,

জিরার ট্রাক আটকে চাঁদা দাবি, ছাত্রদল নেতা আটক

হবিগঞ্জের বাহুবলে সরকারিভাবে নিলামে কেনা ভারতীয় জিরাবোঝাই একটি ট্রাক আটকে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে ছাত্রদলের এক নেতাসহ দুজনকে আটক করেছে পুলিশ। অভিযানের সময় জিরাসহ ট্রাকটি উদ্ধার করা হয়। পরে পৃথক অভিযান চালিয়ে আরও কিছু জিরার বস্তাও উদ্ধার করেছে পুলিশ।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) ভোরে উপজেলার তিতারকোনা এলাকায় অভিযান চালিয়ে হেলাল মহালদার ও ইব্রাহিম মিয়াকে আটক করা হয়। হেলাল মহালদার হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক। তিনি বাহুবল উপজেলার পশ্চিম জয়পুর গ্রামের হাজি খোর্শেদ মিয়ার ছেলে। অপর আটক ব্যক্তি ইব্রাহিম মিয়া একই উপজেলার মামদনগর গ্রামের বাসিন্দা।

পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সরকারিভাবে নিলামে কেনা ১৭১ বস্তা জিরা একটি ট্রাকে করে সিলেটে নেওয়া হচ্ছিল। পথে ট্রাকটি বাহুবল উপজেলার তিতারকোনা এলাকায় পৌঁছালে সেটি আটকে একটি পেট্রোল পাম্পের পেছনে নিয়ে রাখা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ওই পেট্রোল পাম্পটি হেলাল মহালদারের বাবার মালিকানাধীন।

অভিযোগ অনুযায়ী, ট্রাকটি আটকে রাখার পর জিরার মালিক মো. ওবায়দুল্লাহকে ফোন করেন হেলাল মহালদার ও তাঁর সহযোগীরা। এ সময় ট্রাক ও পণ্য ছেড়ে দেওয়ার বিনিময়ে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

ঘটনার বিষয়টি জানার পর জিরার মালিকপক্ষ বাহুবল মডেল থানায় অভিযোগ করে। অভিযোগের ভিত্তিতে বাহুবল মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রুহুল আমিন তালুকদারের নির্দেশে পুলিশ অভিযান শুরু করে। পরে তিতারকোনা এলাকায় অভিযান চালিয়ে হেলাল মহালদার ও ইব্রাহিম মিয়াকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

পুলিশের দাবি, আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সকাল ৯টার দিকে ভুগলী এলাকায় অভিযান চালানো হয়। সেখানে জিরাসহ ট্রাকটি উদ্ধার করা হয়। এরপর দ্বিতীয় দফায় মিরপুর তিতারকোনা এলাকায় অভিযান চালানো হলে আরও কিছু জিরার বস্তা উদ্ধার করা হয়।

সরকারি নিলামে কেনা পণ্য পরিবহনের সময় ট্রাক আটকে রাখার ঘটনা ঘিরে পুলিশ এখন পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। বিশেষ করে জিরার চালান কোথা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল, কীভাবে ট্রাকটি আটকে রাখা হয় এবং পণ্য সরানোর ঘটনায় আর কেউ যুক্ত ছিলেন কি না—এসব বিষয় তদন্তের আওতায় রয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনায় আরও কেউ জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেলে তাঁদেরও আইনের আওতায় আনা হবে। আটক দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের পাশাপাশি উদ্ধার হওয়া জিরার বস্তা ও ট্রাকের বিষয়েও প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলছে।

বাহুবল মডেল থানার ওসি মো. রুহুল আমিন তালুকদার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

তবে চাঁদা দাবির অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা তদন্তে পাওয়া তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতেই নেওয়া হবে।

Tags :

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

জিলাইভ২৪ বিশ্বব্যাপী বাংলাভাষীদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য অনলাইন নিউজ পোর্টাল; যা রাজনীতি, খেলাধুলা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক সংবাদের সর্বশেষ আপডেট প্রকাশ করে।

© ২০২৬ GLive24। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।