মেঘনা লাইফ ইন্স্যুরেন্স পিএলসির শেয়ারহোল্ডাররা ২০২৫ অর্থবছরের জন্য ১৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ অনুমোদন করেছেন। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) অনুষ্ঠিত কোম্পানিটির ৩০তম বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) সর্বসম্মতিক্রমে এই লভ্যাংশ অনুমোদিত হয়।
সকাল ১১টায় ভার্চুয়াল মাধ্যমে এজিএম অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন মেঘনা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন আহমেদ। কোম্পানির ভাইস চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন আহমেদ (পাভেল), পরিচালক রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ, জান্নাতুল ফেরদৌস, মো. জাহিদ আনোয়ার খান, মো. মইন উদ্দিন, দিলরুবা শারমিন ও সাবিতা ফেরদৌসসহ অন্যান্য পরিচালক সভায় অংশ নেন।
এ ছাড়া ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ তারেক, এফসিএ এবং কোম্পানির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও এজিএমে উপস্থিত ছিলেন। অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও কোম্পানি সচিব এনামুল হক খান, এসিএস, সভাটি পরিচালনা করেন।
২০২৫ সালে প্রিমিয়াম আয় ২৮২ কোটি টাকা
কোম্পানির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে মেঘনা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের মোট প্রিমিয়াম আয় হয়েছে ২৮২ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। একই সময়ে কোম্পানিটির মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৭৬৫ কোটি ৬৬ লাখ টাকা।
বছরটিতে বিমা দাবি পরিশোধের পরিমাণ ছিল ২৮৬ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। অন্যদিকে, শেয়ারপ্রতি আয় বা ইপিএস হয়েছে ১ টাকা ৭২ পয়সা। এসব আর্থিক সূচক কোম্পানির সামগ্রিক কার্যক্রম ও শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ঘোষিত লভ্যাংশের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে।
প্রযুক্তিনির্ভর সেবায় গুরুত্ব
এজিএমে বক্তব্য দেওয়ার সময় চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন আহমেদ বলেন, গ্রাহকবান্ধব সেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন উদ্যোগ অব্যাহত রাখবে মেঘনা লাইফ। বিমা খাতে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গ্রাহকের কাছে দ্রুত ও সহজে সেবা পৌঁছে দেওয়ার বিষয়টিকে কোম্পানি গুরুত্ব দিচ্ছে বলে তিনি জানান।
তিনি কোম্পানির ব্যবসায়িক লক্ষ্য অর্জনে পরিচালনা পর্ষদ, ব্যবস্থাপনা, কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিমা পেশাজীবী, পলিসিহোল্ডার এবং শেয়ারহোল্ডারদের সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন।
সভা শেষে তিনি বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জসহ সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থা, পরিচালনা পর্ষদ, ব্যবস্থাপনা ও কর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে পলিসিহোল্ডার ও শেয়ারহোল্ডারদের ধারাবাহিক সমর্থনের জন্যও ধন্যবাদ জানান।
২০২৬ সালের ব্যবসায়িক লক্ষ্য বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। তাঁর বক্তব্যে কোম্পানির দীর্ঘমেয়াদি সাফল্য ও টেকসই প্রবৃদ্ধি ধরে রাখার বিষয়টিও গুরুত্ব পায়।
২০২৫ সালের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন ও বার্ষিক প্রতিবেদনেও কোম্পানিটির ওই বছরের আর্থিক কার্যক্রমের বিস্তারিত তথ্য রয়েছে। বোর্ডের সিদ্ধান্তের পর ২০২৫ সালের লভ্যাংশের সুপারিশ এবং এজিএমের সময়সূচি আগে থেকেই জানানো হয়েছিল। এজিএমে শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদনের মধ্য দিয়ে ১৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে।









