হোয়াটসঅ্যাপ কিংবা মোবাইল ফোনে কোনো গোপন বা অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয় নিয়ে কথা না বলার পরামর্শ দিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক ধর্মবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের সতর্ক করে তিনি বলেছেন, ফোনে এমন কোনো তথ্য বা কথা বলা উচিত নয়, যা পরে অন্যের হাতে চলে যেতে পারে।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় জনার কেঁওচিয়া ইসলামী সমাজ কল্যাণ পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত এ প্লাস প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে অধ্যাপক ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেন, ‘হোয়াটসঅ্যাপ কিংবা মোবাইলে কোনো গোপন কথা বলবে না।’ তিনি কেন এমন সতর্কবার্তা দিচ্ছেন, তার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে একটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনের তথ্যও তুলে ধরেন।
খালিদ হোসেন বলেন, ‘১১শ টাকা দিলে তিন মাসের কথোপথন হোয়াটসঅ্যাপে লিখিত আকারে আসবে। এবং ১৫শ টাকা দিলে ছয় মাসের।’
তবে তিনি যে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনের কথা উল্লেখ করেছেন, তার নাম বা প্রতিবেদনের বিস্তারিত তথ্য বক্তব্যে তুলে ধরেননি। ফলে ওই প্রতিবেদনে কথোপকথন সংগ্রহের দাবি কীভাবে করা হয়েছে বা এর প্রযুক্তিগত ভিত্তি কী ছিল, সে বিষয়ে তাঁর বক্তব্যে বিস্তারিত ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
এরপর মোবাইল ফোনে গুরুতর কোনো গোপন তথ্য প্রকাশ না করার বিষয়ে শিক্ষার্থীদের আরও সতর্ক করেন সাবেক এই ধর্মবিষয়ক উপদেষ্টা। তিনি বলেন, ‘তুমি যদি মারাত্মক গোপন কথা বলে ফেলো মোবাইলে, খবরদার, আল্লাহর কাছে তো রেকর্ড হচ্ছেই, বান্দার কাছেও রেকর্ড হচ্ছে।’
তাঁর বক্তব্যে ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গির পাশাপাশি মোবাইল যোগাযোগের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত সতর্কতার বিষয়টিও উঠে আসে। বর্তমানে মোবাইল ফোন ও বিভিন্ন মেসেজিং অ্যাপের মাধ্যমে ব্যক্তিগত কথাবার্তা থেকে শুরু করে গুরুত্বপূর্ণ নথি, ছবি ও নানা ধরনের তথ্য আদান-প্রদান করা হয়। ফলে কোনো সংবেদনশীল বিষয় ডিজিটাল মাধ্যমে শেয়ার করার আগে সতর্ক থাকা প্রয়োজন—এমন বার্তাই তিনি শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরেন।
হোয়াটসঅ্যাপসহ বিভিন্ন মেসেজিং প্ল্যাটফর্মে ব্যবহারকারীরা নিয়মিত ব্যক্তিগত যোগাযোগ করেন। এসব প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের ক্ষেত্রে অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তা, ফোনের নিয়ন্ত্রণ, পাসওয়ার্ড বা পিন সুরক্ষা এবং ব্যক্তিগত তথ্য কার সঙ্গে শেয়ার করা হচ্ছে—এসব বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ। তবে অনুষ্ঠানে খালিদ হোসেন এসব প্রযুক্তিগত দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেননি; বরং গোপন কথা মোবাইলে না বলার বিষয়ে সাধারণ সতর্কতা দিয়েছেন।
সাতকানিয়ার ওই অনুষ্ঠানটির মূল আয়োজন ছিল এ প্লাস পাওয়া শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেওয়া। শিক্ষার্থীদের সাফল্য উদ্যাপনের এই আয়োজনে বক্তব্য দিতে গিয়ে খালিদ হোসেন তাদের পড়াশোনার পাশাপাশি ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে সচেতন থাকার পরামর্শ দেন। তাঁর বক্তব্যের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ ছিল মোবাইল ফোনে গোপনীয় তথ্য প্রকাশ না করার বিষয়ে সতর্কতা।
মোবাইল ফোন এখন মানুষের দৈনন্দিন যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। তাই ব্যক্তিগত তথ্য বা স্পর্শকাতর বিষয়ে কথা বলার সময় প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের বিষয়টি ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। সেই প্রেক্ষাপটেই শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে ফোনে গোপন কথা না বলার আহ্বান জানান সাবেক ধর্মবিষয়ক উপদেষ্টা।








