জিলাইভ [ GLive ] | truth alone triumphs

দুই উপদেষ্টার বিরুদ্ধে দুর্নীতির তদন্ত দাবি

সদ্য উপদেষ্টা পরিষদের পদ থেকে পদত্যাগ করা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া ও মাহফুজ আলমের বিরুদ্ধে গুরুতর দুর্নীতির অভিযোগ তুলে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে যুব অধিকার পরিষদ। বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) সকালে রাজধানীর পল্টনের একটি কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটি অভিযোগ তুলে বলে, দুজন সাবেক উপদেষ্টার বিরুদ্ধে উত্থাপিত প্রশ্নগুলোর কোনও সঠিক ব্যাখ্যা এখনও পাওয়া যায়নি। বরং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অভিযোগগুলো আরও ঘনীভূত হচ্ছে, যা জনমনে শঙ্কা ও ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে।

সংবাদ সম্মেলনে যুব অধিকার পরিষদের সভাপতি মনজুর মোরশেদ মামুন বলেন, “দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে দুদক এখনো কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। এমন পরিস্থিতিতে যদি এ দুজনকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়, তাহলে এটি দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেওয়ার সমান হবে। প্রয়োজন হলে আমরা দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ঘেরাও কর্মসূচি দিতে বাধ্য হব।” তার দাবি, অভিযোগগুলো এড়িয়ে গেলে নির্বাচন ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের ওপর জনগণের আস্থা আরও দুর্বল হয়ে পড়বে।

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে মাহফুজ আলমের পিএস ও এপিএসরা ক্ষমতার অপব্যবহার করে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। শুধু তাই নয়, উপদেষ্টাদের পরিবারের সদস্যরাও তাদের প্রভাব খাটিয়ে অবৈধভাবে সম্পদ অর্জন করেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। এসব অভিযোগের স্বচ্ছ তদন্ত ছাড়া সত্য উদঘাটন সম্ভব নয় বলেই উল্লেখ করেন তিনি।

এদিকে একই দিনে দুদকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ‘ছাত্র-জনতা’ ব্যানারে আরেকটি প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বক্তারা গত ১৭ মাসে সংশ্লিষ্ট দুই উপদেষ্টার অধীনে থাকা মন্ত্রণালয়গুলোতে সংঘটিত অভিযোগিত দুর্নীতির বিস্তারিত চিত্র প্রকাশের দাবি জানান। তাদের অভিযোগ, বিভিন্ন প্রকল্প অনুমোদন, টেন্ডার প্রক্রিয়া ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অশেষ অভিযোগ রয়েছে, যার সঠিক তদন্ত প্রয়োজন।

সমাবেশে বক্তারা আরও অভিযোগ করেন যে, ব্যক্তিগত সহকারীদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠলেও দুদক এখন পর্যন্ত নীরব রয়েছে। তাদের ভাষ্যমতে, এই নীরবতা দুদকের অক্ষমতা বা অনীহাকেই সামনে আনে, যা জনস্বার্থের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। তারা বলেন, “দুর্নীতির দায়ে এই দুই উপদেষ্টা ইতোমধ্যে তাদের নৈতিক ও প্রার্থিতার যোগ্যতা হারিয়েছেন। তাই নির্বাচন কমিশন ও অন্তর্বর্তী সরকারকে অনুরোধ করছি—যাতে তারা নির্বাচনে অংশ নিতে না পারেন।”

বক্তারা আরও দাবি করেন, বর্তমান দুদক সরকারের ছায়াতলে থেকে কাজ করায় স্বাধীনভাবে তদন্ত ও দুর্নীতি দমন কার্যক্রম পরিচালনা করতে ব্যর্থ হচ্ছে। এই পরিস্থিতি পরিবর্তন করা না গেলে রাষ্ট্রীয় সুশাসন ও স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠা অসম্ভব বলে মন্তব্য করেন তারা।

সংগঠনগুলোর সম্মিলিত দাবি—দুর্নীতির বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতার নীতি বাস্তবায়নে অবিলম্বে কার্যকর ও নিরপেক্ষ তদন্ত শুরু করতে হবে এবং দায়ীদের কঠোর জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।

Tags :

Jim

Recent News