পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স পিএলসির ১৩তম বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় ২০২৫ অর্থবছরের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের ১৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেওয়ার প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। একই সঙ্গে কোম্পানির নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী, পরিচালনা পর্ষদের প্রতিবেদন ও নিরীক্ষকদের প্রতিবেদনও শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদন পেয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) রাজধানীর মালিবাগে কোম্পানির সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান মইনুল ইসলাম। সভায় কোম্পানির আর্থিক কার্যক্রম, নিরীক্ষা-সংক্রান্ত বিষয় এবং ২০২৫ অর্থবছরের বিভিন্ন প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সভায় ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ সমাপ্ত অর্থবছরের নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী উপস্থাপন করা হয়। শেয়ারহোল্ডাররা এসব বিবরণী পর্যালোচনা করে অনুমোদন দেন। পাশাপাশি পরিচালনা পর্ষদ ও নিরীক্ষকদের প্রতিবেদনও অনুমোদিত হয়। অর্থবছরের জন্য ১৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ প্রদানের প্রস্তাবও সভায় শেয়ারহোল্ডারদের সম্মতিতে পাস হয়।
লভ্যাংশ অনুমোদন তালিকাভুক্ত কোম্পানির বার্ষিক সাধারণ সভার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। একটি অর্থবছরে কোম্পানি যে আর্থিক ফলাফল অর্জন করে, তার ভিত্তিতে পরিচালনা পর্ষদ শেয়ারহোল্ডারদের জন্য লভ্যাংশের প্রস্তাব দিতে পারে। তবে প্রস্তাবটি কার্যকর করার জন্য সাধারণ সভায় শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদন প্রয়োজন হয়। সোনালী লাইফের ক্ষেত্রেও ২০২৫ অর্থবছরের হিসাব ও সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদন অনুমোদনের পর নগদ লভ্যাংশের প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে।
১৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশের অর্থ হলো, কোম্পানির ঘোষিত লভ্যাংশের ভিত্তিতে যোগ্য শেয়ারহোল্ডাররা তাদের ধারণ করা শেয়ারের অভিহিত মূল্যের ওপর নির্ধারিত হারে নগদ অর্থ পাওয়ার অধিকারী হবেন। তবে লভ্যাংশ বিতরণের সুনির্দিষ্ট সময়, রেকর্ড তারিখ বা অন্যান্য কার্যকরী বিষয় সম্পর্কে এই সভার তথ্যের বাইরে কোনো অতিরিক্ত সিদ্ধান্ত এখানে উল্লেখ করা হয়নি।
সভায় ২০২৬ সালের জন্য কোম্পানির আইনগত নিরীক্ষক এবং পরিপালন নিরীক্ষক নিয়োগের বিষয়েও অনুমোদন দেওয়া হয়। একটি তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানের আর্থিক হিসাবের নির্ভরযোগ্যতা যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধিবিধান যথাযথভাবে অনুসরণ হচ্ছে কি না, তা পর্যালোচনার ক্ষেত্রে নিরীক্ষা কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ। নতুন অর্থবছরের জন্য এসব নিরীক্ষক নিয়োগের অনুমোদনের মাধ্যমে কোম্পানির পরবর্তী পর্যায়ের নিরীক্ষা ও পরিপালন কার্যক্রমের প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়াও এগিয়ে গেল।
বার্ষিক সাধারণ সভায় কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ, শেয়ারহোল্ডার প্রতিনিধি এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় স্বতন্ত্র পরিচালক জাফর ইকবাল এনডিসি, শেয়ারহোল্ডার পরিচালক ফজলুতুন নেসা ও মোস্তফা কামরুস সোবহান অংশ নেন। এছাড়া রুপালী ইন্স্যুরেন্স কোং লিমিটেডের প্রতিনিধি পরিচালক ফৌজিয়া কামরুন তানিয়া এবং স্পন্সর পরিচালক শেখ মো. ড্যানিয়েল ও ওমর খৈয়াম উপস্থিত ছিলেন।
কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে ভারপ্রাপ্ত মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম, এইচআইসি মো. আলী রেজা, প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা মো. মন্জুর মোর্শেদ, প্রধান তথ্য কর্মকর্তা হাসিব রেজা এবং কোম্পানি সেক্রেটারি মো. আব্দুর রব, এফসিএস উপস্থিত ছিলেন। সভায় কোম্পানির অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও অংশ নেন।
একটি তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানের জন্য বার্ষিক সাধারণ সভা শুধু আনুষ্ঠানিক আয়োজন নয়; শেয়ারহোল্ডারদের সঙ্গে কোম্পানির আর্থিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ সংযোগও তৈরি করে এই সভা। এখানে নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী অনুমোদন, পরিচালনা পর্ষদের প্রতিবেদন গ্রহণ, নিরীক্ষকদের প্রতিবেদন অনুমোদন এবং নিরীক্ষক নিয়োগের মতো বিষয় নিষ্পত্তি করা হয়। লভ্যাংশ অনুমোদনের মাধ্যমে শেয়ারহোল্ডারদের সঙ্গে কোম্পানির মুনাফা বণ্টনের সিদ্ধান্তও আনুষ্ঠানিক রূপ পায়।
সোনালী লাইফের ১৩তম বার্ষিক সাধারণ সভায় ২০২৫ অর্থবছরের জন্য ১৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ অনুমোদনের পাশাপাশি আর্থিক বিবরণী ও সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদন অনুমোদিত হওয়ায় কোম্পানির ওই অর্থবছরের গুরুত্বপূর্ণ করপোরেট সিদ্ধান্তগুলো সম্পন্ন হয়েছে। একই সঙ্গে ২০২৬ সালের আইনগত ও পরিপালন নিরীক্ষক নিয়োগের অনুমোদন কোম্পানির পরবর্তী অর্থবছরের নিরীক্ষা ও পরিপালন কাঠামো পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিল।









