সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটায় সড়ক পার হওয়ার সময় দ্রুতগামী একটি যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় আনন্দ দাস (৫৮) নামের এক প্রবীণ পথচারী প্রাণ হারিয়েছেন। মঙ্গলবার ভোরে শাকদা ব্রিজসংলগ্ন মহাসড়কে এই দুর্ঘটনা ঘটে। আকস্মিক এই দুর্ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত আনন্দ দাস প্রতিদিনের মতো আজও প্রাতর্ভ্রমণে বের হয়েছিলেন। সকাল আনুমানিক ছয়টা কুড়ির দিকে তিনি পাটকেলঘাটা থানার অন্তর্গত শাকদা ব্রিজসংলগ্ন মহাসড়ক পার হচ্ছিলেন। ঠিক সেই মুহূর্তে ঢাকা থেকে সাতক্ষীরার দিকে ছেড়ে আসা ‘সোহাগ পরিবহণ’ নামের একটি যাত্রীবাহী বাস অত্যন্ত দ্রুতগতিতে এসে তাকে সজোরে ধাক্কা দেয়। বাসের প্রচণ্ড ধাক্কায় রাস্তা ছিটকে পড়ে ঘটনাস্থলেই তার করুণ মৃত্যু হয়।
স্থানীয়রা জানান, দুর্ঘটনার পর ঘাতক বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়কের পাশে খাদে বা রাস্তার পাশে পড়ে যায়। এ সময় বাসের ভেতরে থাকা যাত্রীদের মধ্যেও অনেকে সামান্য আঘাত পান। আকস্মিক এই দুর্ঘটনায় যাত্রীদের মাঝেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় আহত যাত্রীরা দ্রুত প্রাথমিক চিকিৎসা নেন। ঘটনার আকস্মিকতার সুযোগ নিয়ে বাসের চালক ও তার সহকারী (হেলপার) দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।
খবর পেয়ে পাটকেলঘাটা থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। পুলিশ নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে। বর্তমানে মরদেহটি তার নিজ বাড়িতে রাখা হয়েছে।
এ বিষয়ে পাটকেলঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, দুর্ঘটনাকবলিত সোহাগ পরিবহণের বাসটি বর্তমানে পুলিশের নিয়ন্ত্রণে মহাসড়কের পাশেই রয়েছে। নিহতের স্বজনরা মরদেহের বিষয়টি দেখভাল করছেন এবং তার শেষকৃত্যের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। পাশপাশি দুর্ঘটনার এখতিয়ার অনুযায়ী খর্নিয়া হাইওয়ে থানাকেও বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে। ঘাতক বাসের চালক ও হেলপারকে আইনের আওতায় আনতে পুলিশের জোরদার অভিযান চলছে। এই মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন মহাসড়কে বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানোর প্রবণতা যেভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, তা সাধারণ পথচারী ও যাত্রীদের জন্য এক আতঙ্কের নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে। পাটকেলঘাটার এই দুর্ঘটনাটি আবারও স্মরণ করিয়ে দিল সড়ক নিরাপত্তা কতখানি জরুরি। মহাসড়ক পারাপারে সাধারণ মানুষের সতর্কতা এবং চালকদের অতিরিক্ত দায়িত্বশীলতাই কেবল এমন অকাল মৃত্যুর মিছিল রোধ করতে পারে। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, মহাসড়কের ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে গতিরোধক কিংবা পর্যাপ্ত ট্রাফিক সিগন্যাল না থাকার কারণেই এমন দুর্ঘটনা বারবার ঘটছে।









