জিলাইভ বাংলা | সত্যের জয় অবধারিত

পরিত্যক্ত ঘরে হাতবোমা বিস্ফোরণ, মাদারীপুরে আতঙ্ক

মাদারীপুর সদর উপজেলার একটি দীর্ঘদিনের পরিত্যক্ত টিনশেড ঘরে হাতবোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বুধবার (২৬ আগস্ট) সন্ধ্যায় ঘটমাঝি ইউনিয়নের দক্ষিণ ঝিকরহাটি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণের শব্দে আশপাশের লোকজন ঘরটির দিকে ছুটে যান। পরে সেখানে ধোঁয়া দেখতে পান তারা। বিস্ফোরণের তীব্রতায় ঘরটির টিনের চাল ও বেড়ার একটি বড় অংশ ভেঙে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সন্ধ্যার দিকে হঠাৎ বিকট শব্দে পুরো এলাকায় চাঞ্চল্য তৈরি হয়। প্রথমে অনেকেই বুঝতে পারেননি শব্দটি কোথা থেকে এসেছে। কিছুক্ষণ পর স্থানীয়রা দেখতে পান, দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা পরিত্যক্ত ঘরটি থেকে ধোঁয়া বের হচ্ছে। কাছে গিয়ে তারা ঘরের চাল ও বেড়ার বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় দেখতে পান। খবর ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের মানুষ ঘটনাস্থলের কাছে জড়ো হতে থাকেন।

ঘরটির মালিক আমিনুল ইসলাম খান প্রায় সাত বছর ধরে পরিবার নিয়ে খুলনায় বসবাস করছেন। তার অনুপস্থিতিতে বাড়িটি দীর্ঘদিন ধরে কার্যত পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে ছিল। নিয়মিত বসবাস না থাকায় ঘরটির ভেতরে কে বা কারা হাতবোমাটি রেখেছিল, সেটিই এখন তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। বিস্ফোরকটি সেখানে কতদিন ধরে ছিল, তা-ও এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পরিত্যক্ত ঘরে কীভাবে বিস্ফোরক এল, এর সঙ্গে কারও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না এবং বিস্ফোরণের পেছনে কোনো উদ্দেশ্য ছিল কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিস্ফোরণের কারণ বা উদ্দেশ্য সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।

খবর পেয়ে মাদারীপুর সদর মডেল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিস্ফোরণের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করেছে। প্রাথমিকভাবে বিস্ফোরণটি হাতবোমার কারণে হয়েছে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনাস্থলের আশপাশে কোনো সন্দেহজনক বস্তু বা অতিরিক্ত ঝুঁকি রয়েছে কি না, সে বিষয়েও সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে।

মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) ফারিহা রফিক ভাবনা জানান, প্রাথমিকভাবে হাতবোমা বিস্ফোরণের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। বিস্ফোরণে পরিত্যক্ত ঘরটি বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে কোনো ব্যক্তি আহত বা নিহত হননি। ঘটনার পর ওই এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর টহল বাড়ানো হয়েছে।

এ ধরনের ঘটনায় বিস্ফোরণের পর ঘটনাস্থলে ভিড় না করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। কারণ, একটি বিস্ফোরণ ঘটলেও আশপাশে অন্য কোনো ঝুঁকিপূর্ণ বস্তু পড়ে থাকতে পারে কি না, তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত সেখানে প্রবেশ ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। দক্ষিণ ঝিকরহাটির বাসিন্দাদের মধ্যেও এখন সেই সতর্কতা দেখা গেছে।

স্থানীয়দের অনেকে জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত থাকার কারণে ঘরটি নিয়মিত নজরদারির বাইরে ছিল। ফলে সেখানে কারও যাতায়াত বা কোনো বস্তু রাখা হয়েছিল কি না, তা সহজে বোঝার সুযোগ ছিল না। বিস্ফোরণের পর বিষয়টি নিয়ে এলাকায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

পুলিশের তদন্তে হাতবোমাটি কোথা থেকে এসেছে এবং কারা এটি ওই ঘরে রেখেছিল, সে বিষয়ে তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে। একই সঙ্গে কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে ঘটনাটির যোগসূত্র রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এরই মধ্যে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি বাড়ানো হয়েছে।

বিস্ফোরণে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি না হলেও জনবসতিপূর্ণ এলাকায় এমন ঘটনা স্থানীয়দের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে দীর্ঘদিনের পরিত্যক্ত স্থাপনা নিরাপত্তার বাইরে থাকলে সেখানে অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু ঘটার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে। তাই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করার পাশাপাশি পরিত্যক্ত ঘরটির নিরাপত্তা পরিস্থিতিও গুরুত্ব দিয়ে দেখছে সংশ্লিষ্টরা।

Tags :

বাংলা ডেস্ক । GLive24.com

সর্বশেষ খবর