দেশে হামের প্রাদুর্ভাবের পরিস্থিতি এখনও উদ্বেগজনক। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ৯৫৬ জনের শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত হামবিষয়ক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে মারা যাওয়া পাঁচজনের মধ্যে তিনজন ঢাকা বিভাগের এবং দুজন সিলেট বিভাগের। তবে এই সময়ে নিশ্চিত হামে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।
গত ১৫ মার্চ থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত হিসাব অনুযায়ী, হামের উপসর্গ নিয়ে দেশে মৃত্যু হয়েছে ৮৫৬ জনের। একই সময়ে পরীক্ষায় নিশ্চিত হামজনিত মৃত্যু হয়েছে ৯৯ জনের। দুই ধরনের মৃত্যুর হিসাব মিলিয়ে মোট প্রাণহানি দাঁড়িয়েছে ৯৫৫ জনে।
প্রাদুর্ভাব শুরুর পর আক্রান্ত ও হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টার ৯৫৬ জনসহ ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ পাওয়া রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৫৩ হাজার ৬৯২ জনে। একই সময়ে নতুন করে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে ৭৫ জনের শরীরে। ফলে এ পর্যন্ত নিশ্চিত হাম আক্রান্তের মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৮ হাজার ৭২৬ জন।
হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যাও এক লাখের বেশি। ১৫ মার্চ থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মোট ১ লাখ ৩৪ হাজার ৪৩৭ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ১ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৯ জন।
সর্বশেষ পরিসংখ্যান
| বিষয় | ১৫ মার্চ থেকে মোট | সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় |
|---|---|---|
| হামের উপসর্গে মৃত্যু | ৮৫৬ জন | ৫ জন |
| নিশ্চিত হামে মৃত্যু | ৯৯ জন | ০ জন |
| মোট মৃত্যু | ৯৫৫ জন | ৫ জন |
| হামের উপসর্গ পাওয়া | ১,৫৩,৬৯২ জন | ৯৫৬ জন |
| নিশ্চিত হাম শনাক্ত | ১৮,৭২৬ জন | ৭৫ জন |
| হামের উপসর্গে হাসপাতালে ভর্তি | ১,৩৪,৪৩৭ জন | — |
| সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছাড়া | ১,২৯,৪৮৯ জন | — |
| ঢাকা বিভাগে সর্বশেষ মৃত্যু | — | ৩ জন |
| সিলেট বিভাগে সর্বশেষ মৃত্যু | — | ২ জন |
| নিশ্চিত হামে সর্বশেষ মৃত্যু | — | ০ জন |
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত প্রতিবেদনে আক্রান্ত বা মৃতদের বয়সভিত্তিক বিস্তারিত বিভাজন দেওয়া হয়নি। তবে হাম শিশুদের মধ্যে বেশি দেখা গেলেও যেকোনো বয়সের মানুষ এতে আক্রান্ত হতে পারেন। বিশেষ করে প্রাদুর্ভাবের সময়ে জ্বর, সর্দি, কাশি, চোখ লাল হওয়া এবং শরীরে ফুসকুড়ির মতো লক্ষণ দেখা দিলে বিষয়টি অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা এবং পরীক্ষায় নিশ্চিত হামে মৃত্যুর সংখ্যা আলাদাভাবে প্রকাশ করা হচ্ছে। এর ফলে প্রাদুর্ভাবের সামগ্রিক চিত্রে দুই ধরনের তথ্যই গুরুত্বপূর্ণ। উপসর্গ থাকা অবস্থায় মৃত্যুর ঘটনা ঘটলেও সব ক্ষেত্রে পরীক্ষার মাধ্যমে হাম নিশ্চিত করা সম্ভব নাও হতে পারে। তাই স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে উপসর্গভিত্তিক মৃত্যুর হিসাবও আলাদাভাবে রাখা হচ্ছে।
সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে কোনো মৃত্যু না হলেও উপসর্গ নিয়ে পাঁচজনের মৃত্যু এবং প্রায় এক হাজার নতুন রোগীর তথ্য পরিস্থিতির গুরুত্ব তুলে ধরছে। একই সঙ্গে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর বিপুল সংখ্যা স্বাস্থ্যসেবার ওপর চাপের বিষয়টিও সামনে আনছে।
বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা জরুরি। আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসা কমানো, চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া এবং স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসরণ করা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে।
১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত আক্রান্ত, হাসপাতালে ভর্তি এবং মৃত্যুর যে পরিসংখ্যান পাওয়া গেছে, তা বলছে দেশে হামের প্রাদুর্ভাব এখনও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। প্রতিদিনের নতুন রোগী ও মৃত্যুর তথ্য পরিস্থিতির পরিবর্তন বোঝার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।









