বাংলাদেশের ইতিহাসের আরেকটি কলঙ্কময় দিন হলো ২১ আগস্ট। মৃত্যু, ধ্বংস আর রক্তস্রোতের সেই ভয়াল ও বিভীষিকাময় স্মৃতি আজও আমাদের তাড়িয়ে বেড়ায়। ২০০৪ সালের এই দিনে সভ্যজগতের অকল্পনীয় এক নারকীয় হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছিল বাংলা ও বাঙালি। সেদিন বিকেল ৫টা ২৫ মিনিটে বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনের জনসভা প্রাঙ্গণ মুহূর্তের মধ্যে পরিণত হয়েছিল এক বিভীষিকাময় মৃত্যুপুরীতে।
শোকাবহ আগস্ট মাসেই আরেকটি ১৫ আগস্ট ঘটানোর লক্ষ্য নিয়ে ঘাতক হায়েনার দল বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের সমাবেশে গ্রেনেড হামলা চালায়। তাদের মূল টার্গেট ছিল এক ও অভিন্ন—জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগকে সম্পূর্ণ নেতৃত্বশূন্য করা এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে চিরতরে ধ্বংস করা। এর মাধ্যমে জাতির সামনে আবারও স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তির একাত্তরের পরাজয়ের সেই ক্ষোভ ও প্রতিশোধস্পৃহা।
তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলেই খোদ রাজধানীতে প্রকাশ্যে যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহৃত মারণাস্ত্র গ্রেনেড দিয়ে এই ভয়াল হামলা চালানো হয়। পরবর্তীতে তদন্তের মাধ্যমে জাতির সামনে এটি স্পষ্ট হয়ে গেছে যে, সেই সরকারের মন্ত্রী থেকে শুরু করে প্রভাবশালী অনেকেই এই নারকীয় হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিল।
গ্রেনেডের হিংস্র ও দানবীয় সন্ত্রাস সেদিন মানবতাকে ক্ষতবিক্ষত করেছিল। আইভী রহমানসহ ২৪ জন নেতাকর্মীর মর্মান্তিক প্রাণহানির মধ্য দিয়ে সেদিন রচিত হয়েছিল এক শোকাবহ অধ্যায়। এই কলঙ্কময় দিনের সাক্ষী আমি নিজেও; আমার নিজের চোখের সামনেই সেদিন ঘটেছিল এই ভয়াবহ দানবীয় হত্যাযজ্ঞ। সেই নৃশংস হামলার ক্ষত আজও বয়ে বেড়াচ্ছেন অনেকে। হামলায় আহতদের মধ্যে বহু নেতাকর্মী এখনও তাদের শরীরে গ্রেনেডের স্পিন্টার নিয়ে দুঃসহ জীবনযাপন করছেন।
২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় নিহত সকল শহীদের প্রতি জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা।
২১ আগস্ট | ২০২৬
এস এম কামরুজ্জামান সাগর
নাট্য নির্মাতা ও কলামিস্ট









