নীলফামারীতে সংখ্যালঘু হামলার অভিযোগ বাড়ছে

নীলফামারী-১ (ডোমার-ডিমলা) আসনে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বাড়িঘরে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। স্থানীয়রা দাবি করছেন, ভোট-সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে এই তাণ্ডব চালিয়েছে স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীরা। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দ্রুত ভাইরাল হয়েছে।

ভিডিওতে দেখা যায়, বিএনপির প্রার্থী মাওলানা মনজুরুল ইসলাম আফেন্দীর ছোট ভাইয়ের একটি প্রাইভেট গাড়ি রাস্তার পাশে বিকল হয়ে দাঁড়িয়ে ছিল। গাড়ি মেরামতের সময় মোটরসাইকেলবাহী জামায়াত কর্মীরা সেখানে এসে হঠাৎ আক্রমণাত্মক পরিস্থিতি সৃষ্টি করে। স্থানীয় সংখ্যালঘুদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা ব্যর্থ হলে হামলাকারীরা তাদের ওপর চড়াও হন এবং কয়েকটি বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেন।

একজন স্থানীয় বয়স্ক ব্যক্তি বলেন, “আফেন্দীর ছোট ভাই ভোট চাইতে আসেননি, তারপরও আমাদের সঙ্গে এমন আচরণ কেন করা হলো? আমাদের ঘরে আগুন দিয়েছে। ভোটে জিতলে জামায়াত আরও কি করবে?” আরেক স্থানীয় যোগ করেন, “সংখ্যালঘুরা কাকে ভোট দেবে তা তাদের নিজের সিদ্ধান্ত। কিন্তু জামায়াত আমাদের ভোটের স্বাধীনতা কেড়ে নিতে চাচ্ছে।”

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ডিমলা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. রওশন কবির পুলিশ ও বিজিবি নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং উভয়পক্ষকে শান্ত থাকার নির্দেশ দেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হামলায় অন্তত ৭টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং কয়েকজন স্থানীয় আহত হয়েছেন। স্থানীয় নেতারা প্রশাসনের আরও সহায়তা কামনা করেছেন।

নিচের টেবিলে হামলার সংক্ষিপ্ত পরিস্থিতি তুলে ধরা হলো:

স্থানক্ষতিগ্রস্ত বাড়িআহত ব্যক্তিহামলার কারণ (প্রাথমিক অভিযোগ)
ডোমার, নীলফামারী-১ভোট বিরোধ, সংখ্যালঘুদের ভয়ভীতি প্রদর্শন
ডিমলা, নীলফামারী-১ভোট সমর্থন নিয়ে সংঘর্ষ

স্থানীয়রা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যে, এই হামলা শুধু প্রতিশোধমূলক নয়, বরং সংখ্যালঘুদের ভোটাধিকার হরণের উদ্দেশ্যেও চালানো হয়েছে। তারা প্রশাসন এবং সমাজের সব স্তরের সহায়তা কামনা করছেন।

রাজনৈতিক মহল ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোও এই ঘটনায় উদ্বিগ্ন। তারা নাগরিকদের ভোটাধিকার সুরক্ষার জন্য প্রশাসনের তৎপরতা বৃদ্ধি ও নির্বাচনী সহিংসতা রোধের আহ্বান জানিয়েছেন। নিরাপত্তা বজায় রাখা এবং শান্তিপূর্ণ ভোট পরিবেশ নিশ্চিত করা এখন অতি জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে।