খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ই মে ২০২৬, ১২:৩৬ পিএম

দেশের সর্ববৃহৎ রাষ্ট্রায়ত্ত গ্যাস বিতরণ প্রতিষ্ঠান তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানিকে প্রশাসনিকভাবে তিনটি জোনে ভাগ করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। দীর্ঘদিন ধরে নিম্নচাপ, অবৈধ সংযোগ, পাইপলাইনের লিকেজ, সিস্টেম লস ও গ্রাহকসেবায় ধীরগতির কারণে প্রতিষ্ঠানটি ব্যাপক চাপের মধ্যে রয়েছে। রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের প্রায় ২৮ লাখ গ্রাহকের সেবা একক কাঠামোয় পরিচালনা করা কার্যত জটিল হয়ে পড়ায় বিকেন্দ্রীকরণের সিদ্ধান্ত সামনে এসেছে।
জ্বালানি মন্ত্রণালয় গঠিত একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি তিতাসকে তিনটি প্রশাসনিক অঞ্চলে বিভক্ত করার সুপারিশ করেছে, যা পেট্রোবাংলায় পাঠানো হয়েছে বাস্তবায়নের জন্য। তবে বাস্তবায়নের ধীরগতিতে জ্বালানি সচিব ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বলে জানা যায়। পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যানের ভাষ্য অনুযায়ী, নির্দেশনা বাস্তবায়নে কাজ চলমান রয়েছে।
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| মোট গ্রাহক সংখ্যা | প্রায় ২৮ লাখ |
| বাজার নিয়ন্ত্রণ | জাতীয় গ্যাস বিতরণের প্রায় ৫৫% |
| সিস্টেম লস (২০২৩-২৪) | ৭.৬৭% |
| সিস্টেম লসের আর্থিক ক্ষতি | প্রায় ২,৯৪৫ কোটি টাকা |
| কোম্পানির লোকসান | প্রায় ৭৪৪ কোটি টাকা |
| নতুন সংযোগ আবেদন | ৭০০টির বেশি |
| লোড বৃদ্ধির আবেদন | প্রায় ৩০০টি |
| পূর্বে নিষ্পত্তিকৃত আবেদন | ২৫টি (আগে থেকেই অনুমোদিত) |
তিতাস গ্যাস রাজধানী ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, ময়মনসিংহ, মুন্সীগঞ্জ, নরসিংদীসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় শিল্প, বিদ্যুৎকেন্দ্র, সিএনজি স্টেশন, সারকারখানা ও আবাসিক গ্রাহকদের গ্যাস সরবরাহ করে থাকে। বিশাল এই নেটওয়ার্ক একক কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাপনায় পরিচালনা করতে গিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হচ্ছে।
বর্তমানে প্রতিটি ছোট সিদ্ধান্তের জন্য প্রধান কার্যালয় কারওয়ানবাজারে ফাইল প্রক্রিয়াকরণ করতে হয়, ফলে গ্রাহকসেবা বিলম্বিত হচ্ছে। শিল্পাঞ্চলগুলোতে গ্যাসের নিম্নচাপের কারণে অনেক কারখানা দিনের বড় অংশ বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছে। আবাসিক এলাকায় সকাল ও সন্ধ্যায় রান্নার গ্যাস সংকট নিয়মিত সমস্যায় পরিণত হয়েছে।
অবৈধ সংযোগও একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। পাশাপাশি পাইপলাইনের লিকেজ ও সিস্টেম লস প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক অবস্থাকে দুর্বল করে তুলছে।
এর আগে ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর (ডিএমডি) পদ তৈরি করে তিন অঞ্চলে বিভাজনের চেষ্টা করা হলেও প্রশাসনিক ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ না হওয়ায় কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যায়নি।
নতুন প্রস্তাবিত কাঠামোয় প্রতিটি জোনে আলাদা প্রকৌশল, গ্রাহকসেবা, বিতরণ ও মনিটরিং ইউনিট রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে মাঠপর্যায়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও তদারকি বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
তবে জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু প্রশাসনিক বিভাজন নয়, প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি, স্মার্ট মিটারিং, ডিজিটাল ম্যাপিং, দক্ষ জনবল ও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ ছাড়া স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। বিশেষ করে সিস্টেম লস নিয়ন্ত্রণে না এলে আর্থিক চাপ অব্যাহত থাকবে।
বর্তমান বাস্তবতায় তিতাসে বিপুল সংখ্যক আবেদন জমা পড়ে আছে, যেখানে নতুন সংযোগ ও লোড বৃদ্ধির বিষয়গুলো দীর্ঘদিন ধরে নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে।
মন্তব্য