বাংলা গানের জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী রুমানা মোর্শেদ কনক চাঁপার আজ ৫৬তম জন্মদিন। তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে সংগীতাঙ্গনে সক্রিয় এই শিল্পী তাঁর স্বতন্ত্র কণ্ঠ ও গায়কীর মাধ্যমে শ্রোতাদের মধ্যে তৈরি করেছেন আলাদা পরিচিতি। বিশেষ করে চলচ্চিত্রের গানে তাঁর দীর্ঘ ও সমৃদ্ধ ক্যারিয়ার তাঁকে বাংলাদেশের জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পীদের তালিকায় স্থায়ী জায়গা দিয়েছে।
১৯৬৯ সালে ঢাকার শান্তিবাগে জন্মগ্রহণ করেন কনক চাঁপা। তাঁর পৈতৃক বাড়ি সিরাজগঞ্জের কাজীপুরে হলেও বেড়ে ওঠা ঢাকাতেই। আজিজুল হক মোর্শেদের পাঁচ সন্তানের মধ্যে তিনি তৃতীয়। ছোটবেলা থেকেই সংগীতের প্রতি আগ্রহ ছিল তাঁর। সেই আগ্রহকে পেশাগত দক্ষতায় রূপ দিতে তিনি সংগীতের প্রাতিষ্ঠানিক ও গুরুমুখী শিক্ষায় যুক্ত হন।
কনক চাঁপা কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী বশীর আহমেদের কাছে সংগীতে তালিম নেন। পাশাপাশি শাস্ত্রীয় সংগীত ও নজরুলসংগীতসহ বিভিন্ন ধারার গানে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। নানা ধরনের সংগীতের সঙ্গে এই পরিচয় পরবর্তীতে তাঁর গায়কীর বৈচিত্র্য বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। নিজের কণ্ঠের স্বাতন্ত্র্য বজায় রেখে বিভিন্ন ধরনের গান পরিবেশন করাই তাঁর দীর্ঘ ক্যারিয়ারের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
চলচ্চিত্রের গানেই কনক চাঁপার সবচেয়ে বড় পরিচিতি তৈরি হয়। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি তিন হাজারেরও বেশি চলচ্চিত্রের গানে কণ্ঠ দিয়েছেন। বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের বিভিন্ন সময়ের জনপ্রিয় গান তাঁর কণ্ঠে শ্রোতাদের কাছে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে তিনি প্রকাশ করেছেন ৩৫টি একক অ্যালবাম। চলচ্চিত্রের প্লেব্যাকের পাশাপাশি একক শিল্পী হিসেবেও তাঁর কাজের পরিধি ছিল বিস্তৃত।
কনক চাঁপার জনপ্রিয় গানগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘অনেক সাধনার পরে আমি পেলাম তোমার মন’, ‘তোমাকে চাই শুধু তোমাকে চাই’, ‘ভালো আছি ভালো থেকো’, ‘তোমায় দেখলে মনে হয়’ এবং ‘অনন্ত প্রেম তুমি দাও আমাকে’। এসব গানের মাধ্যমে প্রেম, আবেগ ও সম্পর্কের নানা অনুভূতি শ্রোতাদের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন তিনি। তাঁর কণ্ঠে গাওয়া গানগুলোর অনেকগুলোই দীর্ঘ সময় ধরে শ্রোতাদের কাছে পরিচিত ও জনপ্রিয় হয়ে আছে।
সংগীতের পাশাপাশি লেখালেখিতেও রয়েছে কনক চাঁপার পরিচিতি। তাঁর প্রকাশিত বইয়ের মধ্যে রয়েছে ‘স্থবির যাযাবর’ (২০১০), ‘মুখোমুখি যোদ্ধা’ (২০১২) এবং ‘মেঘের ডানায় চড়ে’ (২০১৬)। গান ও বই—দুই ক্ষেত্রেই তাঁর সৃজনশীলতার প্রকাশ ঘটেছে। শিল্পীজীবনের অভিজ্ঞতা ও ভাবনার আরেকটি দিক লেখালেখির মাধ্যমে পাঠকদের সামনে এসেছে।
দীর্ঘ সংগীতজীবনে কনক চাঁপা অর্জন করেছেন তিনটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। চলচ্চিত্রের গানে তাঁর অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে পাওয়া এসব পুরস্কার তাঁর ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ অর্জনগুলোর মধ্যে অন্যতম। এর বাইরে তিনি বাচসাস অ্যাওয়ার্ডসহ বিভিন্ন সম্মাননাও পেয়েছেন।
শুধু সংগীত ও লেখালেখিতে নয়, রাজনীতিতেও সক্রিয় ছিলেন কনক চাঁপা। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বিএনপির প্রার্থী হিসেবে সিরাজগঞ্জ-১ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এর মধ্য দিয়ে তাঁর কর্মজীবনের পরিসর সংগীতাঙ্গনের বাইরেও বিস্তৃত হয়।
আজকের জন্মদিনে কনক চাঁপাকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন তাঁর অসংখ্য ভক্ত, শুভাকাঙ্ক্ষী ও সংগীতপ্রেমীরা। দীর্ঘদিনের ক্যারিয়ারে তাঁর গাওয়া অসংখ্য চলচ্চিত্রের গান ও একক অ্যালবামের গান শ্রোতাদের কাছে আলাদা জায়গা করে নিয়েছে। জন্মদিনের এই দিনে তাই নতুন করে স্মরণ করা হচ্ছে বাংলা গানে তাঁর দীর্ঘ পথচলা ও অবদানের কথা।
তিন দশকের বেশি সময়ের সংগীতজীবনে হাজার হাজার চলচ্চিত্রের গান, একক অ্যালবাম, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার এবং বিভিন্ন সম্মাননা কনক চাঁপার ক্যারিয়ারকে সমৃদ্ধ করেছে। তাঁর কণ্ঠে গাওয়া গান বাংলা সংগীতের জনপ্রিয় ধারার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ হয়ে রয়েছে। ৫৬তম জন্মদিনে সেই দীর্ঘ শিল্পীজীবনের পথচলাই ভক্ত ও শ্রোতাদের শুভেচ্ছার কেন্দ্রবিন্দু।









