চ্যাম্পিয়ন্স লিগে নিজেদের শক্তির জানান দিল ম্যানচেস্টার সিটি। প্রতিপক্ষের মাঠে পোর্তোর বিপক্ষে শুরুতে বেশ কয়েকটি সুযোগ পেয়েও গোলের দেখা পাচ্ছিল না তারা। তবে দ্বিতীয়ার্ধে আর্লিং হালান্ডের জোড়া গোলে শেষ পর্যন্ত ২-০ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়েছে ইংলিশ ক্লাবটি। ম্যাচজুড়ে পোর্তো লড়াই চালিয়ে গেলেও সিটির আক্রমণভাগের ধার ও হালান্ডের দক্ষতার সামনে শেষ পর্যন্ত তাদের প্রতিরোধ ভেঙে পড়ে।
এস্তাদিও দ্রাগাওতে ম্যাচ হওয়ায় পোর্তোর জন্য বাড়তি আত্মবিশ্বাসের কারণ ছিল নিজেদের মাঠ। চলতি চ্যাম্পিয়ন্স লিগে সম্ভাবনাময় দলগুলোর আলোচনায় পোর্তোর নামও ছিল। কোমো ও রোমার সঙ্গে তাদেরও সম্ভাব্য ‘ডার্ক হর্স’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছিল। ফ্রান্সেসকো ফারিওলির অধীনে দলটির পারফরম্যান্সও সেই প্রত্যাশাকে কিছুটা সমর্থন করছিল। কিন্তু ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে সেই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে পারেনি তারা।
প্রথমার্ধে অবশ্য সিটিকে গোলবঞ্চিত রাখতে বড় ভূমিকা রাখেন পোর্তোর গোলরক্ষক ডিয়োগো কস্তা। হালান্ডের অন্তত তিনটি সুযোগ তিনি দুর্দান্ত দক্ষতায় প্রতিহত করেন। বিশেষ করে হালান্ডের একটি শক্তিশালী হেড অসাধারণ প্রতিক্রিয়ায় ঠেকিয়ে দেন পর্তুগিজ এই গোলরক্ষক। ফলে আক্রমণে এগিয়ে থেকেও বিরতিতে গোলশূন্য অবস্থায় মাঠ ছাড়তে হয় সিটিকে।
পোর্তোর গোলমুখে চাপ তৈরিতে সিটির নতুন মুখ আইয়ুব বুয়াদ্দিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। লিলে থেকে ১০০ মিলিয়ন ইউরোতে দলে যোগ দেওয়া এই কিশোর মিডফিল্ডার প্রথমবারের মতো শুরু থেকে মাঠে নামেন। প্রথমার্ধে এনজো ফার্নান্দেজ ও বুয়াদ্দির সমন্বয়ে তৈরি হওয়া আক্রমণেও সাফল্যের কাছাকাছি পৌঁছেছিল সিটি। কিন্তু কস্তার দুর্দান্ত গোলকিপিং তাদের এগিয়ে যেতে দেয়নি।
দ্বিতীয়ার্ধ শুরু হওয়ার দুই মিনিটের মধ্যেই অবশ্য সেই বাধা দূর হয়ে যায়। ফার্নান্দেজের ক্রস থেকে হালান্ড নিচু হেডে বল জালে পাঠান। শটটি খুব জোরালো ছিল না, কিন্তু বলের গতিপথে বিভ্রান্ত হয়ে পড়েন কস্তা। তাঁর শরীরের পাশ দিয়ে বলটি জালের নিচের কোণায় গিয়ে ঠেকে। ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় সিটি।
গোল হজমের পর ম্যাচে ফেরার চেষ্টা জোরদার করে পোর্তো। সিটির রক্ষণে চাপ বাড়তে থাকে এবং একপর্যায়ে গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মার জন্যও পরিস্থিতি কঠিন হয়ে ওঠে। পেপেকে ফাউল করে পেনাল্টির মতো পরিস্থিতি তৈরি হলেও অফসাইডের কারণে শেষ পর্যন্ত বড় বিপদ থেকে রক্ষা পায় সিটি।
এর কিছুক্ষণ পর আবারও স্বস্তির সুযোগ আসে পোর্তোর সামনে। দোন্নারুম্মার বাড়ানো একটি বল উইলিয়াম গোমেজের গায়ে লেগে অল্পের জন্য গোলপোস্টের বাইরে দিয়ে চলে যায়। ওই সময়ে পোর্তো ম্যাচে সমতা ফেরানোর মতো পরিস্থিতি তৈরি করলেও সুযোগ কাজে লাগানোর মতো নিখুঁত সমাপ্তি দিতে পারেনি।
ম্যাচের শেষ দিকে অবশ্য আর কোনো ঝুঁকি নেয়নি সিটি। রায়ান আইত-নুরির ক্রস থেকে হালান্ড নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন। দারুণভাবে আক্রমণ শেষ করে তিনি পোর্তোর ঘুরে দাঁড়ানোর শেষ আশাটুকুও শেষ করে দেন।
এই গোলটি হালান্ডের জন্য ব্যক্তিগতভাবেও বিশেষ হয়ে ওঠে। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে এটি ছিল তাঁর ৫৯তম ম্যাচে ৫৯তম গোল। একই সঙ্গে সিটির হয়ে মোট গোলসংখ্যা ১৬৭-তে পৌঁছে তিনি ক্লাবটির সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায় তৃতীয় স্থানে উঠে যান।
নতুন মৌসুমেও হালান্ডের গোল করার ধারাবাহিকতা অব্যাহত রয়েছে। বিশ্বকাপে নরওয়ের হয়ে ভালো পারফরম্যান্সের পর তাঁর ফর্ম নিয়ে যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, এখন পর্যন্ত তার প্রতিফলনই দেখা যাচ্ছে মাঠে। মৌসুমের প্রথম চার ম্যাচেই তিনি করেছেন পাঁচ গোল।
ম্যাচ শেষে হালান্ড বলেন, সবচেয়ে বড় মঞ্চে ম্যানচেস্টার সিটির ওপর সবসময় চাপ থাকে। তবে পোর্তোর বিপক্ষে সেই চাপ সামলে দল জয় পেয়েছে। তাঁর মতে, এ ধরনের ম্যাচে জয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ প্রত্যাশা অনুযায়ী ফল না এলে মুহূর্তের মধ্যেই চাপ আরও বেড়ে যেতে পারে।
এর আগে শনিবার কভেন্ট্রির বিপক্ষে ১-০ গোলের জয়েও ম্যাচের শেষদিকে কিছুটা চাপে পড়েছিল সিটি। পোর্তোর বিপক্ষেও দ্বিতীয়ার্ধের একটি পর্যায়ে সেই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। এবার অবশ্য হালান্ডের দ্বিতীয় গোল দলকে সেই দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি দেয়।
ম্যানচেস্টার সিটি নতুন মৌসুমে দল শক্তিশালী করতে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করেছে। কিন্তু নতুন খেলোয়াড়দের পাশাপাশি দলের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য অস্ত্র হিসেবে এখনো হালান্ডই সামনে রয়েছেন। পোর্তোর বিপক্ষে তাঁর দুই গোল আবারও দেখাল, বড় ম্যাচের চাপের মধ্যে একজন বিশ্বমানের স্ট্রাইকার কতটা পার্থক্য গড়ে দিতে পারেন।
পোর্তো নিজেদের মাঠে লড়াই করেছে, সুযোগও তৈরি করেছে। কিন্তু গোলের সামনে কার্যকর হতে না পারায় তাদের পরিশ্রম ফল পায়নি। অন্যদিকে সিটি প্রথমার্ধে কস্তার বাধা পেরোতে না পারলেও দ্বিতীয়ার্ধে সুযোগ কাজে লাগিয়েছে নিখুঁতভাবে। শেষ পর্যন্ত হালান্ডের জোড়া গোলেই চ্যাম্পিয়ন্স লিগে গুরুত্বপূর্ণ জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ম্যানচেস্টার সিটি।









