বরুশিয়া ডর্টমুন্ডের মাঠে দারুণ এক জয় দিয়ে নতুন মৌসুমের প্রথম শিরোপা ঘরে তুলেছে বায়ার্ন মিউনিখ। শনিবার রাতে সিগনাল ইদুনা পার্কে স্বাগতিকদের ২-১ গোলে হারিয়ে জার্মান কাপের ট্রফি জিতেছে বাভারিয়ান ক্লাবটি। ম্যাচের শুরু থেকেই নিয়ন্ত্রিত ফুটবল খেলা বায়ার্ন প্রথমার্ধে দুই গোলের লিড নেয়। বিরতির পর ডর্টমুন্ড ঘুরে দাঁড়িয়ে এক গোল শোধ করলেও শেষ পর্যন্ত সমতা ফেরাতে পারেনি।
এই জয়ের মধ্য দিয়ে বায়ার্ন নিজেদের ইতিহাসে ১২তমবারের মতো জার্মান কাপের শিরোপা জয়ের কৃতিত্ব অর্জন করেছে। একই সঙ্গে ২০২৬-২৭ মৌসুমের শুরুতেই ট্রফি জিতে দলটি আত্মবিশ্বাসের বড় বার্তা দিয়েছে।
ম্যাচের শুরুতে দুই দলই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলার চেষ্টা করে। তবে সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বায়ার্নের বল দখল ও আক্রমণ তৈরির দক্ষতা বাড়তে থাকে। ২৮ মিনিটে ডর্টমুন্ডের রক্ষণভাগের ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে বায়ার্নকে এগিয়ে দেন নাথানিয়েল ব্রাউন। বিপজ্জনক জায়গা থেকে বল পরিষ্কার করতে ব্যর্থ হয় ডর্টমুন্ডের খেলোয়াড়েরা। সেই সুযোগে দ্রুত আক্রমণ গড়ে তুলে বল জালে পাঠান ব্রাউন।
গোল হজমের পর ডর্টমুন্ড আক্রমণের গতি বাড়ায়। ৪২ মিনিটে তারা সমতা ফেরানোর কাছাকাছি পৌঁছালেও অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল হয়ে যায়। ফলে স্বাগতিকদের সমতায় ফেরার সুযোগ নষ্ট হয়।
প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে বায়ার্নের ব্যবধান আরও বাড়ান মাইকেল অলিসে। ডর্টমুন্ডের দুই রক্ষণভাগের খেলোয়াড়কে কাটিয়ে অসাধারণ দক্ষতায় বল জালে পাঠান ফরাসি তারকা। বিরতিতে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই মাঠ ছাড়ে বায়ার্ন।
দ্বিতীয়ার্ধে অবশ্য ম্যাচের চিত্র বদলে দেওয়ার চেষ্টা করে ডর্টমুন্ড। নিজেদের মাঠের দর্শকদের সমর্থন কাজে লাগিয়ে একের পর এক আক্রমণ তৈরি করতে থাকে তারা। বায়ার্নের রক্ষণভাগও তখন বেশ চাপের মধ্যে পড়ে যায়। ৭৫ মিনিটে সেই চাপের ফল পায় স্বাগতিকরা। ফ্যাবিও সিলভার গোলে ব্যবধান কমিয়ে ২-১ করে ডর্টমুন্ড।
গোল পাওয়ার পর ডর্টমুন্ডের আত্মবিশ্বাস আরও বেড়ে যায়। শেষ ১৫ মিনিটে তারা সমতা ফেরানোর জন্য ধারাবাহিকভাবে বায়ার্নের রক্ষণে আক্রমণ চালায়। কখনো প্রান্ত দিয়ে, কখনো মাঝমাঠের দ্রুত পাসে সুযোগ তৈরির চেষ্টা করে স্বাগতিকরা। কিন্তু বায়ার্নের রক্ষণভাগ শেষ পর্যন্ত নিজেদের জায়গায় দৃঢ় থাকে। ডর্টমুন্ডের শেষ মুহূর্তের আক্রমণগুলো প্রতিহত করে ২-১ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত করে বায়ার্ন।
ম্যাচটি বিশেষ হয়ে থাকবে মরক্কোর ফুটবলার ইসমাইল সাইবারির জন্যও। গত জুলাইয়ে বায়ার্নে যোগ দেওয়ার পর এদিনই প্রথম কোনো প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে ক্লাবটির হয়ে মাঠে নামেন তিনি। যদিও শুরুতে একাদশে জায়গা পাননি সাইবারি। ৮১তম মিনিটে নাথানিয়েল ব্রাউনের বদলি হিসেবে মাঠে নামেন এই মরক্কোর তারকা। অভিষেক ম্যাচেই দলের হয়ে শিরোপা জয়ের আনন্দ পাওয়ায় তাঁর জন্য রাতটি হয়ে ওঠে স্মরণীয়।
বায়ার্নের নতুন মৌসুমের শুরুটা তাই প্রত্যাশার চেয়েও ভালো হয়েছে। প্রথম ম্যাচেই শিরোপা জয়ের পাশাপাশি দলটি দেখিয়েছে চাপের মুহূর্তে রক্ষণ সামলে ফল ধরে রাখার সক্ষমতাও। বিশেষ করে দ্বিতীয়ার্ধে ডর্টমুন্ডের প্রবল চাপ সামলে জয় নিশ্চিত করা বায়ার্নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ইতিবাচক দিক হয়ে থাকবে।
এবার বায়ার্নের সামনে জার্মান বুন্দেসলিগার শিরোপা ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ। শুক্রবার রাতে স্টুটগার্টের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে তাদের লিগ অভিযান। প্রথম ম্যাচেই ট্রফি জেতার পর ভিনসেন্ট কোম্পানির দলের লক্ষ্য এখন ঘরোয়া ফুটবলে ধারাবাহিকতা বজায় রেখে মৌসুমের পরবর্তী সাফল্য নিশ্চিত করা।









