রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক সালাহউদ্দিন আম্মারের দাপ্তরিক খরচের হিসাব নিয়ে তীব্র অসন্তোষ ও প্রশ্ন প্রকাশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ইসলামী ছাত্রশিবির। তাদের স্পষ্ট দাবি, দাপ্তরিক বিভিন্ন খাতের কথা বলে জিএস যে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয়ের কথা বলেছেন, তার সঙ্গে বাস্তব পরিস্থিতির কোনো মিল নেই। একই সঙ্গে সালাহউদ্দিন আম্মার তাদের প্যানেল থেকে নির্বাচিত না হওয়ায় তার এই আর্থিক খরচের কোনো ধরনের দায় সংগঠন বহন করবে না বলে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মোজাহিদ ফয়সাল।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য ও সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে মোজাহিদ ফয়সাল জানান, রাকসু সাধারণ সম্পাদক সালাহউদ্দিন আম্মার দাপ্তরিক খাতে যাতায়াত ও আপ্যায়ন বাবদ মোট ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকার একটি ব্যয় বিবরণী দেখিয়েছেন। কিন্তু ছাত্রশিবিরের মাঠপর্যায়ের মূল্যায়ন এবং হিসাব অনুযায়ী, এত বিশাল অংকের অর্থ এই নির্দিষ্ট খাতে খরচ হওয়া সম্পূর্ণ অবাস্তব। এই ধরনের অস্বাভাবিক হিসাবের মাধ্যমে তিনি মূলত নিজের দাপ্তরিক স্বচ্ছহীনতা ও অনিয়ম ঢাকতে চাইছেন বলে মনে করছেন তারা।
ছাত্রশিবির সভাপতি আরও জানান, তাদের সমর্থিত প্যানেল থেকে রাকসুতে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সঙ্গে বসে সুনির্দিষ্ট দপ্তরের খরচের একটি অভ্যন্তরীণ হিসাব তৈরি করা হয়েছে। সেই হিসাব অনুযায়ী, সংস্কৃতিবিষয়ক, পরিবেশ ও সমাজকল্যাণ, মিডিয়া ও প্রকাশনা, তথ্য ও গবেষণা, মহিলাবিষয়ক এবং সাহিত্য ও বিতর্ক—এই ছয়টি দপ্তর মিলিয়ে সর্বসাকুল্যে প্রায় ৩৬ হাজার টাকা খরচ হওয়ার কথা। বাকি দপ্তরগুলোর ক্ষেত্রেও সর্বোচ্চ ১০ থেকে ২০ হাজার টাকার বেশি ব্যয় হওয়ার কোনো যৌক্তিক কারণ নেই বলে দাবি করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে স্পষ্ট করে বলা হয়, সালাহউদ্দিন আম্মার যেহেতু তাদের সমর্থিত ‘সম্মিলিত শিক্ষার্থী জোট’ প্যানেল থেকে নির্বাচিত হননি, তাই তার ব্যক্তিগত বা দাপ্তরিক কর্মকাণ্ডের কোনো আর্থিক দায় বা জবাবদিহিতার দায়ভার ছাত্রশিবিরের ওপর বর্তায় না।
এর আগে একই দিনে রাকসু নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট তফসিল দ্রুত ঘোষণা করা সহ মোট পাঁচ দফা দাবি আদায়ের লক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে একটি স্মারকলিপি প্রদান করে শাখা ছাত্রশিবির। তাদের অন্যান্য প্রধান দাবির মধ্যে রয়েছে ক্যাম্পাসের সব শিক্ষার্থীর জন্য শতভাগ আবাসন নিশ্চিত করা, নিয়মিতভাবে অনাবাসিক ভাতা চালু করা, একটি আধুনিক ও পূর্ণাঙ্গ মেডিকেল সেন্টার নির্মাণ করা এবং দীর্ঘদিন ধরে নিষ্ক্রিয় থাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সভা কার্যকর করা। ক্যাম্পাসের ছাত্ররাজনীতি ও ছাত্রসংসদের আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে শীর্ষ নেতাদের এমন পাল্টাপাল্টি অবস্থানে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝেও নতুন করে নানা আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।









