রাজধানী ঢাকায় অপরাধ ও মাদকবিরোধী নিয়মিত অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় ৫৫৪ জনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ। অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্যের পাশাপাশি মোবাইল ফোন, ব্যাংকের ভিসা ও ক্রেডিট কার্ড, একটি ব্যক্তিগত গাড়ি এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ১৪৬টি সিম কার্ড উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় ৩০টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
শনিবার (২৯ আগস্ট) ঢাকা মহানগর পুলিশের গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মো. আকতার হোসেন এসব তথ্য জানান।
ডিএমপি সূত্রে জানা গেছে, গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রয়েছেন মিরপুর বিভাগে। এই বিভাগ থেকে ১৭৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এরপর ওয়ারী বিভাগে ৮৫ জন, উত্তরা বিভাগে ৬১ জন, তেজগাঁও বিভাগে ৫৬ জন এবং মতিঝিল বিভাগে ৫৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গুলশান বিভাগে ৪৭ জন, লালবাগ বিভাগে ৩২ জন এবং রমনা বিভাগে ৩১ জন গ্রেফতার হয়েছেন।
এ ছাড়া গোয়েন্দা বিভাগ থেকে চারজন এবং অপরাধ তদন্ত ও সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রমে সংশ্লিষ্ট সিটিটিসি বিভাগ থেকে সাতজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এসব গ্রেফতার রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় পরিচালিত পৃথক অভিযানের মাধ্যমে করা হয়।
অভিযানে উদ্ধার করা মাদকদ্রব্যের মধ্যে রয়েছে ৫ হাজার ৪৪৫ পিস ইয়াবা, ৩১ কেজি ২০০ গ্রাম গাঁজা এবং ২০ বোতল ইস্কাফ সিরাপ। মাদকদ্রব্যের পাশাপাশি সন্দেহভাজন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত বা সংশ্লিষ্ট অন্যান্য আলামতও জব্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ২১টি মোবাইল ফোন, বিভিন্ন ব্যাংকের আটটি ভিসা ও ক্রেডিট কার্ড, একটি ব্যক্তিগত গাড়ি এবং বিভিন্ন কোম্পানির ১৪৬টি সিম কার্ড।
ডিএমপির নিয়মিত অভিযানে একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক ব্যক্তিকে গ্রেফতার এবং বিভিন্ন ধরনের আলামত উদ্ধারের ঘটনা রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের চলমান তৎপরতারই অংশ। বিশেষ করে মাদকদ্রব্যের বিস্তার ঠেকাতে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত তল্লাশি ও অভিযান চালানো হচ্ছে। ইয়াবা ও গাঁজার মতো মাদক তরুণদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকায় এসবের সরবরাহ ও বেচাকেনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
উদ্ধার হওয়া বিপুলসংখ্যক সিম কার্ড ও ব্যাংক কার্ডও পুলিশের অভিযানে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। এসব আলামত কোন ধরনের অপরাধে ব্যবহার করা হয়েছে বা এগুলোর সঙ্গে গ্রেফতার ব্যক্তিদের কী ধরনের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে, তা আইনগত প্রক্রিয়ায় যাচাই করা হবে। একইভাবে জব্দ করা মোবাইল ফোন ও গাড়ির ব্যবহার সম্পর্কেও প্রয়োজনীয় তদন্ত করা হতে পারে।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। উদ্ধার করা মাদক ও অন্যান্য আলামতও সংশ্লিষ্ট মামলার তদন্তে উপস্থাপন করা হবে। অভিযানের মাধ্যমে মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের পাশাপাশি রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অপরাধ প্রতিরোধে পুলিশের তৎপরতা অব্যাহত থাকবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
তবে গ্রেফতার হওয়া প্রত্যেক ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে। মামলার তদন্ত ও পরবর্তী আইনগত কার্যক্রমেই নির্ধারিত হবে কে কোন ঘটনায় কীভাবে জড়িত ছিলেন।
বিভাগভিত্তিক গ্রেফতারের চিত্র: রমনা ৩১ জন, লালবাগ ৩২ জন, ওয়ারী ৮৫ জন, মতিঝিল ৫৭ জন, তেজগাঁও ৫৬ জন, মিরপুর ১৭৪ জন, গুলশান ৪৭ জন, উত্তরা ৬১ জন, গোয়েন্দা বিভাগ চারজন এবং সিটিটিসি সাতজন। সব মিলিয়ে মোট গ্রেফতার হয়েছেন ৫৫৪ জন।









