নেপালের ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় নিখোঁজ হওয়া হাজার হাজার মানুষের মধ্যে অন্তত ৩০০ জন ভারতীয় নাগরিক রয়েছেন। নিখোঁজদের বড় একটি অংশ মানসরোবর যাত্রায় অংশ নেওয়া তীর্থযাত্রী বলে জানা গেছে। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল এ তথ্য জানিয়েছেন।
কাঠমান্ডুতে আয়োজিত ‘এনডিটিভি ওয়ার্ল্ড অন্বেষা সামিট’-এ বক্তব্য দেওয়ার সময় নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ভয়াবহ এই দুর্যোগে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৬০ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন আরও বহু মানুষ। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রসুয়া অঞ্চলের একাধিক এলাকা আকস্মিক বন্যার পানিতে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
রসুয়া নেপালের উত্তরাঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্বত্য জেলা। চীনের সীমান্তসংলগ্ন এই অঞ্চল মানসরোবর যাত্রার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ফলে দুর্যোগের সময় সেখানে ভারতীয়সহ বিভিন্ন দেশের পর্যটক ও তীর্থযাত্রীদের উপস্থিতি ছিল। আকস্মিক বন্যার কারণে তাঁদের অনেকের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
শিশির খানাল জানান, নিখোঁজ ভারতীয় নাগরিকদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাঁদের অবস্থান শনাক্ত করতে স্থানীয় প্রশাসনের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো কাজ করছে। বিদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন দেশের দূতাবাসের সঙ্গেও নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, দুর্যোগের পর সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার এখন উদ্ধারকাজ এবং জরুরি ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া। দুর্গত এলাকায় আটকে পড়া মানুষদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া, নিখোঁজদের সন্ধান এবং ক্ষতিগ্রস্তদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
এই দুর্যোগ মোকাবিলায় দ্রুত সহায়তা পাঠানোর জন্য ভারত সরকারের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন শিশির খানাল। নেপালের সঙ্গে ভারতের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ এবং সীমান্তবর্তী অঞ্চলে মানুষের চলাচলের কারণে ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।
পার্বত্য এলাকায় আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের মতো দুর্যোগে যোগাযোগব্যবস্থা দ্রুত ভেঙে পড়তে পারে। অনেক সময় সড়ক ও সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উদ্ধারকারী দল দুর্গম এলাকায় পৌঁছাতেও বাধার মুখে পড়ে। রসুয়া অঞ্চলের বর্তমান পরিস্থিতিতে তাই নিখোঁজদের সন্ধান ও দুর্গত মানুষের কাছে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া নেপালি কর্তৃপক্ষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নিখোঁজ ভারতীয় নাগরিকদের বিষয়ে পরবর্তী সময়ে আরও তথ্য পাওয়া যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তাঁদের পরিচয়, অবস্থান এবং সম্ভাব্য উদ্ধারের বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য না পাওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের ওপরই নির্ভর করতে হচ্ছে।









