জিলাইভ বাংলা | সত্যের জয় অবধারিত

ধানক্ষেতে খণ্ডিত পা, রহস্য উদঘাটনে তদন্ত

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার একটি ধানক্ষেত থেকে মানুষের খণ্ডিত পা উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (২৬ আগস্ট) সকালে উপজেলার সন্তোষপুর ইউনিয়নের নিলুরখামার চরুয়াটারী এলাকায় সড়কের পাশের ধানখেত থেকে পায়ের অংশটি উদ্ধার করা হয়। অর্ধগলিত অবস্থায় মানুষের দেহাংশ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।

পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, উদ্ধার হওয়া অংশটি কোনো মানুষের ডান পায়ের নিচের অংশ। এটি পুরুষের পা হতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে। তবে দেহাংশটির পরিচয়, কীভাবে সেটি ওই ধানক্ষেতে পৌঁছেছে এবং শরীরের বাকি অংশ কোথায়—এসব প্রশ্নের কোনো নিশ্চিত উত্তর এখনও পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বুধবার সকালে কয়েকজন পথচারী সড়কের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় ধানখেতে পড়ে থাকা পায়ের খণ্ডটি দেখতে পান। প্রথমে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়। পরে খবর ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে জড়ো হন। একপর্যায়ে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়।

খবর পেয়ে নাগেশ্বরী থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পায়ের অংশটি উদ্ধার করে। স্থানীয়দের ভাষ্য, দেহাংশটির কাছাকাছি রক্তমাখা একটি পলিথিনও পড়ে থাকতে দেখা গেছে। এ কারণে স্থানীয়দের কেউ কেউ ধারণা করছেন, পায়ের অংশটি পলিথিনে মুড়িয়ে সেখানে ফেলে রাখা হয়ে থাকতে পারে। তবে পুলিশের তদন্তে এ বিষয়ে এখনো কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

উদ্ধার হওয়া পায়ের অংশটি অর্ধগলিত অবস্থায় ছিল। ফলে দেহাংশটি কতদিন আগে বিচ্ছিন্ন হয়েছে বা কত সময় ধরে ওই স্থানে পড়ে ছিল, তা প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। দেহাংশটি কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেছে পুলিশ। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে এর পরিচয় ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার চেষ্টা করা হবে।

নাগেশ্বরী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এনামুল হক প্রধান জানান, সকালে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মানুষের একটি খণ্ডিত পা উদ্ধার করেছে। এটি কার শরীরের অংশ এবং কীভাবে সেখানে এসেছে, তা এখনো জানা যায়নি। এ ঘটনায় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

তদন্তের শুরুতে দেহাংশটির পরিচয় শনাক্ত করাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আশপাশের এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে কেউ নিখোঁজ হয়েছেন কি না, সে বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হতে পারে। নিখোঁজ ব্যক্তিদের কোনো তথ্যের সঙ্গে উদ্ধার হওয়া দেহাংশের মিল পাওয়া যায় কি না, সেটিও যাচাই করবে পুলিশ।

একই সঙ্গে ঘটনাস্থলের আশপাশের পরিবেশ ও স্থানীয়দের বক্তব্যও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পায়ের অংশটি কখন সেখানে ফেলা হয়েছে, কেউ কোনো সন্দেহজনক ব্যক্তি বা যানবাহন দেখেছেন কি না, কিংবা ঘটনাস্থলের আশপাশে অন্য কোনো আলামত রয়েছে কি না—এসব বিষয় তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

রক্তমাখা পলিথিন পাওয়ার বিষয়টিও তদন্তের আওতায় আসতে পারে। সেটি দেহাংশটির সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত কি না, তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়া বলা সম্ভব নয়। তাই স্থানীয়দের ধারণার ওপর ভিত্তি করে কোনো সিদ্ধান্তে না গিয়ে প্রাপ্ত আলামত ও তথ্য যাচাই করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

ঘটনাটি ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে শরীরের বাকি অংশের কোনো সন্ধান পাওয়া গেছে কি না এবং দেহাংশটি কীভাবে ওই ধানক্ষেতে এল—এসব বিষয় নিয়েই বেশি আলোচনা চলছে। তবে পুলিশ এখন পর্যন্ত শরীরের অন্য কোনো অংশ উদ্ধারের তথ্য জানায়নি।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, তদন্তের অগ্রগতি এবং উদ্ধার হওয়া দেহাংশের পরিচয় শনাক্ত হওয়ার পর ঘটনাটির বিষয়ে আরও পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যেতে পারে। আপাতত ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া আলামত, স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য এবং সম্ভাব্য নিখোঁজ ব্যক্তিদের বিষয়ে অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনাটিকে ঘিরে কোনো ধরনের নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

Tags :

বাংলা ডেস্ক । GLive24.com

সর্বশেষ খবর