গাজীপুর মহানগরের বাসন থানা এলাকায় মশাল মিছিল থেকে ছাত্রলীগের দুই কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিকেলে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। পুলিশের ভাষ্য, নিষিদ্ধ সংগঠনের নামে মিছিল ও সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন হৃদয় আহমেদ রিশাদ (২০) ও মো. সিফাত আহমেদ (২২)। হৃদয় বাসন থানার ইটাহাটা রঞ্জিতটেক এলাকার আব্দুস সামাদের ছেলে। একই এলাকার রমজান আলীর ছেলে সিফাত আহমেদ।
পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার বিকেলে বাসন থানা এলাকার একটি স্থানে কয়েকজন ব্যক্তি মশাল নিয়ে মিছিল বের করেন। মিছিলের খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযান চালায়। এ সময় মিছিলে অংশ নেওয়ার অভিযোগে হৃদয় ও সিফাতকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের দাবি, মিছিলটি সংগঠনটির নামে পরিচালিত হচ্ছিল এবং সেখানে সাংগঠনিক কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগও পাওয়া গেছে।
ঘটনার পর বাসন থানা এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। মিছিলের সঙ্গে আরও কারা যুক্ত ছিলেন, তাদের পরিচয় ও ভূমিকা কী ছিল—এসব বিষয় যাচাই করে দেখছে পুলিশ। সংশ্লিষ্ট অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় অভিযানও চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নিষিদ্ধ সংগঠনের নামে মিছিল, সভা, সমাবেশ কিংবা কোনো ধরনের সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনার চেষ্টা করা হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বাসনের ঘটনাতেও সেই ধারাবাহিকতায় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। গ্রেপ্তার দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে মামলা করা হয়েছে এবং মামলার পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া চলছে।
বাসন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হারুনুর রশিদ জানিয়েছেন, এ ঘটনায় প্রচলিত আইনে মামলা করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের পর্যায়ক্রমে আইনের আওতায় আনার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
পুলিশের তথ্যমতে, মশাল মিছিলে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ এবং তাদের পরিচয় যাচাই করা হচ্ছে। তবে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হবে আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। আদালতে মামলার পরবর্তী কার্যক্রমে অভিযোগের বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করা হবে।
সাম্প্রতিক সময়ে গাজীপুর মহানগরের বিভিন্ন এলাকায় রাজনৈতিক কর্মসূচি ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। বিশেষ করে অনুমোদনহীন বা নিষিদ্ধ সংগঠনের নামে কোনো কর্মসূচির খবর পাওয়া গেলে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। বাসনের ঘটনাতেও পুলিশ একইভাবে দ্রুত অভিযান পরিচালনা করেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
এদিকে, মশাল মিছিলকে কেন্দ্র করে এলাকায় যাতে নতুন করে কোনো কর্মসূচি, উত্তেজনা বা সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সে বিষয়েও নজরদারি রাখা হচ্ছে। স্থানীয় পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের উপস্থিতি ও পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রয়েছে।
গ্রেপ্তার দুই ব্যক্তিকে মামলার আইনগত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আদালতে হাজির করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে মশাল মিছিলে অংশ নেওয়া অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে পুলিশের তদন্ত ও অভিযান চলমান রয়েছে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনায় কার কী ভূমিকা ছিল, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে না গিয়ে আইনগত প্রক্রিয়ার ওপরই নির্ভর করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।









