নরসিংদীর পলাশে চাচিকে একাধিকবার জোরপূর্বক ধর্ষণ এবং এর ফলে সন্তান জন্মদানের অভিযোগে করা মামলায় অপূর্ব চন্দ্র দাস (২০) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তিনি মামলার প্রধান আসামি। গ্রেফতারের পর আদালতে পাঠানো হলে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে তদন্তকারী সংস্থা।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাতে দেওয়া এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে পিবিআই নরসিংদী এ তথ্য জানায়। এর আগে রোববার বিকেলে পলাশ উপজেলার গাবতলী পণ্ডিতপাড়া এলাকা থেকে অপূর্বকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি ওই এলাকার নীল চন্দ্র দাসের ছেলে।
মামলার এজাহার ও তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, ভুক্তভোগী নারীর স্বামী দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসে কর্মরত। স্বামী দেশের বাইরে থাকার সুযোগে অপূর্ব ওই নারীকে তাঁর নিজ বসতঘরে নিয়ে একাধিকবার জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। একপর্যায়ে ওই নারী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন।
চলতি বছরের ১৭ এপ্রিল তিনি একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেন। সন্তান জন্মের পর শিশুটির পিতৃপরিচয় নিয়ে পরিবার ও সামাজিক পরিসরে জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় বলে মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে নিজের ও নবজাতক সন্তানের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে ওই নারী আইনি সহায়তা নেন এবং আদালতে মামলা করেন।
মামলাটি আমলে নেওয়ার পর পিবিআই নরসিংদী ছায়া তদন্ত শুরু করে। তদন্তের অংশ হিসেবে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি প্রযুক্তিগত সহায়তা ও নিজস্ব গোয়েন্দা তথ্য ব্যবহার করে আসামির অবস্থান শনাক্ত করার চেষ্টা চালানো হয়। পরে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে পিবিআইয়ের একটি দল গাবতলী পণ্ডিতপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে অপূর্বকে গ্রেফতার করে।
পিবিআইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেফতারের পর অপূর্বকে আদালতে হাজির করা হয়। সেখানে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। তবে মামলার অভিযোগ, জবানবন্দি এবং অন্যান্য আলামত যাচাই করে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ সত্যতা নির্ধারণের কাজ এখনো তদন্তাধীন।
এ ধরনের মামলায় ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা, নবজাতকের সুরক্ষা এবং সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য যাচাই করে আইনগত প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে অভিযোগের প্রতিটি দিক প্রমাণ ও সাক্ষ্যের ভিত্তিতে যাচাই করা হবে বলে জানিয়েছে তদন্তকারী সংস্থা। মামলাটির পূর্ণাঙ্গ তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।








