হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার কাজীগঞ্জ বাজার-মার্কুলী সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে। প্রায় ১৭ কিলোমিটার দীর্ঘ গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি সংস্কারে এক বছর আগে ৩৬ লাখ টাকা ব্যয় করা হলেও সেই সংস্কার তিন মাসও টেকেনি। ভাঙা ইট বা সুরকি ফেলে সড়কের গর্তগুলো ভরাট করেই সংস্কারের কাজ শেষ করা হয়েছিল বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। অল্প সময়ের মধ্যেই সড়কটি আবার আগের অবস্থায় ফিরে যায়।
বর্তমানে সড়কের প্রায় পুরো অংশজুড়েই ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত তৈরি হয়েছে। বর্ষার বৃষ্টিতে এসব গর্ত পানিতে ডুবে যাওয়ায় কোনটি কতটা গভীর, তা বোঝার উপায় থাকে না। ফলে পথচারী ও যানবাহন চালকদের প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে সড়কটি এখন যেন প্রতিদিনের দুর্ভোগের আরেক নাম।
কাজীগঞ্জ বাজার-মার্কুলী সড়কটি নবীগঞ্জ উপজেলার ভাটি অঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগের অন্যতম প্রধান পথ। পূর্ব বড় ভাকৈ ও পশ্চিম বড় ভাকৈ ইউনিয়নের ৩০ হাজারের বেশি মানুষ বিভিন্ন প্রয়োজনে এই সড়কের ওপর নির্ভরশীল। প্রতিদিন সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ইজিবাইক, ট্রাক, পিকআপ, মোটরসাইকেল ও অ্যাম্বুলেন্সসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচল করে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, সামান্য বৃষ্টি হলেই সড়কের গর্তগুলোতে পানি জমে ছোট ছোট জলাশয়ের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়। কোথাও কোথাও পানি এতটাই জমে যে যানবাহন চলাচল কঠিন হয়ে পড়ে। এতে যাত্রীদের পাশাপাশি পণ্য পরিবহনও ব্যাহত হয়। অনেক সময় অতিরিক্ত ভাড়া দিয়েও যানবাহন পাওয়া যায় না বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে গুরুতর অসুস্থ রোগীদের। জরুরি প্রয়োজনে উপজেলা কিংবা জেলা সদর হাসপাতালে রোগী নেওয়ার সময় সড়কের বেহাল দশার কারণে দীর্ঘ সময় লেগে যায়। এতে রোগীর স্বজনদের উদ্বেগ আরও বেড়ে যায়। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির এমন অবস্থা চললেও স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ দেখা যায়নি।
পূর্ব বড় ভাকৈ ও পশ্চিম বড় ভাকৈ ইউনিয়নের বাসিন্দারা জানান, সড়কের বিভিন্ন অংশে প্রতিদিনই যানবাহন বিকল হচ্ছে। কোথাও গর্ত এড়াতে গিয়ে আবার কোথাও পানিতে ঢাকা গর্তে পড়ে দুর্ঘটনা ঘটছে। বিশেষ করে মোটরসাইকেল ও ছোট যানবাহনের চালকদের ঝুঁকি বেশি।
কাজীগঞ্জ বাজার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আকতার হোসেন চুবা সড়কটির বর্তমান অবস্থা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁর ভাষায়, সড়কের বিভিন্ন স্থানে তৈরি হওয়া বড় বড় গর্ত দেখে মনে হয় যেন মাছ চাষের জন্য জায়গাগুলো খনন করা হয়েছে। তিনি বলেন, এক বছর আগে ইট দিয়ে সড়কটি মেরামত করা হলেও তিন মাসের মধ্যেই তা আবার নষ্ট হয়ে যায়।
উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান শেফুও দ্রুত সড়কটি সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, বর্ষাকালে সড়কের গর্তগুলো পানিতে ভরে নদীর মতো হয়ে যায়। তখন মানুষ ও যানবাহনের দুর্ভোগ সবচেয়ে বেশি বাড়ে। সড়কের খারাপ অবস্থার কারণে এলাকার সামাজিক ও পারিবারিক জীবনেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে তিনি দাবি করেন। এমনকি যোগাযোগব্যবস্থার দুরবস্থার কারণে এ এলাকার ছেলে-মেয়েদের বিয়ের সম্পর্কও ভেঙে যাচ্ছে বলে তাঁর অভিযোগ।
স্থানীয়দের দাবি, অস্থায়ীভাবে ইট বা সুরকি ফেলে গর্ত ভরাট করে সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। বর্ষায় পানির চাপ ও যানবাহনের নিয়মিত চলাচলের কারণে এ ধরনের মেরামত দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। তাই সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলো যথাযথভাবে সংস্কার করে টেকসই যোগাযোগব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
এ বিষয়ে নবীগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী মীর সাব্বির আহমেদ জানান, জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কটি দ্রুত মেরামতের জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। এখন স্থানীয় বাসিন্দাদের অপেক্ষা, সেই প্রস্তাবের ভিত্তিতে কবে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয় এবং দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ থেকে কবে তাঁরা মুক্তি পান।









