ফরিদপুরের ভাঙ্গায় ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের ভাঙ্গা ইন্টারচেঞ্জ এলাকায় বাসের চাপায় মোটরসাইকেলের চালকসহ দুই তরুণ নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন কাওছার আহমেদ সরদার রাতুল (১৭) ও মো. রাজু আহমেদ (২০)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত কাওছার আহমেদ সরদার রাতুল ভাঙ্গা উপজেলার তুজারপুর ইউনিয়নের জান্দি গ্রামের শাহাদাত সর্দারের ছেলে। আর রাজু আহমেদ একই উপজেলার ফুকুরহাটি গ্রামের খোকন মাতুব্বরের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য, বৃহস্পতিবার সকালে ফরিদপুর থেকে ঢাকার দিকে যাচ্ছিল গোল্ডেন লাইন পরিবহনের একটি বাস। একই সময়ে ওই সড়কের একই লেনে মোটরসাইকেলে করে যাচ্ছিলেন কাওছার ও রাজু। ভাঙ্গা ইন্টারচেঞ্জ এলাকায় পৌঁছালে বাসটি মোটরসাইকেলটিকে চাপা দিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
বাসের চাপায় মোটরসাইকেলটি সড়কের ওপর ছিটকে পড়ে এবং দুমড়েমুচড়ে যায়। এতে মোটরসাইকেলে থাকা দুই তরুণ গুরুতর আহত হন। দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসেন। খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরাও ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করেন।
প্রথমে আহত দুজনকে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাঁদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থাতেও তাঁদের অবস্থার উন্নতি হয়নি। পরে চিকিৎসকের পরামর্শে দ্রুত ঢাকায় নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
তবে ঢাকায় নেওয়ার পথেই কাওছার ও রাজু মারা যান।
ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক আজাদুর রহমান দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, দুর্ঘটনাকবলিত মোটরসাইকেল ও নিহত দুই তরুণের মরদেহ থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার পর বাসটি ঘটনাস্থল থেকে চলে গেছে। বাসটি শনাক্ত ও চালককে আইনের আওতায় আনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে দেশের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার একটি অংশ। এই মহাসড়কে দ্রুতগতির যানবাহনের পাশাপাশি মোটরসাইকেল ও অন্যান্য ছোট যান চলাচল করে। ফলে লেন মেনে চলা, নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা এবং দ্রুতগতির যানবাহন নিয়ন্ত্রণে রাখা সড়ক নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ভাঙ্গার এই দুর্ঘটনা আবারও মহাসড়কে মোটরসাইকেল আরোহীদের নিরাপত্তা এবং যানবাহন চলাচলে সতর্কতার প্রয়োজনীয়তা সামনে এনেছে।









