সচিবালয়ে প্রথম কর্মদিবসে ব্যস্ত সময় কাটাবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন করে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকার আজ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের প্রশাসনিক যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছে। গতকাল মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শপথ গ্রহণের পরদিন অর্থাৎ আজ বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) তিনি সচিবালয়ে তাঁর নির্ধারিত দপ্তরে প্রথম কার্যদিবসে অফিস করবেন।

প্রথম দিনের সূচি ও রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম কর্মদিবসের কর্মসূচি শুরু হবে অত্যন্ত ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, আজ সকাল ১০টায় তিনি সাভারে অবস্থিত জাতীয় স্মৃতিসৌধে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি রাজধানী ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবেন এবং দুপুর সাড়ে ১২টা নাগাদ বাংলাদেশ সচিবালয়ে পৌঁছাবেন। সেখানে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে অবস্থিত প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন এবং কর্মকর্তাদের সাথে পরিচিত হবেন।

সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের প্রাণকেন্দ্রে ব্যাপক নিরাপত্তা ও প্রস্তুতিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর ও মন্ত্রিপরিষদ কক্ষটি বিশেষভাবে সজ্জিত করা হয়েছে।


প্রধানমন্ত্রীর প্রথম দিনের বিস্তারিত সময়সূচি

নিচে আজকের দিনের গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিসমূহ একটি টেবিলের মাধ্যমে তুলে ধরা হলো:

সময়কর্মসূচিস্থান
সকাল ১০:০০জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদনসাভার, ঢাকা
দুপুর ১২:৩০সচিবালয়ে প্রথম অফিস ও পরিচিতি সভাপ্রধানমন্ত্রীর দপ্তর, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ
দুপুর ০২:০০মধ্যাহ্নভোজ ও বিশ্রামসচিবালয় ভবন
বিকেল ০৩:০০নবগঠিত মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈঠকমন্ত্রিপরিষদ কক্ষ
বিকেল ০৪:০০বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিবদের সঙ্গে মতবিনিময়সচিবালয় কনফারেন্স রুম

নতুন মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক ও দিকনির্দেশনা

আজকের দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো বিকেল ৩টায় অনুষ্ঠিতব্য নতুন মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈঠক। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের সভাপতিত্বে এটিই হবে এই সরকারের প্রথম ক্যাবিনেট মিটিং। ২৫ জন পূর্ণমন্ত্রী এবং ২৪ জন প্রতিমন্ত্রীর সমন্বয়ে গঠিত এই বিশাল মন্ত্রিসভার সদস্যদের জন্য এটি হবে একটি দিকনির্দেশনামূলক অধিবেশন। যদিও এই বৈঠকের জন্য কোনো নির্দিষ্ট এজেন্ডা রাখা হয়নি, তবে ধারণা করা হচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী তাঁর সহকর্মীদের জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সাথে কাজ করার নির্দেশ দেবেন।

এরপর বিকেল ৪টায় তিনি সরকারের আমলাতন্ত্রের শীর্ষ কর্মকর্তাদের অর্থাৎ সচিবদের সাথে মতবিনিময় করবেন। দীর্ঘ সময় পর একটি গণতান্ত্রিক সরকার ক্ষমতায় আসায় প্রশাসনের গতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং জনসেবা নিশ্চিত করতে সচিবদের ভূমিকা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভিশন তুলে ধরবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক গুরুত্ব

৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান এবং পরবর্তী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সফল সমাপ্তির পর এটিই প্রথম নির্বাচিত সরকারের যাত্রা। তারেক রহমানের এই প্রথম দিনের কর্মতৎপরতার ওপর দৃষ্টি রাখছে সারা দেশের মানুষ ও আন্তর্জাতিক মহল। বিশেষ করে অর্থনৈতিক সংস্কার এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নতুন প্রধানমন্ত্রী কী ধরনের প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেন, তা আজকের দিন থেকেই স্পষ্ট হতে শুরু করবে।