নেত্রকোনার আটপাড়া উপজেলায় বজ্রপাতে আল মামুন (১৮) নামে এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (২১ আগস্ট) সকাল পৌনে ৯টার দিকে উপজেলার লুনেশ্বর ইউনিয়নের মল্লিকনগর গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে সময় কাটানোর মধ্যেই আকস্মিক বজ্রপাত কেড়ে নেয় তরুণ এই শিক্ষার্থীর প্রাণ।
আল মামুন মল্লিকনগর গ্রামের আল আমিনের ছেলে। তিনি সদ্য অনুষ্ঠিত উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর বাড়িতেই ছিলেন তিনি। অবসর সময়ে পরিবারের কাজে সহযোগিতা করতেন এবং গবাদিপশুর দেখাশোনার দায়িত্বও নিতেন।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকাল থেকেই ওই এলাকায় গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছিল। বৃষ্টি উপেক্ষা করেই গরুর জন্য ঘাস কাটতে বাড়ির সামনের জমিতে যান মামুন। এ সময় আকাশ মেঘাচ্ছন্ন ছিল। কিছুক্ষণ পর হঠাৎ বজ্রপাত হলে তিনি ঘটনাস্থলেই গুরুতরভাবে আক্রান্ত হন এবং সেখানেই মারা যান।
ঘটনার আকস্মিকতায় পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সদ্য উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা শেষ করা এক তরুণের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে স্বজনেরা গভীরভাবে ভেঙে পড়েছেন। স্থানীয়দের ভাষ্য, বৃষ্টির সময় মাঠে কাজ করার ক্ষেত্রে বজ্রপাতের ঝুঁকি সম্পর্কে আরও সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
আটপাড়া থানার উপপরিদর্শক মো. ইদ্রিস মৃতের পরিবারের বরাত দিয়ে ঘটনার বিষয়টি জানান। তিনি বলেন, সকালে গরুর জন্য ঘাস কাটতে গিয়ে বজ্রপাতের শিকার হন মামুন। আটপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জোবায়দুল ইসলামও ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে।
নেত্রকোনা জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান জানিয়েছেন, বজ্রপাতে নিহত শিক্ষার্থীর দাফন-কাফনের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে তার পরিবারকে তাৎক্ষণিকভাবে ২০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।
বর্ষাকালে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বজ্রপাতের ঘটনা প্রায়ই ঘটে। বিশেষ করে খোলা মাঠ, জলাশয় বা গাছপালাবিহীন স্থানে বৃষ্টির মধ্যে অবস্থান করলে ঝুঁকি বাড়তে পারে। আবহাওয়া খারাপ হলে মাঠে কাজ বন্ধ রাখা, নিরাপদ ঘরের ভেতরে আশ্রয় নেওয়া এবং বজ্রপাতের সময় খোলা জায়গা এড়িয়ে চলাকে বিশেষজ্ঞরা গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা হিসেবে বিবেচনা করেন। মামুনের এই মৃত্যু আবারও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় নিরাপত্তা সচেতনতার প্রয়োজনীয়তাকে সামনে নিয়ে এসেছে।









