বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে প্রতিদিনই বিভিন্ন মুদ্রার বিপরীতে টাকার বিনিময়মূল্যে পরিবর্তন দেখা যায়। আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতি, বৈদেশিক বাণিজ্য, প্রবাসী আয়, আমদানি ব্যয়, মুদ্রার চাহিদা ও জোগানসহ নানা কারণে এই হার ওঠানামা করতে পারে। বিদেশে পড়াশোনা, চিকিৎসা, ভ্রমণ, আমদানি-রপ্তানি কিংবা আন্তর্জাতিক আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে তাই দিনের বিনিময় হার জানা গুরুত্বপূর্ণ।
২৭ আগস্ট ২০২৬ তারিখের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন ডলারের পাশাপাশি ব্রিটিশ পাউন্ড, ইউরো, ভারতীয় রুপি, অস্ট্রেলীয় ডলার, সিঙ্গাপুর ডলার, চীনা ইউয়ান ও জাপানি ইয়েনের বিপরীতে বাংলাদেশি টাকার বিনিময় হার নির্ধারিত হয়েছে।
আজ প্রতি মার্কিন ডলারের কেনার হার ১২১ টাকা ৯৫ পয়সা এবং বিক্রির হার ১২২ টাকা ২০ পয়সা। অর্থাৎ দুই হারের ব্যবধান ২৫ পয়সা। বাংলাদেশের আমদানি ব্যয়, বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং প্রবাসী আয়ের হিসাবসহ অর্থনীতির নানা ক্ষেত্রে ডলারের ভূমিকা থাকায় এই মুদ্রার বিনিময় হার বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
ব্রিটিশ পাউন্ডের ক্ষেত্রে প্রতি পাউন্ডের কেনার হার ১৬৫ টাকা ৮৮ পয়সা এবং বিক্রির হার ১৬৬ টাকা ৩১ পয়সা। ইউরোর কেনার হার ১৪২ টাকা ৪০ পয়সা এবং বিক্রির হার ১৪২ টাকা ৭১ পয়সা। ইউরোপের সঙ্গে বাণিজ্যিক লেনদেনের পাশাপাশি বিদেশে উচ্চশিক্ষা ও ভ্রমণের ক্ষেত্রেও এসব মুদ্রার দর সাধারণ মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
ভারতীয় রুপির ক্ষেত্রে কেনা ও বিক্রি—দুই হারই ১ টাকা ২৭ পয়সা। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে নিয়মিত বাণিজ্যিক লেনদেন রয়েছে। এর বাইরে চিকিৎসা, শিক্ষা ও ভ্রমণের জন্যও বাংলাদেশিদের একটি অংশ ভারতীয় রুপি ব্যবহার করেন।
অস্ট্রেলীয় ডলারের কেনার হার ৮৬ টাকা ৮৬ পয়সা এবং বিক্রির হার ৮৭ টাকা ৯ পয়সা। সিঙ্গাপুর ডলারের ক্ষেত্রে কেনার হার ৯৫ টাকা ৯৩ পয়সা এবং বিক্রির হার ৯৬ টাকা ১৩ পয়সা। চীনা ইউয়ানের কেনার হার ১৮ টাকা ১১ পয়সা এবং বিক্রির হার ১৮ টাকা ১৫ পয়সা।
জাপানি ইয়েনের প্রতি ইউনিটের কেনার হার ৭৭ পয়সা। তবে সরবরাহ করা তথ্যে ইয়েনের বিক্রয় হার উল্লেখ করা হয়নি। তাই ওই হার অনুমান করে প্রকাশ করা হচ্ছে না।
২৭ আগস্ট ২০২৬-এর বিনিময় হার
| মুদ্রা | কেনার হার | বিক্রির হার |
|---|---|---|
| মার্কিন ডলার | ১২১.৯৫ টাকা | ১২২.২০ টাকা |
| ব্রিটিশ পাউন্ড | ১৬৫.৮৮ টাকা | ১৬৬.৩১ টাকা |
| ইউরো | ১৪২.৪০ টাকা | ১৪২.৭১ টাকা |
| ভারতীয় রুপি | ১.২৭ টাকা | ১.২৭ টাকা |
| অস্ট্রেলীয় ডলার | ৮৬.৮৬ টাকা | ৮৭.০৯ টাকা |
| সিঙ্গাপুর ডলার | ৯৫.৯৩ টাকা | ৯৬.১৩ টাকা |
| চীনা ইউয়ান | ১৮.১১ টাকা | ১৮.১৫ টাকা |
| জাপানি ইয়েন | ০.৭৭ টাকা | উল্লেখ নেই |
কেনা ও বিক্রির হারে পার্থক্য কেন
বৈদেশিক মুদ্রার ক্ষেত্রে ‘কেনার হার’ বলতে সাধারণত ব্যাংক বা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান যে দরে বৈদেশিক মুদ্রা কিনছে, আর ‘বিক্রির হার’ বলতে যে দরে গ্রাহকের কাছে মুদ্রা বিক্রি করছে, তা বোঝানো হয়। এই দুই হারের মধ্যে পার্থক্য থাকতে পারে। মুদ্রা লেনদেনের খরচ, বাজার পরিস্থিতি, চাহিদা-জোগান এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নীতির কারণে হার পরিবর্তিত হতে পারে।
এ কারণে কোনো ব্যক্তি বিদেশ ভ্রমণ, শিক্ষার খরচ, চিকিৎসা ব্যয় কিংবা অন্য কোনো প্রয়োজনে বৈদেশিক মুদ্রা কিনতে গেলে শুধু প্রকাশিত একটি হার দেখে সিদ্ধান্ত না নেওয়াই ভালো। বাস্তবে ব্যাংক বা অনুমোদিত মুদ্রা বিনিময় প্রতিষ্ঠানে কার্যকর হার কিছুটা ভিন্ন হতে পারে।
একইভাবে প্রবাসী আয় দেশে পাঠানোর ক্ষেত্রেও বিনিময় হার গুরুত্বপূর্ণ। বৈদেশিক মুদ্রার বিপরীতে টাকার মূল্য পরিবর্তিত হলে প্রবাসী আয়ের স্থানীয় মুদ্রায় পাওয়া অর্থের পরিমাণও প্রভাবিত হতে পারে। আমদানিকারকদের ক্ষেত্রেও ডলারের দর বাড়া বা কমার সঙ্গে পণ্য আমদানির ব্যয়ের ওপর প্রভাব পড়তে পারে।
বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে দিনের মধ্যে পরিস্থিতি বদলাতে পারে। ফলে ২৭ আগস্টের এই হারকে নির্দিষ্ট সময়ের প্রকাশিত হার হিসেবে দেখা উচিত। প্রকৃত লেনদেনের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বা অনুমোদিত মুদ্রা বিনিময় প্রতিষ্ঠানের সর্বশেষ হার, প্রযোজ্য কমিশন ও অন্যান্য খরচ জেনে নেওয়া জরুরি। এতে লেনদেনের সময় প্রত্যাশিত অর্থের সঙ্গে প্রকৃত অর্থের পার্থক্য নিয়ে বিভ্রান্তির সুযোগ কমে।









