চট্টগ্রাম নগরের বন্দর থানা এলাকায় ছাত্রদল নেতা মোহাম্মদ আবু শাকিল সাগরের বাসায় অভিযান চালিয়ে প্রায় ২০০ বোতল বিদেশি মদ উদ্ধারের দাবি করেছে পুলিশের একটি সূত্র। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় কেবি দোভাষ লেন এলাকায় এ অভিযান চালায় নগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তবে অভিযানে উদ্ধার হওয়া মদের সঠিক পরিমাণ, আটক ব্যক্তিদের পরিচয় কিংবা এ ঘটনায় মামলা হয়েছে কি না—এসব বিষয়ে এখনো পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
পুলিশের একটি সূত্রের দাবি, অভিযানে প্রায় ২০০ বোতল বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয়েছে। একই সঙ্গে দুজনকে আটক করা হয়েছে বলেও সূত্রটি জানায়। তবে অভিযান পরিচালনাকারী কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
অভিযানে ছাত্রদল নেতা সাগরের উপস্থিতি ও আটকের বিষয়েও পাওয়া গেছে পরস্পরবিরোধী তথ্য। একাধিক সূত্রের দাবি, অভিযান চলার সময় তিনি বাসায় ছিলেন এবং পুলিশ তাকে আটক করে। তবে সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা পুলিশের একজন সদস্য জানিয়েছেন, সাগরকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
মোহাম্মদ আবু শাকিল সাগর বন্দর থানা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক। তিনি নগর ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক তারিকুল ইসলাম তানভীরের অনুসারী বলে জানা গেছে।
অভিযানের পর উদ্ধার হওয়া মদের পরিমাণ এবং আটকের বিষয়ে পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য জানতে গোয়েন্দা পুলিশের দক্ষিণ বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হয়। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
পরে এ বিষয়ে জানতে প্রতিবেদক নগরের মনসুরাবাদ এলাকায় অবস্থিত গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়ে সরেজমিনে যান। সেখানে অভিযানে অংশ নেওয়া একজন পুলিশ সদস্যের কাছে অভিযান সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি মামলার এফআইআর এবং অভিযানের তথ্যের জন্য ডিউটি অফিসারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।
ডিউটি অফিসারের কাছে গেলে তিনি জানান, দক্ষিণ বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনারের (ডিসি) অনুমতি ছাড়া অভিযানের বিষয়ে কোনো তথ্য দেওয়া সম্ভব নয়। এরপর ডিবির দক্ষিণ বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার শেখ শরীফুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয় এবং অভিযানের বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়।
বিষয়টি তাকে অবহিত করার পর তিনি ডিউটি অফিসারের বরাত দিয়ে আবারও অভিযান পরিচালনাকারী কর্মকর্তার কাছ থেকেই তথ্য নেওয়ার পরামর্শ দেন। পরে দ্বিতীয় দফায় অভিযানে অংশ নেওয়া এক পুলিশ সদস্যের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, অভিযানের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) আয়োজিত প্রেস কনফারেন্সে জানানো হবে।
এদিকে, পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে তথ্য প্রকাশ না হওয়ায় এখন পর্যন্ত অভিযানের পূর্ণ চিত্র স্পষ্ট হয়নি। প্রায় ২০০ বোতল বিদেশি মদ উদ্ধারের তথ্যটি পুলিশের একটি সূত্রের দাবি হিসেবে রয়েছে। একইভাবে দুজনকে আটকের তথ্যও আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।
সাগরকে আটক করা হয়েছে কি না, উদ্ধার হওয়া মদের প্রকৃত পরিমাণ কত, এ ঘটনায় কারা জড়িত এবং তাদের বিরুদ্ধে কী ধরনের আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে—এসব প্রশ্নের উত্তর পুলিশের নির্ধারিত ব্রিফিংয়ের পরই পরিষ্কার হওয়ার কথা। ফলে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য না আসা পর্যন্ত উদ্ধার ও আটকের বিষয়ে পাওয়া তথ্যগুলোকে সূত্রনির্ভর হিসেবেই দেখা হচ্ছে।









