জিলাইভ [ GLive ] | truth alone triumphs

অটোরিকশা ছিনতাইয়ে চালক নিহত, ছেলের শোকে মায়েরও মৃত্যু

গাজীপুরের কাপাসিয়ায় অটোরিকশা ছিনতাইয়ের সময় আতা মিয়া (৬০) নামে এক চালককে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তাঁর মরদেহ উদ্ধারের পর পরিবারের কাছে মৃত্যুর খবর পৌঁছালে শোকাহত হয়ে পড়েন স্বজনরা। একমাত্র সন্তানের মৃত্যুর সংবাদ সহ্য করতে না পেরে তাঁর ৭৫ বছর বয়সী মা জহুরা খাতুন অসুস্থ হয়ে মারা যান বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। একই ঘটনায় মা ও ছেলের মৃত্যুতে এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর কাপাসিয়া উপজেলার সনমানিয়া ইউনিয়নের মির্জানগর শিমুলতলী এলাকার একটি নির্জন মেঠোপথ থেকে আতা মিয়ার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই এলাকায় লোকজনের চলাচল তুলনামূলক কম থাকায় ঘটনাটি কিছু সময় পর স্থানীয়দের নজরে আসে। পরে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বরে খবর দেওয়া হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আতা মিয়া কাপাসিয়া উপজেলার ঘাগটিয়া চালার বাটনা গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। বয়স প্রায় ৬০ বছর হলেও পরিবারের আর্থিক সংকটের কারণে তাঁকে অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতে হতো। বয়সের ভারে শরীর দুর্বল হয়ে এলেও সংসারের প্রয়োজন মেটাতে নিয়মিত কাজ করতেন তিনি। বৃহস্পতিবারও অটোরিকশা নিয়ে বের হওয়ার পর আর বাড়ি ফিরতে পারেননি।

জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ খবর পাওয়ার পর আড়াল বাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সদস্যরা মির্জানগর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশের শিমুলতলী সড়কের নির্জন এলাকায় যান। সেখানে সড়কের পাশে এক বৃদ্ধের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চালিয়ে পুলিশ জানতে পারে, নিহত ব্যক্তি আতা মিয়া।

আড়াল বাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক শফিকুল ইসলাম জানান, আতা মিয়ার মাথায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ঘটনাটি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। মরদেহ উদ্ধারের পর হত্যার ধরন ও ঘটনার পেছনে কী কারণ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এদিকে আতা মিয়ার মৃত্যুর খবর তাঁর বাড়িতে পৌঁছানোর পর স্বজনদের মধ্যে কান্নার রোল পড়ে যায়। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, একমাত্র সন্তানের মৃত্যুসংবাদ শুনে তাঁর মা জহুরা খাতুন শোকে ভেঙে পড়েন। কিছু সময়ের মধ্যেই তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে এবং পরে তিনি মারা যান। ফলে স্বজনদের কাছে একদিকে আতা মিয়ার আকস্মিক মৃত্যু, অন্যদিকে মায়ের মৃত্যুর ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও হৃদয়বিদারক করে তুলেছে।

কাপাসিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড বলে মনে হচ্ছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।

পুলিশ একই সঙ্গে ছিনতাই হওয়া অটোরিকশাটি উদ্ধারের চেষ্টা করছে। ঘটনার আগে ও পরে আতা মিয়ার চলাচল, তাঁর সঙ্গে কারও যোগাযোগ হয়েছিল কি না এবং নির্জন ওই এলাকায় কীভাবে তিনি পৌঁছালেন—এসব বিষয়ও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে। পাশাপাশি সম্ভাব্য প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের কাছ থেকেও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত, অটোরিকশাটি কোথায় রয়েছে এবং হত্যার পেছনে ছিনতাই ছাড়া অন্য কোনো কারণ ছিল কি না, তা তদন্ত শেষে পরিষ্কার হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে দ্রুত ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে।

Tags :

বাংলা ডেস্ক । GLive24.com

সর্বশেষ খবর