,

তালাকের ক্ষোভে সাবেক স্ত্রীকে কুপিয়ে হাত বিচ্ছিন্ন

মেহেরপুর শহরের লর্ডমার্কেট এলাকায় গভীর রাতে ঘরে ঢুকে সাবেক স্ত্রীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে সায়ন মিয়ার বিরুদ্ধে। হামলার একপর্যায়ে ২৬ বছর বয়সী স্মৃতি খাতুনের ডান হাত শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। মেয়েকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে তাঁর বাবা সেলিম হোসেন ও মা রেবেকা খাতুনও হামলার শিকার হন। গুরুতর আহত তিনজনকে প্রথমে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হলেও পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

মঙ্গলবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে লর্ডমার্কেট এলাকার একটি বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। আহত স্মৃতি স্থানীয় একটি কলেজের স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তাঁর বাবা ইলেকট্রনিক পণ্যের ব্যবসা করেন। ঘটনার সময় পরিবারের সদস্যরা নিজ বাড়িতেই ঘুমিয়ে ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয়দের কাছ থেকে পাওয়া প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, স্মৃতি ও সায়নের মধ্যে আগে থেকেই প্রেমের সম্পর্ক ছিল। পরিবারের আপত্তি থাকা সত্ত্বেও চলতি মাসের ১৫ আগস্ট তাঁরা বিয়ে করেন। তবে বিয়ের পরপরই তাঁদের মধ্যে পারিবারিক বিরোধ ও সম্পর্কের টানাপোড়েন শুরু হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ২৩ আগস্ট স্মৃতি সায়নকে তালাক দেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।

পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, তালাকের বিষয়টি মেনে নিতে না পেরে সায়নের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়। সেই ক্ষোভ থেকেই পরিকল্পিতভাবে তিনি গভীর রাতে স্মৃতিদের বাড়িতে প্রবেশ করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য, জানালার গ্রিল বেয়ে তিনি ঘরে ঢোকেন। এরপর ঘুমন্ত স্মৃতির ওপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালান।

আকস্মিক হামলায় স্মৃতি গুরুতর আহত হন। একপর্যায়ে তাঁর ডান হাত শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। প্রচণ্ড ব্যথা ও আতঙ্কে তিনি চিৎকার শুরু করলে পাশের ঘরে থাকা বাবা-মা দ্রুত সেখানে ছুটে আসেন। মেয়েকে রক্ষা করার চেষ্টা করলে হামলাকারী তাঁদের ওপরও অস্ত্র দিয়ে আঘাত করেন। এতে সেলিম হোসেন ও রেবেকা খাতুনের শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়।

আহতদের চিৎকার শুনে আশপাশের বাসিন্দারা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। পরিস্থিতি বুঝতে পেরে সায়ন দ্রুত সেখান থেকে পালিয়ে যান। পরে প্রতিবেশীরা রক্তাক্ত অবস্থায় তিনজনকে উদ্ধার করে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান।

হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা এম এম জাহিদুল ইসলাম জানান, তিনজনকেই গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল। স্মৃতির আঘাত ছিল সবচেয়ে গুরুতর। তাঁর ডান হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় দ্রুত বিশেষায়িত চিকিৎসার প্রয়োজন ছিল। তাঁর বাবা ও মায়ের শরীরেও ধারালো অস্ত্রের গভীর ক্ষত রয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসার পর তিনজনকেই উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়।

ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত সায়নকে ধরতে অভিযান শুরু করে পুলিশ। পরে বুধবার সকাল সাতটার দিকে মেহেরপুর শহরের মল্লিকপাড়ার একটি আমবাগান থেকে তাঁকে আটক করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পর পালিয়ে গিয়ে ওই এলাকায় আত্মগোপনের চেষ্টা করছিলেন তিনি।

মেহেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হুমায়ুন কবীর বলেন, পারিবারিক বিরোধের জেরে স্মৃতি সম্প্রতি সায়নকে তালাক দিয়েছিলেন। প্রাথমিকভাবে তালাকের ক্ষোভ থেকেই হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ঘটনার পেছনে অন্য কোনো কারণ বা বিরোধ ছিল কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় রয়েছে।

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্র, ঘটনার আগে অভিযুক্তের গতিবিধি এবং বাড়িতে প্রবেশের পদ্ধতিসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি আহত তিনজনের বক্তব্য এবং প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের তথ্যও তদন্তে বিবেচনা করা হবে।

মাত্র কয়েক দিনের দাম্পত্য সম্পর্কের পর তালাক এবং এরপর এমন ভয়াবহ হামলার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। একই পরিবারের তিন সদস্য গভীর রাতে আক্রান্ত হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে ঘরের ভেতরে নারীকে লক্ষ্য করে এমন সহিংসতার ঘটনায় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বলছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ ও হামলার ধরন তদন্তের মাধ্যমে আরও পরিষ্কার হবে। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। অন্যদিকে আহত তিনজনের দ্রুত সুস্থতা এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করাই এখন পরিবারের প্রধান উদ্বেগ।:::

Tags :

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

জিলাইভ২৪ বিশ্বব্যাপী বাংলাভাষীদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য অনলাইন নিউজ পোর্টাল; যা রাজনীতি, খেলাধুলা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক সংবাদের সর্বশেষ আপডেট প্রকাশ করে।

© ২০২৬ GLive24। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।