ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডুতে মোনায়েম হোসেন (৫০) নামে এক ইউপি সদস্যকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার ভায়না ইউনিয়নের কালীশংকরপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত মোনায়েম হোসেন আওয়ামী লীগের স্থানীয় ওয়ার্ড সভাপতি ছিলেন।
নিহত মোনায়েম হোসেন কালীশংকরপুর গ্রামের মৃত আবুল মন্ডলের ছেলে। তিনি ভায়না ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। পাশাপাশি স্থানীয় আওয়ামী লীগের ওয়ার্ড সভাপতি ছিলেন তিনি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার বিকেলে কুষ্টিয়ার আব্দালপুর এলাকায় খেলা দেখতে গিয়েছিলেন মোনায়েম হোসেন। পরে রাতে তিনি ভায়না বাজারে আসেন। বাজারের কাজ শেষ করে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন। পথে কালীশংকরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উত্তর পাশে পৌঁছালে কয়েকজন দুর্বৃত্ত তার ওপর হামলা চালায়।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলাকারীরা আগে থেকেই ওই এলাকায় অবস্থান নিয়েছিল। মোনায়েম সেখানে পৌঁছানোর পর ধারালো দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তার ওপর হামলা করা হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে রাস্তায় পড়ে যান। তার চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং দ্রুত তাকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করেন।
হাসপাতালে পৌঁছানোর পর চিকিৎসক মোনায়েম হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন। বর্তমানে তার মরদেহ কুষ্টিয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের কথা জানিয়েছে পুলিশ।
ভায়না ইউনিয়ন পরিষদের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আক্তার হোসেন বলেন, বিকেলে মোনায়েম হোসেন আব্দালপুরে খেলা দেখতে গিয়েছিলেন। রাতে বাজারের কাজ শেষ করে বাড়ি ফেরার সময় স্কুলের উত্তর পাশে পৌঁছালে দুর্বৃত্তরা তার ওপর হামলা চালায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে কুষ্টিয়ায় নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
নিহতের স্ত্রী শিল্পী খাতুন স্বামী হত্যার ঘটনায় জড়িতদের বিচার দাবি করেছেন। তিনি বলেন, মোনায়েম হোসেন বাজার থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। গ্রামের স্কুলের পেছনে তাকে হত্যা করা হয়েছে। স্বামীকে হারিয়ে তিনি ও তার সন্তানরা অসহায় হয়ে পড়েছেন বলেও জানান তিনি।
হরিণাকুণ্ডু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুম খান বলেন, হামলার সঙ্গে কারা জড়িত, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পূর্ববিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের লোকজন এ হামলা চালিয়ে থাকতে পারে। তবে তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা এবং হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা হবে।
পুলিশ জানিয়েছে, মরদেহ কুষ্টিয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে ফেরত আনার পর ময়নাতদন্ত করা হবে। এরপর তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। হামলার কারণ, জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় এবং ঘটনার পেছনে কোনো পুরোনো বিরোধ ছিল কি না—এসব বিষয় তদন্তে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।









