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না—এসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হবে।

দিনাজপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ নূরনবী বলেন, এ ঘটনায় একজনকে আটক করা হয়েছে। এ বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

বিএডিসি কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, নশিপুর এলাকায় কাঞ্চন ও স্টিল নামে সংস্থাটির দুটি সার গুদাম রয়েছে। গুদাম দুটির মোট ধারণক্ষমতা প্রায় ১৮ হাজার মেট্রিক টন। সেখানে মিউরিয়েট অব পটাশ, ডাই-অ্যামোনিয়াম ফসফেট এবং ট্রিপল সুপার ফসফেটসহ বিভিন্ন ধরনের সার মজুত রাখা হয়।

এ ঘটনায় গুদামের মজুত ও বিতরণসংক্রান্ত নথি যাচাই, সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং সার সরবরাহের হিসাব পর্যালোচনা তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সার উধাও হওয়ার ঘটনায় কারও দায় চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব নয়।

Tags :

বাংলা ডেস্ক । GLive24.com

সর্বশেষ খবর