চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) মো. আরমান উদ্দিনের বিরুদ্ধে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান দখল ও মালামাল লুটপাটের অভিযোগে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। লোহাগাড়ার পশ্চিম কলাউজান গ্রামের বাসিন্দা ও প্রবাসী ব্যবসায়ী আমির হোসেন বাদী হয়ে চট্টগ্রাম চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট খাদিজা আক্তারের আদালতে লিখিত আরজি দাখিল করেন। রোববার আদালত এটি আমলে নেন এবং সোমবার বিষয়টি চাউর হয়।
মামলায় পিএস আরমান উদ্দিন ছাড়াও লোহাগাড়া সদর এলাকার শওকত আলী, আদিল, আনোয়ার ও জয়নাল আবেদীনসহ আরও কয়েকজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। বিজ্ঞ আদালত আরজি পর্যালোচনা করে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত শেষে দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।
মামলার এজাহার অনুযায়ী জানা যায়, লোহাগাড়ার আজিজ কমপ্লেক্সে প্রবাসী আমির হোসেনের একটি চারতলা ভবন রয়েছে। ভবনটির নিচতলায় একটি স্টিলের আলমারির দোকান রয়েছে এবং অন্যান্য অংশে বসতঘর হিসেবে ভাড়া দেওয়া হয়েছে। আমির হোসেনের অভিযোগ, বেশ কিছুদিন ধরেই আরমান উদ্দিন ও তাঁর ভাই আরিফ উদ্দিনের নেতৃত্বে আসামিরা তাঁর কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। স্থানীয় এলাকায় বাড়ি করে ব্যবসা করতে হলে মোটা অঙ্কের এই টাকা দিতে হবে, অন্যথায় মার্কেট দখল করে নেওয়া হবে বলে তারা খোলাখুলি হুমকি দিতে থাকেন।
ঘটনার বিবরণীতে বলা হয়, গত ৩ এপ্রিল রাত ২টার দিকে আরমান উদ্দিন মোবাইল ফোনে কল করে সরাসরি আমির হোসেনের কাছে সেই ২০ লাখ টাকা দাবি করেন। এজাহারে উল্লেখ রয়েছে, ওই রাতেই আসামিরা দলবল নিয়ে আজিজ কমপ্লেক্সের নিচতলার ভাড়াটিয়া ওবায়দুল হকের আলমারির দোকানে চড়াও হন। তারা দোকানের তালা ভেঙে ভেতরে ঢোকেন এবং ১২টি তিন-পার্টের স্টিলের আলমারি ও ৩টি দুই-পার্টের আলমারিসহ মোট ১১ লাখ ৫৮ হাজার ৬৫৯ টাকা মূল্যের মালামাল লুটে নেন। শুধু তা-ই নয়, দোকানের ক্যাশ বাক্স ভেঙে নগদ ১ লাখ ২০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে। একই সাথে ওই ভবনের অন্যান্য ভাড়াটিয়াদেরও নির্দেশ দেওয়া হয় যে, তারা যেন বাড়ির প্রকৃত মালিকের বদলে আসামিদের কাছেই মাসিক ভাড়ার টাকা জমা দেন।
ঘটনার সময়ে বাদী আমির হোসেন ব্যক্তিগত কাজে প্রবাসে অবস্থান করছিলেন। দেশে ফিরে তিনি পুরো বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসা করার জন্য অভিযুক্তদের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠকের চেষ্টা করেন। কিন্তু কোনো সমাধান তো আসেইনি, বরং গত ২০ আগস্ট আসামিরা পুনরায় ওই ভবনে গিয়ে বাকি টাকা না দেওয়া পর্যন্ত পুরো ভবনের দখল ছাড়বেন না বলে চরম হুংকার দেন।
বিগত দুই বছরে অভিযুক্ত পিএস আরমান উদ্দিনের বিরুদ্ধে একের পর এক গুরুতর বিতর্ক ও অনিয়মের নানা অভিযোগ উঠে এসেছে। এর আগে এক ব্যবসায়ীকে তুলে নিয়ে শারীরিক নির্যাতনের মাধ্যমে অর্থ আদায়, লোহাগাড়ার বিভিন্ন এলাকা থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন, এক যুবলীগ নেতার নামে খাল খননের ডিও লেটার সুপারিশের অভিযোগ, এমনকি সংসদ সদস্যকে এলাকায় না আসার পরামর্শ দেওয়া সংক্রান্ত বিতর্কিত ফোনালাপ এবং স্থানীয় প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আপত্তিকর কল রেকর্ড ফাঁসের ঘটনায় তিনি চট্টগ্রামজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন।
এদিকে সব অভিযোগ অস্বীকার করে আরমান উদ্দিন দাবি করেন, তিনি গত ৭ আগস্ট থেকে পবিত্র ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে রয়েছেন। ফলে ২০ আগস্ট সশরীরে গিয়ে চাঁদা দাবি বা দখলের যে কথা বলা হচ্ছে তা ভিত্তিহীন। তবে গত ৩ এপ্রিলের হুমকি ও লোহাগাড়ার আজিজ কমপ্লেক্সে রাতের আঁধারে লুটপাটের নির্দিষ্ট অভিযোগগুলোর ব্যাপারে তিনি কোনো পরিষ্কার জবাব দেননি। অন্যদিকে সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী জানান, তিনি লোকমুখে মামলার বিষয়ে শুনেছেন। আদালতের আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা হাতে পাওয়া মাত্রই বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।









