বরিশাল নগরের নতুন বাজার এলাকায় ময়লার স্তূপ থেকে দুই নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে ফরেস্ট কার্যালয়ের সামনে সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা ময়লা অপসারণের সময় মরদেহ দুটি দেখতে পান। পরে খবর দেওয়া হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সেগুলো উদ্ধার করে।
পুলিশ জানিয়েছে, নবজাতক দুটি সেখানে মৃত অবস্থায় ফেলে রাখা হয়েছিল, নাকি অন্য কোনো স্থানে তাদের মৃত্যু হওয়ার পর মরদেহ এনে ময়লার স্তূপে ফেলে দেওয়া হয়েছে—এখনও তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাতে নতুন বাজার এলাকার ময়লা পরিষ্কারের কাজ করছিলেন সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা। ফরেস্ট কার্যালয়ের সামনে একটি ময়লার স্তূপ সরানোর সময় হঠাৎ তাঁদের নজরে আসে দুটি নবজাতকের মরদেহ। ঘটনাটি দেখে তাঁরা কাজ থামিয়ে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানান। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
খবর পেয়ে বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে। পরে সেগুলো ময়নাতদন্তের জন্য বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। ময়নাতদন্তের মাধ্যমে নবজাতক দুটির মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আল-মামুন উল ইসলাম বলেন, নবজাতক দুটির পরিচয় শনাক্ত করার পাশাপাশি তাদের মৃত্যুর কারণ জানার চেষ্টা চলছে। মরদেহ দুটি কীভাবে সেখানে এল এবং কারা সেগুলো ময়লার স্তূপে ফেলে গেছে, তা বের করতে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে।
তদন্তের ক্ষেত্রে নবজাতক দুটির পরিচয়, মৃত্যুর সময় ও স্থান এবং মরদেহগুলো কখন ও কীভাবে ওই এলাকায় আনা হয়েছিল—এসব বিষয় গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে ঘটনাস্থলের আশপাশের পরিস্থিতি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সম্পর্কেও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। তবে তদন্তের অগ্রগতি বা ময়নাতদন্তের ফল পাওয়ার আগে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ কিংবা ঘটনার পেছনে কারা রয়েছে, সে বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।
দুই নবজাতকের মরদেহ উদ্ধারের খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ঘটনাটি নিয়ে ক্ষোভ ও হতাশাও প্রকাশ করেছেন অনেকে। স্থানীয় বাসিন্দা রহিমা বেগম বলেন, এভাবে নবজাতককে ফেলে রাখা অত্যন্ত অমানবিক। শিশু দুটির কোনো অপরাধ ছিল না—তাদের সঙ্গে এমন আচরণ কেন করা হলো, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।
নবজাতকের মরদেহ ময়লার স্তূপে ফেলে যাওয়ার ঘটনা শুধু একটি বিচ্ছিন্ন অপরাধের প্রশ্ন নয়, এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা এবং শিশু দুটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনও জরুরি। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার রহস্য বের করে দায়ীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।










