খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি উপজেলায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে একটি বড় ওষুধের গুদামসহ পাঁচটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পুড়ে গেছে। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) ভোরে উপজেলার ময়ূরখীল এলাকার ধর্মঘর বাজারে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের প্রাথমিক হিসাবে, আগুনে প্রায় ৭০ লাখ টাকার মালামাল ও সম্পদের ক্ষতি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে ধর্মঘর বাজারে হঠাৎ আগুনের সূত্রপাত হয়। ওই সময় বাজারের অধিকাংশ দোকান বন্ধ ছিল। আগুনের শিখা দেখতে পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী তারা আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত দোকানগুলো থেকে মালামাল সরিয়ে নেওয়ারও চেষ্টা করা হয়। কিন্তু আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
একপর্যায়ে আগুন পাশের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোতেও ছড়িয়ে পড়ে। এতে একটি ওষুধের গুদাম, সার ও কীটনাশকের দোকান, মুদি দোকান, চায়ের দোকান এবং আসবাবপত্রের দোকান সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। আগুনের তীব্রতা এত বেশি ছিল যে ব্যবসায়ীরা অধিকাংশ মালামাল বের করে নিরাপদ স্থানে নেওয়ার সুযোগ পাননি।
স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে লক্ষ্মীছড়ি ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের একটি দল ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা দেয়। সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা সেখানে পৌঁছান। এরপর তারা আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেন। দীর্ঘ সময়ের চেষ্টার পর আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন তারা। তবে ততক্ষণে বাজারের পাঁচটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের বড় অংশ পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
অগ্নিকাণ্ডে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন ওষুধ ব্যবসায়ী আতুসে মারমা। তিনি জানান, ভোরের দিকে হঠাৎ আগুন লাগায় গুদামে থাকা কোনো মালামাল নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ পাননি। তার গুদামে প্রায় ৩০ লাখ টাকার জীবনরক্ষাকারী ও অন্যান্য ওষুধ মজুত ছিল। আগুনে গুদামের সব ওষুধ পুড়ে গেছে।
অন্য ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মালামালও আগুনে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সার ও কীটনাশক, মুদি পণ্য, চায়ের দোকানের সামগ্রী এবং আসবাবপত্র পুড়ে যাওয়ায় ব্যবসায়ীদের বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়তে হয়েছে। সব মিলিয়ে প্রাথমিকভাবে প্রায় ৭০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতির হিসাব পাওয়া গেছে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত দোকানগুলোর মালামাল ও সম্পদের পূর্ণাঙ্গ হিসাব করা হলে ক্ষতির পরিমাণ আরও নির্দিষ্টভাবে জানা যাবে।
আগুন লাগার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক ধারণা, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। তবে শর্টসার্কিটই আগুনের চূড়ান্ত কারণ কি না, তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।
ভোরের এই অগ্নিকাণ্ডে একসঙ্গে কয়েকটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পুড়ে যাওয়ায় স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে ক্ষতির মাত্রা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ওষুধের গুদামে থাকা বিপুল পরিমাণ পণ্য সম্পূর্ণ নষ্ট হওয়ায় সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীর আর্থিক ক্ষতি উল্লেখযোগ্য। আগুনে দোকান ও পণ্য হারিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা এখন পুনরায় ব্যবসা শুরু করা নিয়ে কঠিন আর্থিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন।
ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের দীর্ঘ প্রচেষ্টায় শেষ পর্যন্ত আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও এরই মধ্যে বাজারের পাঁচটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের বড় ধরনের ক্ষতি হয়ে গেছে। অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ পরিমাণ নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।









