জিলাইভ বাংলা | সত্যের জয় অবধারিত

চাকরির লোভে টঙ্গীতে গিয়ে প্রবাস ফেরত যুবক আকাশ খুন

কর্মসংস্থানের প্রলোভন দেখিয়ে বিদেশে একসঙ্গে কাজ করা এক বন্ধুকে ডেকে এনে অপহরণ ও পরে নির্মমভাবে হত্যা করার ঘটনা ঘটেছে গাজীপুরের টঙ্গীতে। নিহত ওই যুবকের নাম আকাশ সরদার (২১)। এই নৃসংশ হত্যাকাণ্ডের প্রধান অভিযুক্ত তাঁরই বন্ধু ও সহকর্মী মাজহারুল ইসলাম মিঠুকে (৩০) গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পরে গ্রেপ্তারকৃত মিঠুর স্বকণ্ঠের স্বীকারোক্তি ও দেখানো স্থান অনুযায়ী টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা ময়দানের একটি নির্জন পরিত্যক্ত ড্রেন থেকে আকাশের গলিত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

নিহত তরুণ আকাশ সরদার ফরিদপুরের কোতোয়ালি থানার চাঁদপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. করিম সরদারের ছেলে। অন্যদিকে গ্রেপ্তার হওয়া আসামি মাজহারুল ইসলাম মিঠু নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার নাজিরপুর গ্রামের তারা মিয়ার ছেলে। পুলিশ ও স্বজনদের সূত্রে জানা যায়, আকাশ ও মিঠুর সম্পর্ক বেশ পুরোনো। তাঁরা দুজনেই পূর্বে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ কম্বোডিয়ায় প্রবাস জীবন কাটিয়েছেন।

ঘটনার নেপথ্য বিবরণ ও মামলার আরজি থেকে জানা যায়, আনুমানিক আড়াই বছর আগে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও এলাকার মো. অপু মিয়া নামে এক দালালের মাধ্যমে জীবিকার তাগিদে কম্বোডিয়ায় পাড়ি জমিয়েছিলেন আকাশ ও মিঠু। সেখানে দীর্ঘদিন একসঙ্গে কাজ করার পর গত তিন মাস আগে তাঁরা দুজনেই দেশে ফিরে আসেন। দেশে ফেরার পর থেকে আকাশ বেকার হয়ে পড়েন এবং উপার্জনের জন্য নতুন কোনো কাজের চেষ্টা করছিলেন। এই সুযোগটিকে কাজে লাগিয়ে মিঠু তাঁকে গাজীপুর এলাকায় একটি ভালো চাকরির আশ্বাস দেন। সেই কথামতো গত ২৭ জুলাই আকাশকে সোনারগাঁওয়ে ডেকে নেওয়া হয় এবং সেখান থেকেই কৌশলে অপহরণ করে টঙ্গীতে আনা হয়।

অপহরণের দিন অর্থাৎ ২৭ জুলাই রাত ৭টার দিকে আকাশের স্ত্রী জেরিনের মোবাইলে হোয়াটসঅ্যাপে একটি অচেনা নম্বর থেকে কল আসে। সুমন নামের এক ব্যক্তি ফোন দিয়ে দাবি করেন যে আকাশকে আটক করে রাখা হয়েছে। এই রহস্যময় ফোনালাপের পর থেকেই আকাশের ব্যবহৃত মুঠোফোনটি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। স্বজনরা সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে এবং বন্ধুদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও আকাশের কোনো সন্ধান পাননি। কোনো উপায় না পেয়ে আকাশের বাবা করিম সরদার বাদী হয়ে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন। মামলায় মাজহারুল ইসলাম মিঠু, মো. অপু মিয়া ও মো. সুমন মিয়াকে এজাহারনামীয় এবং আরও ২-৩ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়।

মামলার তদন্তের সূত্র ধরে র‍্যাব-১-এর একটি চৌকস দল গত ২৩ আগস্ট টঙ্গী পশ্চিম থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে মূল অভিযুক্ত মিঠুকে গ্রেপ্তার করে। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে মিঠু স্বীকার করেন যে আকাশকে আগেই হত্যা করে লাশ ড্রেনে ফেলে দেওয়া হয়েছে।

মিঠুর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার সকালে টঙ্গী বিশ্ব ইজতেমা ময়দানের ২১ নম্বর টয়লেট সংলগ্ন একটি পরিত্যক্ত ড্রেনে অভিযান চালানো হয়। পুলিশ সেখান থেকে আকাশের পচে যাওয়া লাশটি উদ্ধার করে। টঙ্গী পশ্চিম থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. ইয়ানুর রহমান জানিয়েছেন, মরদেহটি সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অপহরণের প্রকৃত উদ্দেশ্য, মুক্তিপণ দাবি নাকি পুরোনো কোনো শত্রুতা ছিল—তা খতিয়ে দেখে অভিযুক্ত চক্রের বাকিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

Tags :

বাংলা ডেস্ক । GLive24.com

সর্বশেষ খবর