সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি তাকে ঘিরে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন গুঞ্জন ও গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে অবশেষে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন জনপ্রিয় ইসলামি বক্তা হাবিবুর রহমান মিছবাহ। তার বিরুদ্ধে একসঙ্গে নয়টি বিয়ে করা এবং পরকীয়ার মতো নানা অভিযোগ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ভাইরাল হওয়ার পর তিনি তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। গত ২২ আগস্ট রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি সুদীর্ঘ পোস্ট দিয়ে তিনি নিজেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ দাবি করেছেন এবং সমগ্র বিষয়টি আল্লাহর দরবারে সমর্পণ করেছেন।
নিজের ফেসবুক পোস্টে ইসলামি বক্তা মিছবাহ বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট বিষয়ে পয়েন্ট আকারে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেছেন। তিনি অত্যন্ত জোরালোভাবে দাবি করেছেন যে, তার বিরুদ্ধে আনা নয়টি বিয়ের সমস্ত তথ্য সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। তার দ্বিতীয় স্ত্রী নাঈমা জান্নাতের পাঠানো আইনি নোটিশের প্রসঙ্গ টেনে তিনি উল্লেখ করেন যে, নাঈমা জান্নাত নিজেকে পঞ্চম স্ত্রী নয়, বরং তার বর্তমান দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে দাবি করেছেন এবং তাদের এই বৈবাহিক সম্পর্কের বৈধ কাবিননামা ও সরকারি রেজিস্ট্রিও রয়েছে।
নাঈমা জান্নাতের সঙ্গে তার সম্পর্কের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, পূর্বের স্ত্রী-সন্তান থাকার বিষয়টি সম্পূর্ণ জেনেশুনেই তিনি তার সংসারে স্ত্রী হিসেবে এসেছিলেন। পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে আনীত পরকীয়ায় লিপ্ত থাকার অভিযোগ এবং কোনো ধরনের যৌতুক দাবি করার অভিযোগও তিনি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় অস্বীকার করেছেন। আইনি লড়াইয়ের মুখোমুখি হওয়ার কথা জানিয়ে তিনি পোস্টে উল্লেখ করেন যে, যেহেতু এ বিষয়ে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে, তাই তিনি আইনগতভাবে এর যথাযথ জবাব দিতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছেন।
সামাজিক মাধ্যমে নিজের পক্ষে পরম বিশ্বাসের কথা প্রকাশ করতে গিয়ে হাবিবুর রহমান মিছবাহ ইসলামের ঐতিহাসিক ‘মুবাহালা’ বা সত্য-মিথ্যার চূড়ান্ত ফয়সালায় অভিশাপের শপথ গ্রহণের প্রসঙ্গ টেনে এনেছেন। তিনি আল্লাহ তাআলাকে সাক্ষী রেখে ঘোষণা করেন যে তার প্রতিটি বক্তব্য শতভাগ সত্য এবং তার বিরুদ্ধে প্রচারিত অভিযোগগুলো অসত্য। তিনি আল্লাহ তাআলার কাছে ফয়সালা চেয়ে প্রার্থনা করেছেন যে, তিনি যদি সত্যবাদী হন এবং অভিযোগগুলো যদি মিথ্যা হয়, তবে যেন মিথ্যা প্রচারকারীদের ওপর আল্লাহর গজব বা লানত বর্ষিত হয়। বিপরীতপক্ষে তিনি নিজেও যদি মিথ্যাবাদী হয়ে থাকেন, তবে যেন তার ওপরই আল্লাহর আজাব নেমে আসে—এমন চরম চ্যালেঞ্জও ছুঁড়ে দিয়েছেন তিনি।
যারা এখনও তার বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগকে সত্যি বলে বিশ্বাস করেন কিংবা তার দ্বিতীয় স্ত্রী নাঈমা জান্নাত যদি তার এই বক্তব্যকে অসত্য মনে করেন, তবে তাদেরকেও আল্লাহর সামনে এই মুবাহালায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন মিছবাহ। এই বিষয়ে তিনি আর কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেবেন না বলে পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন। মানহানির উদ্দেশ্যে কেউ ভিত্তিহীন সমালোচনা চালিয়ে গেলে তার হিসাব তারাই বুঝবে বলে উল্লেখ করে তিনি মানুষের বিচার বা ফয়সালার অপেক্ষায় না থেকে সমস্ত বিষয় মহান সৃষ্টিকর্তার হাতে সঁপে দিয়েছেন।









