খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ই জুন ২০২৬, ১০:৫৮ পিএম

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় নেত্রী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা নিজের দলের স্থানীয় নেতাকর্মীদের একাংশের বিরুদ্ধে এক বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, মাঠপর্যায়ের কিছু নেতাকর্মী বর্তমানে লিপ্ত রয়েছেন ‘মামলার ব্যবসায়’। আজ শুক্রবার বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার ঘাগড়াজুড়ি গ্রামে একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক নির্মাণকাজের অগ্রগতি পরিদর্শন করতে গিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এই মন্তব্য করেন।
পরিদর্শন শেষে উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীরা সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন করলে রুমিন ফারহানা বেশ কড়া ভাষায় তাঁর ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বর্তমানে এক অভিনব ও নেতিবাচক রাজনৈতিক সংস্কৃতির চর্চা দেখা যাচ্ছে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। তাঁর ভাষায়, ‘বিএনপি এখন শ্যোন অ্যারেস্টের কালচার শুরু করেছে। দেখা যাচ্ছে একটা মামলা হয়েছে এবং সেই মামলায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি জামিনও নিয়েছেন। কিন্তু জামিন পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তাঁর নামে আরেকটি নতুন মামলা ঠুকে দেওয়া হচ্ছে।’ তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে, এলাকায় এলাকায় বিএনপির কিছু স্থানীয় নেতাকর্মী এই মামলার ব্যবসাকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করছেন। এই অনৈতিক চর্চার বিরুদ্ধে তিনি তাঁর অবস্থান পরিষ্কার করে জানান, বিষয়টি তিনি ইতিমধ্যে জাতীয় সংসদেও তুলেছেন এবং সরকারের উচ্চপর্যায়েও এটি নিয়ে কথা বলবেন।
বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্দেশে সরাসরি বার্তা দেন। দেশের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘আমাদের অত্যন্ত জ্ঞানী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকেও বলবো—বিষয়টি আপনি গুরুত্ব দিয়ে দেখবেন। একটি কথা আমাদের সবার মনে রাখা দরকার—নাথিং গোজ আননোটিসড অ্যান্ড আনপানিশড (কোনো কিছুই নজর এড়ায় না এবং কোনো অপরাধই শেষ পর্যন্ত শাস্তি ছাড়া পার পায় না)। আজ ক্ষমতার চেয়ারে বসে আপনি বা আপনারা যা করছেন, তার জন্য একদিন অবশ্যই সবাইকে জবাবদিহিতার কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে।’
দলের ভেতরের কোন্দল ও অনিয়মের পাশাপাশি দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন এই সংসদ সদস্য। তাঁর মতে, দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এতটাই নাজুক রূপ নিয়েছে যা নিকট অতীতে কখনো দেখা যায়নি। রাজনৈতিক অস্থিরতা ও মাঠপর্যায়ের বিশৃঙ্খলার কারণে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে। তিনি সরকারকে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, দেশের অর্থনীতি এবং আইনশৃঙ্খলা—এই দুটি অত্যন্ত সংবেদনশীল খাতে যদি দ্রুত কোনো দৃশ্যমান ও ইতিবাচক অগ্রগতি না হয়, তবে বর্তমান সরকারের পরিণতি সত্যিকার অর্থেই অত্যন্ত দুঃখজনক ও ভয়াবহ হবে। গণমানুষের ক্ষোভের মুখে পড়ার আগেই সরকারকে এই বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
মন্তব্য