জিলাইভ [ GLive ] | truth alone triumphs

হজ-ওমরাহে ভিক্ষা নয়, পাকিস্তানি নাগরিকদের সতর্কতা

সৌদি আরবে হজ ও ওমরাহ পালন করতে গিয়ে ভিক্ষাবৃত্তি, অননুমোদিত অর্থ সংগ্রহ কিংবা ভিসার শর্ত লঙ্ঘন না করতে নাগরিকদের সতর্ক করেছে পাকিস্তান। এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত হলে সৌদি আইনে গ্রেপ্তার, আটক এবং শেষ পর্যন্ত দেশ থেকে বহিষ্কারের মতো কঠোর পরিণতি হতে পারে বলে জানিয়েছে সৌদি আরবে পাকিস্তানি দূতাবাস।

রোববার (১৬ আগস্ট) সৌদি আরবে অবস্থিত পাকিস্তানি দূতাবাস হজ ও ওমরাহ পালন করতে যাওয়া পাকিস্তানি নাগরিকদের উদ্দেশে এ সতর্কবার্তা দেয়। দূতাবাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিতে তৈরি একটি ভিডিও প্রকাশ করে। সেখানে সৌদি আরবের স্থানীয় আইন ও বিধিবিধান মেনে চলার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। ভিডিওতে আইন লঙ্ঘনের পর একজনকে সৌদি কর্তৃপক্ষের হাতে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে যেতে দেখা যায়।

দূতাবাসের বার্তায় বিশেষভাবে ভিক্ষাবৃত্তি ও অনুমতি ছাড়া অর্থ সংগ্রহের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। মক্কা ও মদিনা এবং এর আশপাশের এলাকায় এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সৌদি কর্তৃপক্ষ কঠোর অবস্থান নিয়েছে বলে জানানো হয়। ফলে পাকিস্তানি নাগরিকদের অননুমোদিতভাবে অর্থ সংগ্রহ বা স্থানীয় কোনো সেবা গ্রহণ কিংবা প্রদানের মতো কর্মকাণ্ড থেকেও বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সহায়তার প্রয়োজন হলে অনুমোদিত ও বৈধ পদ্ধতি অনুসরণ করার পরামর্শ দিয়েছে দূতাবাস। ধর্মীয় সফরের সুযোগ নিয়ে রাস্তায় বা জনসমাগমস্থলে ভিক্ষা করা কিংবা মানুষের কাছ থেকে অর্থ চাওয়াকে কোনোভাবেই বৈধ উপার্জনের পথ হিসেবে না দেখার আহ্বানও রয়েছে সতর্কবার্তায়।

ভিসার শর্ত মানার নির্দেশ

ভিক্ষাবৃত্তির পাশাপাশি ভিসাসংক্রান্ত নিয়ম মেনে চলার ওপরও জোর দিয়েছে পাকিস্তানি দূতাবাস। ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পর সৌদি আরবে অবস্থান না করা এবং ভিসার ধরন অনুযায়ী অনুমোদিত কর্মকাণ্ডের বাইরে অন্য কোনো কাজে যুক্ত না হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অর্থাৎ, হজ বা ওমরাহর উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে যাওয়া ব্যক্তিদের সেখানে অবস্থানের সময় নিজেদের ভিসার শর্ত সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে। ধর্মীয় সফরের অনুমতিকে অন্য কোনো ধরনের কাজ বা অর্থ উপার্জনের সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করলে সৌদি আইনের আওতায় পড়ার ঝুঁকি রয়েছে।

ভিক্ষাবৃত্তি নিয়ে পাকিস্তানের পুরোনো উদ্বেগ

সৌদি আরবে পাকিস্তানি নাগরিকদের ভিক্ষাবৃত্তিতে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ নতুন নয়। বিষয়টি নিয়ে পাকিস্তান সরকার আগেও বিভিন্ন সময়ে উদ্যোগ নিয়েছে। হজে যাওয়ার আগে নাগরিকদের ভিক্ষাবৃত্তিতে জড়িত না হওয়ার মুচলেকা নেওয়ার ব্যবস্থাও করা হয়েছিল। কিন্তু এসব পদক্ষেপের পরও কিছু পাকিস্তানি নাগরিক সৌদি আরবে গিয়ে ভিক্ষাবৃত্তিতে জড়িয়ে পড়ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

সৌদি কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন প্রতিবেদনে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে ভিক্ষাবৃত্তির অভিযোগে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে পাকিস্তানি নাগরিকদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতির কথা উঠে এসেছে। এ পরিস্থিতি নিয়ে সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহবিষয়ক কর্তৃপক্ষ পাকিস্তান সরকারকে একাধিকবার সতর্ক করেছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সংঘবদ্ধ চক্রের অভিযোগ

পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার তদন্তেও ভিক্ষাবৃত্তিকে কেন্দ্র করে সংঘবদ্ধ চক্রের অস্তিত্বের কথা উঠে এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, এসব চক্র আর্থিকভাবে অসচ্ছল মানুষকে হজ বা ওমরাহর ভিসা ও বিমান টিকিটের ব্যবস্থা করে সৌদি আরবে পাঠায়। পরে সেখানে ভিক্ষার মাধ্যমে উপার্জিত অর্থের একটি অংশ তারা নিয়ে নেয়।

এ ধরনের কর্মকাণ্ড শুধু সৌদি আরবের আইন ভঙ্গের ঝুঁকি তৈরি করছে না, বরং ধর্মীয় সফরের উদ্দেশ্য নিয়েও প্রশ্ন তুলছে। একই সঙ্গে বৈধভাবে হজ ও ওমরাহ পালন করতে যাওয়া অন্য পাকিস্তানি নাগরিকদের জন্যও এটি বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করছে।

চক্রগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার অংশ হিসেবে পাকিস্তান সন্দেহভাজন কয়েক হাজার ব্যক্তিকে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে বলে জানানো হয়েছে। এর মাধ্যমে হজ ও ওমরাহর মতো ধর্মীয় সফরের ভিসা ব্যবহার করে ভিক্ষাবৃত্তির উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে লোক পাঠানোর প্রবণতা ঠেকানোর চেষ্টা করছে দেশটি।

পাকিস্তানি নাগরিকদের ভিক্ষাবৃত্তির কারণে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে কারাগারে বন্দির চাপ বাড়ছে বলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে সৌদি আরবে অবস্থানরত পাকিস্তানি নাগরিকদের স্থানীয় আইন সম্পর্কে সচেতন করা এবং ভবিষ্যতে কঠোর আইনি ব্যবস্থা এড়াতে নতুন করে সতর্ক করেছে পাকিস্তানি দূতাবাস।

দূতাবাসের বার্তার মূল কথা হলো—হজ ও ওমরাহ ধর্মীয় ইবাদতের উদ্দেশ্যে পালন করতে হবে, ভিক্ষাবৃত্তি বা অননুমোদিত অর্থ সংগ্রহের জন্য নয়। সৌদি আরবে অবস্থানের পুরো সময় দেশটির আইন, ভিসার শর্ত এবং ধর্মীয় সফরসংক্রান্ত বিধিবিধান মেনে চলার ওপরই জোর দেওয়া হয়েছে।

Tags :

বাংলা ডেস্ক । GLive24.com

সর্বশেষ খবর