দেশের উত্তর, উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং দক্ষিণাঞ্চলের মোট ১২টি জেলার ওপর দিয়ে আজ সকালের মধ্যে তীব্র বেগে ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। বৈরী আবহাওয়ার কারণে নদী অববাহিকায় সৃষ্ট সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়াতে এসব এলাকার অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোতে ১ নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
আবহাওয়া দপ্তরের দেওয়া বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে দেশের রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেট অঞ্চলে হঠাৎ ক্ষণে ক্ষণে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। একই সাথে এসব এলাকায় প্রবল বজ পাতসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাত হতে পারে।
সাধারণত বর্ষা মৌসুমে জলীয় বাষ্পপূর্ণ বাতাস স্থলভাগে প্রবেশ করে স্থানীয়ভাবে মেঘের সঞ্চারণ ঘটায়। এর ফলে হুট করেই আকাশ মেঘলা হয়ে বিদ্যুৎ চমকানোসহ প্রবল হাওয়া ও বৃষ্টির সূত্রপাত হয়। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গের সীমান্তঘেঁষা এলাকা এবং দেশের পূর্বাঞ্চলীয় জেলাগুলোতে এই ধরনের আবহাওয়া বেশ দেখা যায়। হুট করে ঝড়ের তীব্রতা বাড়লে নদীতে চলাচলকারী ছোট আকারের নৌযানগুলো ঝুঁকিতে পড়ে। সে কারণেই নদীবন্দরগুলোতে ১ নম্বর সতর্কসংকেত জারি করে নৌযানগুলোকে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
১ নম্বর সতর্কসংকেত বহাল থাকা অবস্থায় নদীবন্দরে নোঙর করে রাখা কিংবা চলাচলরত সকল ধরনের ছোট-বড় নৌযানকে সাবধানে চলাচলের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। হঠাৎ করে আবহাওয়া বেশি খারাপ হয়ে গেলে অথবা দৃশ্যমানতা কমে এলে চালকদের তাৎক্ষণিকভাবে নিরাপদ স্থানে বা তীরের কাছাকাছি নৌযান সরিয়ে নিতে বলা হয়েছে।
একই সঙ্গে বজ্রপাতের সময় খোলা মাঠে, উঁচু গাছের নিচে বা জলাশয়ের আশেপাশে অবস্থান না করে সাধারণ মানুষকে কোনো পাকা ভবনের নিচে আশ্রয় নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, এই ধরনের সাময়িক ঝড় ও বৃষ্টিপাত সকালের দিকে বেশি স্থায়ী হলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মেঘ কেটে গিয়ে আবহাওয়া কিছুটা স্বাভাবিক হয়ে আসতে পারে।









