লিওনেল মেসির বয়স ক্যারিয়ারের শেষ প্রান্তে পৌঁছেছে। কিন্তু মাঠের পারফরম্যান্স ও দীর্ঘদিনের সাফল্যের কারণে বিশ্বের সেরা ফুটবলারদের আলোচনায় এখনও শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছেন আর্জেন্টাইন তারকা। এবার ব্যালন ডি’অরের ৩০ জনের সংক্ষিপ্ত তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন ইন্টার মায়ামির ফরোয়ার্ড। আর তাকে নিয়ে নিজের পছন্দের কথা স্পষ্টভাবেই জানিয়ে দিয়েছেন ফ্রান্সের কিংবদন্তি জিনেদিন জিদান।
ব্যালন ডি’অরে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেলে মেসিকেই নিজের প্রথম পছন্দ হিসেবে বেছে নিতেন বলে জানিয়েছেন জিদান। শুধু একটি ভোট নয়, যদি ১০০টি ভোট দেওয়ার সুযোগও থাকত, প্রতিবারই মেসির নাম বেছে নিতেন তিনি।
জিদানের ভাষায়, ‘আমি মেসিকে একশোবার ভোট দেব।’
মেসির বয়স নিয়ে যে প্রশ্ন উঠতে পারে, সেটিকে খুব একটা গুরুত্ব দিচ্ছেন না জিদান। বরং প্রায় ৩৯ বছর বয়সেও বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়দের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে যাওয়াকে তিনি মেসির ক্যারিয়ারের অন্যতম বড় অর্জন হিসেবে দেখছেন। তার মতে, এত বয়সে এসেও একজন খেলোয়াড় কীভাবে বিশ্বের শীর্ষ পর্যায়ে নিজের জায়গা ধরে রাখতে পারেন, সেই বিষয়টির গুরুত্ব অনেকেই যথাযথভাবে উপলব্ধি করেন না।
মেসির দীর্ঘ ক্যারিয়ারই তার বক্তব্যের অন্যতম ভিত্তি। বহু বছর ধরে তিনি বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ পর্যায়ে খেলেছেন এবং ব্যক্তিগত ও দলীয় সাফল্যের মাধ্যমে নিজের অবস্থানকে আলাদা করে তুলেছেন। সময়ের সঙ্গে অনেক তারকা উঠে এলেও মেসি এখনও বড় পুরস্কারের দৌড়ে থাকছেন—যা তার ধারাবাহিকতারই পরিচয়।
মেসি আবার ব্যালন ডি’অর জিতলেও জিদান অবাক হবেন না। সর্বকালের সেরা ফুটবলার কে—এই আলোচনায় মেসির নাম নিয়ে এখনও সংশয় প্রকাশ করা হলে সেটিও তার কাছে বিস্ময়কর বলে মনে হয়। জিদানের বক্তব্যে তাই শুধু এবারের পুরস্কারে মেসির সম্ভাবনার কথা নয়, বরং ফুটবল ইতিহাসে তার অবস্থান সম্পর্কেও দৃঢ় বিশ্বাসের প্রকাশ ঘটেছে।
২০২৩ সালে মেসি ক্যারিয়ারের অষ্টম ব্যালন ডি’অর জিতেছিলেন। সেই সাফল্যের মাধ্যমে তিনি এই পুরস্কারের ইতিহাসে নিজের রেকর্ড আরও সমৃদ্ধ করেন। এবার নবমবারের মতো মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কারটি জয়ের লড়াইয়ে রয়েছেন তিনি।
তবে মেসির সামনে প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে রয়েছেন বর্তমান প্রজন্মের বেশ কয়েকজন তারকা। ৩০ জনের সংক্ষিপ্ত তালিকায় কিলিয়ান এমবাপ্পে, লামিনে ইয়ামাল, উসমান দেম্বেলে, হ্যারি কেইন, ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও আর্লিং হল্যান্ডের মতো খেলোয়াড়দের নাম রয়েছে। ফলে এবারের লড়াইয়ে অভিজ্ঞতার পাশাপাশি তরুণ প্রতিভা ও সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সও বড় ভূমিকা রাখবে।
মেসির জন্য এবারের মনোনয়ন আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে তার বয়সের কারণে। ফুটবলে শীর্ষ পর্যায়ে দীর্ঘ সময় ধরে টিকে থাকা কঠিন। শারীরিক সক্ষমতা, ধারাবাহিক পারফরম্যান্স এবং প্রতিটি মৌসুমে প্রত্যাশা পূরণের চাপ—সবকিছুর সঙ্গে লড়াই করেই একজন খেলোয়াড়কে এত দীর্ঘ সময় সেরাদের তালিকায় থাকতে হয়।
জিদানের মন্তব্য সেই কারণেই আলাদা গুরুত্ব পাচ্ছে। ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সফল ও পরিচিত খেলোয়াড় হিসেবে নিজের অভিজ্ঞতা থেকে তিনি মেসির মান সম্পর্কে কথা বলেছেন। তার চোখে বয়স মেসির শ্রেষ্ঠত্বকে ছাপিয়ে যাওয়ার মতো কোনো কারণ নয়।
এখন মূল অপেক্ষা ব্যালন ডি’অরের চূড়ান্ত ফলের জন্য। ৩০ জনের সংক্ষিপ্ত তালিকা থেকে শেষ পর্যন্ত কে পুরস্কারটি জিতবেন, সেটিই সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। মেসি নবমবারের মতো ব্যালন ডি’অর হাতে তুলতে পারবেন কি না, তার উত্তর মিলবে ভোটের ফল ঘোষণার পর।
তবে জিদানের ব্যক্তিগত পছন্দে কোনো দ্বিধা নেই। তার হাতে যদি ১০০টি ভোট থাকত, সবগুলোই যেত মেসির ঝুলিতে।









