পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলায় একটি মসজিদের নিজ কক্ষ থেকে মো. সায়েম নামে ২০ বছর বয়সী এক মুয়াজ্জিনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) রাতে উপজেলার উত্তর পাঙ্গাসিয়া গ্রামের হাওলাদার বাড়ির বায়তুল মামুন জামে মসজিদ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তরুণ এই মুয়াজ্জিনের মৃত্যু ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা ঘটনাটিকে রহস্যজনক দাবি করে সুষ্ঠু তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন।
নিহত সায়েম পটুয়াখালী সদর উপজেলার লাউকাঠী ইউনিয়নের জামুরা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ওই গ্রামের আব্দুল জব্বার মৃধার ছেলে। জীবিকার কারণে তিনি দুমকির উত্তর পাঙ্গাসিয়া গ্রামের বায়তুল মামুন জামে মসজিদে মুয়াজ্জিনের দায়িত্ব পালন করতেন। মসজিদের পাশের একটি কক্ষেই তার থাকার ব্যবস্থা ছিল।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাতে এশার নামাজের সময় হলে মুসল্লি মো. ইউসুফ হাওলাদার সায়েমকে নামাজের জন্য ডাকতে তার কক্ষে যান। সেখানে গিয়ে তিনি সায়েমকে অস্বাভাবিক অবস্থায় দেখতে পান। বিষয়টি বুঝতে পেরে তিনি অন্য মুসল্লি ও স্থানীয়দের জানান। পরে কক্ষের ভেতরে সিলিং ফ্যানের হুকের সঙ্গে প্লাস্টিকের একটি রশি ঝুলতে দেখা যায়। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সায়েমের গলায় ফাঁসের দাগও ছিল।
ঘটনার খবর পেয়ে দুমকি থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়। পুলিশ কক্ষটি পরিদর্শনের পর মরদেহ উদ্ধার করে। পরে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
সায়েমের পরিবারের সদস্যরা তার মৃত্যু নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। নিহতের ভাই কামাল হোসেনসহ স্বজনদের দাবি, ঘটনাটি সহজভাবে আত্মহত্যা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। কীভাবে এবং কোন পরিস্থিতিতে সায়েমের মৃত্যু হয়েছে, তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বের করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
তবে পুলিশ এখনই ঘটনাটিকে হত্যা বা আত্মহত্যা—কোনোটিই চূড়ান্তভাবে বলছে না। ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি, মরদেহের অবস্থান এবং ময়নাতদন্তের ফলাফলসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণ করা হবে।
দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সেলিম উদ্দিন জানান, মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা, তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও পুলিশের তদন্ত শেষে নিশ্চিত হওয়া যাবে। তদন্ত অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সায়েমের মৃত্যুর ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যেও নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। মৃত্যুর আগে তার আচরণে কোনো পরিবর্তন ছিল কি না, কারও সঙ্গে কোনো বিরোধ বা যোগাযোগ হয়েছিল কি না, কিংবা ঘটনার সময় কক্ষে অন্য কারও উপস্থিতি বা যাতায়াত ছিল কি না—এসব বিষয় তদন্তে খতিয়ে দেখা হতে পারে। একই সঙ্গে ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া আলামতও মৃত্যুর কারণ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
পরিবারের অভিযোগ এবং ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে আরও নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর আগে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বা হত্যাকাণ্ড হিসেবে চূড়ান্তভাবে উল্লেখ করা থেকে বিরত থাকার কথা জানিয়েছে পুলিশ।
মাত্র ২০ বছর বয়সী একজন তরুণের এমন মৃত্যুতে স্বজনদের পাশাপাশি মসজিদ-সংশ্লিষ্ট মুসল্লিদের মধ্যেও শোক ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এখন সায়েমের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ কী ছিল, সেটিই তদন্তের মূল বিষয়। পুলিশের তদন্ত ও ময়নাতদন্তের ফলাফলের ওপরই পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নির্ভর করবে।









