জিলাইভ বাংলা | সত্যের জয় অবধারিত

জগজিৎ সিংয়ের প্রশংসায় ‘আওয়ারাপন ২’-এর গায়ক অখিল

‘আওয়ারাপন ২’-এর গায়ক ও সুরকার অখিল সচদেবা কিংবদন্তি গজলশিল্পী জগজিৎ সিংয়ের মঞ্চ পরিবেশনার অসাধারণ দক্ষতার প্রশংসা করেছেন। তাঁর মতে, সরাসরি মঞ্চে শ্রোতাদের আবেগ, মনোযোগ ও প্রতিক্রিয়াকে নিজের পরিবেশনার সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়ার যে বিরল ক্ষমতা জগজিৎ সিংয়ের ছিল, তা সত্যিই অনন্য।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের সংগীতজীবন, মঞ্চে গান পরিবেশনের অভিজ্ঞতা এবং শিল্পী ও শ্রোতার মধ্যকার সম্পর্ক নিয়ে কথা বলেন অখিল। নিজের মঞ্চ অভিজ্ঞতার প্রসঙ্গেই তিনি জগজিৎ সিংয়ের পরিবেশনার কথা তুলে ধরেন। অখিলের মতে, জগজিৎ সিং শুধু গান পরিবেশন করতেন না, তাঁর কণ্ঠ, অঙ্গভঙ্গি ও উপস্থিতির মাধ্যমে পুরো মঞ্চের আবহকে নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসতে পারতেন।

জগজিৎ সিংয়ের মঞ্চে শ্রোতাদের সঙ্গে যোগাযোগের ধরনকে বিশেষভাবে তুলে ধরেন অখিল। তিনি বলেন, জগজিৎ সিং হাত মুঠো করলে দর্শকদের মধ্যে নীরবতা নেমে আসত, আবার হাত খুললে মুহূর্তের মধ্যেই চারপাশ করতালিতে মুখর হয়ে উঠত। অখিলের কাছে এই দৃশ্য একজন শিল্পীর সঙ্গে শ্রোতাদের গভীর সংযোগের অসাধারণ উদাহরণ। তাঁর মতে, দর্শকদের এমনভাবে নিজের পরিবেশনার অংশ করে নেওয়া খুব কম শিল্পীর পক্ষেই সম্ভব।

অখিলের বক্তব্যে উঠে আসে মঞ্চ পরিবেশনার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিকও। রেকর্ড করা গানের ক্ষেত্রে শিল্পী ও শ্রোতার মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ থাকে না। কিন্তু মঞ্চে প্রতিটি মুহূর্তে দর্শকদের প্রতিক্রিয়া শিল্পীর পরিবেশনাকে প্রভাবিত করে। সেখানে কণ্ঠের পাশাপাশি উপস্থিতি, অভিব্যক্তি এবং শ্রোতাদের অনুভূতি বোঝার ক্ষমতাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। জগজিৎ সিং এই জায়গায় অসাধারণ ছিলেন বলেই মনে করেন অখিল।

নিজেও দীর্ঘদিন ধরে মঞ্চে গান পরিবেশন করছেন অখিল। চলচ্চিত্রের জন্য গান গাওয়ার পাশাপাশি সরাসরি শ্রোতাদের সামনে গান পরিবেশনকে তিনি তাঁর সংগীতজীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখেন। তাঁর মতে, সংগীতের কোনও নির্দিষ্ট ভাষা নেই। একজন শিল্পী যখন আন্তরিকতা ও অনুভূতি নিয়ে গান পরিবেশন করেন, তখন সেই সংগীত ভাষার সীমা অতিক্রম করে শ্রোতার আবেগকে স্পর্শ করতে পারে।

নিজের সংগীতযাত্রা নিয়েও কথা বলেন অখিল। তাঁর দাবি, প্রায় ১৫ বছর ধরে তিনি সংগীতের সঙ্গে যুক্ত। এই দীর্ঘ সময়ে মঞ্চে সরাসরি গান পরিবেশনের অভিজ্ঞতা তাঁর শিল্পীসত্তাকে আরও সমৃদ্ধ করেছে। তাঁর কাছে একজন শিল্পীর সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি শুধু জনপ্রিয়তা বা পরিচিতি নয়; নিজের গান যদি অন্য শিল্পী কিংবা নতুন প্রজন্মের কাউকে অনুপ্রাণিত করে এবং শ্রোতাদের মনে আবেগ তৈরি করতে পারে, সেটিই বড় অর্জন।

বর্তমানে ‘আওয়ারাপন ২’-এর সংগীতের কারণে আলোচনায় রয়েছেন অখিল। ছবিটির ‘পিয়া ঘর আয়া—হোমকামিং’ গানটির সঙ্গে তিনি যুক্ত। ২০০৭ সালে মুক্তি পাওয়া ‘আওয়ারাপন’-এর পরবর্তী কিস্তি হিসেবে নির্মিত হয়েছে ‘আওয়ারাপন ২’। ছবিতে আবারও ইমরান হাশমিকে শিবম পণ্ডিত চরিত্রে দেখা গেছে।

প্রথম ‘আওয়ারাপন’ মুক্তির সময় বড় ধরনের বাণিজ্যিক সাফল্য না পেলেও পরবর্তী সময়ে ছবিটির গান ও অভিনয় দর্শকদের মধ্যে আলাদা জনপ্রিয়তা অর্জন করে। বিশেষ করে ছবিটির সংগীত অ্যালবাম শ্রোতাদের কাছে দীর্ঘ সময় ধরে সমাদৃত হয়েছে। ছবির আবেগঘন গল্পের পাশাপাশি এর গানও ‘আওয়ারাপন’-কে দর্শকদের স্মৃতিতে ধরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সেই জনপ্রিয়তার ধারাবাহিকতায় নতুন কিস্তির সংগীত নিয়েও সংগীতপ্রেমীদের আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

অখিলের জগজিৎ সিংকে নিয়ে করা মন্তব্য তাই শুধু একজন কিংবদন্তি শিল্পীর প্রশংসা নয়, মঞ্চ সংগীতের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিকও সামনে আনে। একজন শিল্পীর কণ্ঠ যতই শক্তিশালী হোক, সরাসরি পরিবেশনার সময় শ্রোতাদের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করতে না পারলে সেই অভিজ্ঞতা পূর্ণতা পায় না। জগজিৎ সিংয়ের ক্ষেত্রে গান, কণ্ঠ, উপস্থিতি এবং শ্রোতাদের প্রতিক্রিয়া যেন একই সুতোয় বাঁধা থাকত।

গজল সংগীতকে বৃহত্তর শ্রোতামহলে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে জগজিৎ সিংয়ের অবদান ভারতীয় সংগীতের ইতিহাসে বিশেষভাবে স্মরণীয়। তাঁর পরিবেশনার ধরন পরবর্তী প্রজন্মের বহু শিল্পীর কাছেই অনুপ্রেরণার বিষয় হয়ে রয়েছে। অখিল সচদেবার সাম্প্রতিক প্রশংসাও সেই দীর্ঘস্থায়ী প্রভাবেরই প্রতিফলন।

Tags :

বাংলা ডেস্ক । GLive24.com

সর্বশেষ খবর