জি- লাইভ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ই জুলাই ২০২৬, ৪:৩৮ পিএম

বিশ্বকাপের হতাশা পেছনে ফেলে ক্লাব ফুটবলে ফিরেই আলোচনায় এসেছিলেন নেইমার। সান্তোসের জার্সিতে প্রত্যাবর্তনের প্রথম ম্যাচেই জোড়া গোল করে নিজের সামর্থ্যের ঝলক দেখিয়েছিলেন ব্রাজিলিয়ান তারকা। কিন্তু সেই আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হলো না। পরের ম্যাচেই হলুদ কার্ডের নিষেধাজ্ঞায় পড়েছেন তিনি। ফলে ব্রাজিলিয়ান লিগে সাও পাওলোর বিপক্ষে সান্তোসের পরবর্তী ম্যাচে মাঠে নামতে পারবেন না এই ফরোয়ার্ড।
শাপকোয়েন্সের বিপক্ষে ম্যাচে সান্তোসের হয়ে নেইমার শুরু থেকেই সক্রিয় ছিলেন। প্রথমার্ধে দলটি খুব বেশি ছন্দে না থাকলেও বিরতির আগে গোল করে স্বাগতিকদের এগিয়ে দেন তিনি। সতীর্থ বারিয়ালের সঙ্গে দারুণ বোঝাপড়া গড়ে উঠে আক্রমণ তৈরি হয়, আর সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে বল জালে পাঠান নেইমার।
তবে দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের চিত্র বদলে যায়। শাপকোয়েন্স আক্রমণে গতি বাড়িয়ে পরপর চাপ তৈরি করতে থাকে এবং শেষ পর্যন্ত দুই গোল করে এগিয়ে যায়। পিছিয়ে পড়ার পর সান্তোসও ম্যাচে ফেরার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে। একের পর এক আক্রমণ করলেও সহজে গোলের সুযোগ তৈরি করতে পারছিল না তারা।
ম্যাচের ৮৯ মিনিটে অবশেষে সমতা ফেরানোর সুযোগ আসে সান্তোসের সামনে। ডি-বক্সের ভেতরে ক্যাবায়েরোকে ফাউল করেন শাপকোয়েন্সের ব্রুনো মাতিয়াস সান্তোস। রেফারি পেনাল্টির নির্দেশ দেন। স্পট কিকে কোনো ভুল করেননি নেইমার। ঠান্ডা মাথায় বল জালে পাঠিয়ে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন তিনি এবং সান্তোসকে ২-২ সমতায় ফেরান।
জোড়া গোল করে দলের হার এড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও ম্যাচের শেষটা নেইমারের জন্য স্বস্তির ছিল না। বরং মাঠে তার আচরণ ও প্রতিপক্ষের সঙ্গে উত্তপ্ত পরিস্থিতিই শেষ পর্যন্ত বড় হয়ে দেখা দেয়।
ম্যাচের প্রথমার্ধ থেকেই রেফারির কয়েকটি সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করতে দেখা যায় নেইমারকে। দ্বিতীয়ার্ধে প্রতিপক্ষের খেলোয়াড় ব্রুনো তুবারার সঙ্গে একটি ফাউলকে কেন্দ্র করে তার উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রেফারি দুজনকেই হলুদ কার্ড দেখান।
এই হলুদ কার্ডই নেইমারের জন্য বড় শাস্তি ডেকে এনেছে। ব্রাজিলিয়ান লিগের নিয়ম অনুযায়ী, নির্দিষ্ট সংখ্যক হলুদ কার্ড জমা হলে একজন খেলোয়াড়কে একটি ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ হতে হয়। শাপকোয়েন্সের বিপক্ষে পাওয়া কার্ডটি ছিল চলতি লিগে নেইমারের তৃতীয় টানা ম্যাচে হলুদ কার্ড দেখার ঘটনা। সব মিলিয়ে চলতি মৌসুমে তার হলুদ কার্ডের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ছয়টিতে।
এর আগে হলুদ কার্ডের কারণে এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা ভোগ করেছেন নেইমার। এবার একই কারণে আবারও মাঠের বাইরে থাকতে হচ্ছে তাকে। ফলে সান্তোসের পরবর্তী লিগ ম্যাচে সাও পাওলোর বিপক্ষে দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়কে পাওয়া যাবে না।
নেইমারের জন্য বিষয়টি নিঃসন্দেহে হতাশাজনক। কারণ বিশ্বকাপের পর ক্লাব ফুটবলে ফিরে তিনি ধীরে ধীরে নিজের ছন্দ খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা করছেন। প্রথম ম্যাচেই জোড়া গোল, পরের ম্যাচে আবার জোড়া গোল করে দলের বিপদে পাশে দাঁড়ানো—সব মিলিয়ে মাঠে তার প্রভাব এখনও স্পষ্ট। কিন্তু একই সঙ্গে শৃঙ্খলার বিষয়টিও সামনে এসেছে।
সান্তোসের জন্যও এটি বড় ধাক্কা। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে নেইমারের সৃজনশীলতা, গোল করার ক্ষমতা এবং অভিজ্ঞতা দলের আক্রমণভাগকে বাড়তি শক্তি দেয়। তার অনুপস্থিতিতে পরবর্তী ম্যাচে সেই দায়িত্ব অন্যদের কাঁধে নিতে হবে।
তবে নেইমারের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স থেকে একটি বিষয় পরিষ্কার—শারীরিকভাবে পুরোপুরি ছন্দে ফেরার পাশাপাশি মাঠে ধারাবাহিকতা ধরে রাখাই এখন তার প্রধান লক্ষ্য। গোলের মাধ্যমে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ তিনি দিচ্ছেন, কিন্তু হলুদ কার্ডের কারণে আবারও একটি ম্যাচে বাইরে থাকতে হওয়ায় সেই ধারাবাহিকতায় সাময়িক ছেদ পড়ল।
মন্তব্য