নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ১২ বছর বয়সী এক শিশু শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের চাঞ্চল্যকর অভিযোগে মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ (২৫) নামের এক মাদ্রাসা শিক্ষককে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কদমতলী নয়াপাড়া এলাকায় অবস্থিত ‘তানজিলুল কোরআন প্রি-ক্যাডেট মাদ্রাসা’য় ঘটনাটি ঘটে। অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবকদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা জানায়, গ্রেপ্তারকৃত শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিশু আইন ও নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হচ্ছে।
গ্রেপ্তারকৃত শিক্ষক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ টাঙ্গাইল জেলার নাগরপুর উপজেলার শান্তিনগর এলাকার বাসিন্দা মো. লিটন মিয়ার ছেলে। তিনি গত কয়েক বছর ধরে সিদ্ধিরগঞ্জের উক্ত তানজিলুল কোরআন প্রি-ক্যাডেট মাদ্রাসায় শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং নিয়মিত কোমলমতি শিশুদের ধর্মীয় শিক্ষা প্রদান করতেন। ধর্মীয় শিক্ষার আড়ালে এমন জঘন্য কর্মকাণ্ডের খবর সামনে আসায় পুরো এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ ও ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর স্বজনদের সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাতে মাদ্রাসায় অভিযুক্ত শিক্ষক আব্দুল্লাহ ভুক্তভোগী শিশুটিকে একা পেয়ে অসাধু উদ্দেশ্যে শ্লীলতাহানি শুরু করেন। একপর্যায়ে শিশুটিকে জোরপূর্বক বলাৎকার করা হয়। এই পৈশাচিক ঘটনা ঘটিয়েই ক্ষান্ত হননি ওই শিক্ষক; ঘটনাটি বাইরে কাউকে না জানানোর জন্য শিশুটিকে ভয়াবহ হুমকির মুখে ফেলেন। যদি শিশুটি পরিবারের কারো কাছে বিষয়টি মুখ খোলে, তবে তাকে বেধড়ক মারধর করা হবে এবং প্রাণনাশের হুমকি পর্যন্ত দেওয়া হয়। শিক্ষকের তীব্র ভয়ভীতি ও লোকলজ্জার ভয়ে শিশুটি শুরুতেই ঘটনাটি চেপে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল।
পরদিন বুধবার সকালে নির্যাতিত শিশুটি মারাত্মক শারীরিক অসুস্থতা ও মানসিক যন্ত্রণায় ব্যাকুল হয়ে কান্নায় ভেঙে পড়ে। সন্তানের এই শারীরিক ও মানসিক অবস্থা দেখে মা তাকে বারবার জিজ্ঞাসাবাদ করলে একপর্যায়ে শিশুটি তার ওপর হওয়া অন্যায়ের বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরে। সন্তানের মুখ থেকে এমন নির্মম ঘটনার বিবরণ শুনে হতবাক ও স্তব্ধ হয়ে পড়েন পরিবারের সদস্যরা।
ঘটনাটি মুহূর্তের মধ্যে স্বজনদের থেকে স্থানীয় প্রতিবেশীদের মধ্যে জানাজানি হয়ে যায়। দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে কদমতলী নয়াপাড়া এলাকার বিক্ষুব্ধ জনতা ও অভিভাবকেরা তানজিলুল কোরআন প্রি-ক্যাডেট মাদ্রাসায় গিয়ে হাজির হন এবং অভিযুক্ত শিক্ষককে অবরুদ্ধ করে ফেলেন। পরিস্থিতি থমথমে হয়ে উঠলে সচেতন নাগরিকেরা সঙ্গে সঙ্গে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশকে খবর দেন।
সংবাদ পাওয়া মাত্রই সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। উত্তেজিত জনতার হাত থেকে অভিযুক্ত শিক্ষককে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।
এ বিষয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ এমদাদুল হক জানান, খবর পাওয়ার সাথে সাথে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্তকে আটক করে নিয়ে এসেছে। ভুক্তভোগী শিশুর পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত এজাহার গ্রহণ করা হয়েছে এবং মামলা দায়েরের আইনগত প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। ভুক্তভোগী শিশু শিক্ষার্থীকে চিকিৎসার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ডাক্তারি পরীক্ষার (মেডিকেল টেস্ট) জন্য হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে। তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, এ ধরনের জঘন্য অপরাধের ক্ষেত্রে কোনো প্রকার ছাড় দেওয়া হবে না এবং অপরাধীর সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে পুলিশ আদালতে শক্তিশালী তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেবে।









