,

চুরির অভিযোগে শিশুকে খুঁটিতে বেঁধে নির্যাতন, ভিডিও ছড়াল

টাঙ্গাইলের মধুপুরে চুরির অভিযোগ তুলে জিহাদ নামের আট বছরের এক শিশুকে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। রোববার রাতে উপজেলার বেরিবাইদ ইউনিয়নের গুবোদিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নির্যাতনের দৃশ্য ধারণ করা একটি ভিডিও পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।

জানা গেছে, জিহাদ স্থানীয় একটি স্কুলের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী। বাবা-মা তাকে ছেড়ে চলে যাওয়ার পর থেকে সে নানা-নানির কাছে থাকছে। পরিবারের এমন পরিস্থিতিতে শিশুটির দেখভালের দায়িত্বও মূলত তার নানা-নানিই পালন করছেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, রোববার রাতে জিহাদ মফেজ উদ্দিন (৬০) নামের এক ব্যক্তির দোকানে যায়। পরে দোকান থেকে টাকা চুরির অভিযোগ তোলা হয় তার বিরুদ্ধে। অভিযোগের পর শিশুটিকে প্রকাশ্যে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তাকে একটি খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রেখে নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

ঘটনার খবর পেয়ে শিশুটির নানা ঘটনাস্থলে যান। স্থানীয় কয়েকজনের সহায়তায় তিনি জিহাদকে সেখান থেকে উদ্ধার করেন। পরে তাকে মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। হাসপাতাল সূত্রে শিশুটির বর্তমান শারীরিক অবস্থার বিস্তারিত তথ্য জানা যায়নি; তবে সে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

এদিকে নির্যাতনের সময় ধারণ করা ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে শিশুটিকে বেঁধে রাখার এবং নির্যাতনের দৃশ্য দেখা যায় বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর শিশুটির ওপর এমন আচরণের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

শিশুর বিরুদ্ধে কোনো চুরির অভিযোগ থাকলেও তাকে আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে মারধর বা নির্যাতন করার সুযোগ নেই। বিশেষ করে একজন আট বছরের শিশুকে প্রকাশ্যে বেঁধে রেখে শারীরিকভাবে নির্যাতনের অভিযোগটি আইনগতভাবে তদন্তের বিষয়। শিশুটির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি নির্ধারণ তদন্তের মাধ্যমেই হওয়ার কথা।

ঘটনার পর সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাতে শিশুটির নানা মফিজুল ইসলাম বাদী হয়ে মধুপুর থানায় মামলা করেন। মামলায় মফেজ উদ্দিনকে আসামি করা হয়েছে।

মধুপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ কে এম ফজলুল হক জানান, শিশুটিকে নির্যাতনের ঘটনায় তার নানা বাদী হয়ে মামলা করেছেন। মামলাটি তদন্ত করে আসামির বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পুলিশ এখন ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো খতিয়ে দেখবে। শিশুটিকে কীভাবে নির্যাতন করা হয়েছে, ঘটনার সময় সেখানে কারা উপস্থিত ছিলেন এবং চুরির অভিযোগের প্রকৃত ভিত্তি কী ছিল—এসব বিষয় তদন্তে উঠে আসতে পারে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটিও তদন্তের অংশ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

শিশুর সুরক্ষা নিয়ে দেশে আইনগত কাঠামো থাকলেও স্থানীয় পর্যায়ে এমন ঘটনার অভিযোগ মাঝেমধ্যে সামনে আসে। কোনো শিশুর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করে আইনগত প্রক্রিয়ায় বিষয়টি নিষ্পত্তি করার কথা। মধুপুরের এই ঘটনাতেও এখন তদন্ত ও আদালতের প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে প্রকৃত ঘটনা ও দায় নির্ধারিত হবে।

Tags :

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

জিলাইভ২৪ বিশ্বব্যাপী বাংলাভাষীদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য অনলাইন নিউজ পোর্টাল; যা রাজনীতি, খেলাধুলা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক সংবাদের সর্বশেষ আপডেট প্রকাশ করে।

© ২০২৬ GLive24। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।