জিলাইভ বাংলা | সত্যের জয় অবধারিত

রোনালদোর পর দ্বিতীয় পর্তুগিজ হিসেবে পিএফএ সেরা ফার্নান্দেজ

নতুন মৌসুমের শুরুতেই গত বছরের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের আরেকটি বড় স্বীকৃতি পেলেন ব্রুনো ফার্নান্দেজ। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের পর্তুগিজ অধিনায়ক পেশাদার ফুটবলার্স অ্যাসোসিয়েশনের বর্ষসেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন। সতীর্থ ও প্রতিদ্বন্দ্বী ফুটবলারদের ভোটে পাওয়া এই পুরস্কার তাঁর ব্যক্তিগত সাফল্যের পাশাপাশি গত মৌসুমে ইউনাইটেডের ঘুরে দাঁড়ানোরও প্রতিফলন।

গত মৌসুমে ফার্নান্দেজ ছিলেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের আক্রমণভাগের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। মাঝমাঠ থেকে গোলের সুযোগ তৈরি, আক্রমণের গতি নিয়ন্ত্রণ এবং প্রয়োজনের সময় নিজেই গোল করা—সব ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন তিনি। মৌসুমজুড়ে তাঁর নামের পাশে ছিল ৯ গোল ও রেকর্ড ২১টি সহায়তা।

ফার্নান্দেজের কার্যকর নেতৃত্বে ইউনাইটেডও কঠিন সময় পেছনে ফেলে প্রিমিয়ার লিগে তৃতীয় স্থান অর্জন করে এবং চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ফেরার সুযোগ নিশ্চিত করে। মাইকেল ক্যারিকের কোচিংয়ে দলের খেলার ধরনেও পরিবর্তন আসে। আক্রমণভাগের খেলোয়াড়দের তুলনামূলক বেশি স্বাধীনতা দেওয়া হয়, আর সেই কাঠামোর মধ্যে ফার্নান্দেজ নিজের সেরা ফুটবল উপহার দেন।

৩১ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডার এরই মধ্যে প্রিমিয়ার লিগের মৌসুমসেরা ফুটবলারের স্বীকৃতিও পেয়েছেন। এবার সতীর্থ পেশাদার ফুটবলারদের ভোটে পিএফএ বর্ষসেরা হওয়ার মাধ্যমে তাঁর গত মৌসুমের সাফল্যের তালিকায় যোগ হলো আরও মর্যাদাপূর্ণ একটি পুরস্কার।

ফার্নান্দেজের এই অর্জনের সঙ্গে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ইতিহাসও সমৃদ্ধ হয়েছে। ক্লাবটির ১২তম ফুটবলার হিসেবে তিনি পিএফএ বর্ষসেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জিতলেন। ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের ফুটবলে কোনো ক্লাবের সর্বোচ্চসংখ্যক খেলোয়াড় এই সম্মান পাওয়ার রেকর্ডও ইউনাইটেডের দখলে রয়েছে।

তবে ফার্নান্দেজের জন্য সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হতে পারে পর্তুগিজ ফুটবলের ইতিহাসে তাঁর অবস্থান। পিএফএ বর্ষসেরা হওয়ার ক্ষেত্রে তিনি দ্বিতীয় পর্তুগিজ ফুটবলার। তাঁর আগে এই কীর্তি গড়েছিলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে খেলার সময় ২০০৭ ও ২০০৮ সালে টানা দুইবার এই পুরস্কার জিতেছিলেন রোনালদো।

২০২০ সালে স্পোর্তিং সিপি থেকে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে যোগ দেওয়ার পর থেকেই ফার্নান্দেজ ক্লাবটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হয়ে উঠেছেন। ইউনাইটেডের হয়ে এখন পর্যন্ত ৩১৪ ম্যাচে তাঁর গোলসংখ্যা ১১০ এবং সহায়তা ১০৬টি। অর্থাৎ ক্লাবটির হয়ে তাঁর মোট গোল-সম্পৃক্ততা ২০০। প্রিমিয়ার লিগ যুগে ইউনাইটেডের হয়ে এই মাইলফলকে পৌঁছাতে তাঁর চেয়ে কম ম্যাচ খেলেছেন কেবল ওয়েইন রুনি; রুনির প্রয়োজন হয়েছিল ২৯৫ ম্যাচ।

পিএফএ বর্ষসেরা একাদশেও আধিপত্য ছিল গত মৌসুমের শীর্ষ দুই দলের। চ্যাম্পিয়ন আর্সেনাল থেকে জায়গা পেয়েছেন পাঁচজন, আর রানার্সআপ ম্যানচেস্টার সিটির চারজন খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন। বাকি দুটি জায়গা পেয়েছেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ফার্নান্দেজ ও ব্রেন্টফোর্ডের ইগো চিয়াগো।

পিএফএ বর্ষসেরা একাদশ

গোলরক্ষক: দাভিদ রাইয়া।

রক্ষণভাগ: গাব্রিয়েল মাগালাইস, নিকো ও’রাইলি, উইলিয়াম সালিবা ও জুরিয়েন টিম্বার।

মাঝমাঠ: ব্রুনো ফার্নান্দেজ, ডেক্লান রাইস ও রায়ান শের্কি।

আক্রমণভাগ: আর্লিং হলান্ড, আন্তোয়ান সেমেনিও ও ইগো চিয়াগো।

ফার্নান্দেজের এই পুরস্কার তাই শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের পুনরুত্থানের পথে তাঁর নেতৃত্ব, সৃজনশীলতা ও ধারাবাহিকতারও বড় স্বীকৃতি। রোনালদোর পর একই সম্মান পাওয়া দ্বিতীয় পর্তুগিজ হিসেবে এখন ইউনাইটেডের ইতিহাসে নিজের নাম আরও উজ্জ্বলভাবে লিখে ফেললেন তিনি।

Tags :

বাংলা ডেস্ক । GLive24.com

সর্বশেষ খবর