জিলাইভ বাংলা | সত্যের জয় অবধারিত

নিজ বাসা থেকে নটরডেম কলেজের সাবেক শিক্ষকের মরদেহ দ্ধার

রাজধানীর কলাবাগান এলাকায় নিজ বাসা থেকে নটরডেম কলেজের অবসরপ্রাপ্ত প্রবীণ শিক্ষক ধীরেন্দ্র কুমার রায়ের (৭১) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার সকালে কলাবাগানের গ্রিন রোডের ১৮৮ নম্বর বাসার একটি কক্ষ থেকে ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় তাঁর দেহ উদ্ধার করা হয়। পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, তিনি মানসিক অবসাদগ্রস্ত হয়ে আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন।

পুলিশ ও নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ধীরেন্দ্র কুমার রায়ের স্ত্রী দীপালী রায় পেশায় একজন স্কুলশিক্ষিকা। সোমবার সকালে তিনি স্বাভাবিক নিয়মেই নিজের কর্মস্থলের উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হয়ে যান। সেই সময় তাঁদের প্রাপ্তবয়স্ক মেয়ে ঘরে ঘুমাচ্ছিলেন। সকালের দিকে ঘুম থেকে উঠে তিনি বাবার ঘরে গিয়ে তাঁকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। মেয়েটির আকুল চিৎকারে ভবনের আশপাশের প্রতিবেশীরা দ্রুত ছুটে আসেন।

উপস্থিত সবার সহযোগিতায় তাঁকে উদ্ধার করে তাৎক্ষণিকভাবে নিকটস্থ গ্রিন লাইফ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে সেখানে নিয়ে যাওয়ার পর পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে দায়িত্বরত চিকিৎসক সকাল সোয়া ৯টার দিকে ধীরেন্দ্র কুমার রায়কে মৃত ঘোষণা করেন।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে খবর পাওয়ার পরপরই কলাবাগান থানা পুলিশের একটি দল সকাল সোয়া ১০টার দিকে সেখানে পৌঁছায়। পুলিশ লাশের প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে এবং প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শুরু করে। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কলাবাগান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আতিকুর রহমান জানান, মৃতদেহের শরীরে প্রাথমিক পরীক্ষায় গলার ফাঁসের চিহ্ন ছাড়া অন্য কোনো আঘাত বা সহিংসতার আলামত পাওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন হাতে পেলে মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ শতভাগ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের জিজ্ঞাসাবাদের তথ্য জানিয়ে এসআই আতিকুর রহমান বলেন, ধীরেন্দ্র কুমার রায় দীর্ঘদিন ধরেই বার্ধক্যজনিত নানাবিধ শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন। নিয়মিত চিকিৎসার মধ্যে থাকলেও ২০২৫ সাল থেকে তাঁর এই অসুস্থতার সঙ্গে যোগ হয়েছিল তীব্র মানসিক বিষণ্ণতা। দীর্ঘদিনের অসুস্থতা ও অবসাদের কারণেই তিনি এমন আত্মঘাতী পথ বেছে নিয়েছেন কি না, পুলিশ তা গভীর গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছে।

নিহত ধীরেন্দ্র কুমার রায়ের গ্রামের বাড়ি মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার বনগ্রাম আবাসিক এলাকায়। তাঁর বাবার নাম মৃত শুদ্ধন্য কুমার রায়। দীর্ঘদিন তিনি রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ নটরডেম কলেজে শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত ছিলেন। রসায়ন ও শিক্ষকতার দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি অগণিত শিক্ষার্থীকে পাঠদান করেছেন। শিক্ষকতা জীবন থেকে অবসর নেওয়ার পর তিনি কলাবাগানের এই বাসায় পরিবারের সঙ্গে অবসর সময় কাটাচ্ছিলেন।

একজন গুণী ও শ্রদ্ধাভাজন শিক্ষকের এমন আকস্মিক ও মর্মান্তিক পরিণতিতে তাঁর পরিবার, শুভাকাঙ্ক্ষী এবং হাজারো প্রাক্তন শিক্ষার্থীর মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ বিষয়টির নেপথ্যে অন্য কোনো কারণ বা উসকানি রয়েছে কি না, তা-ও সমানভাবে তদন্ত করে দেখছে।

Tags :

বাংলা ডেস্ক । GLive24.com

সর্বশেষ খবর